জাতীয় | The Daily Ittefaq

ঘন কুয়াশায় বাড়ছে না তাপমাত্রা

ঘন কুয়াশায় বাড়ছে না তাপমাত্রা
ইত্তেফাক ডেস্ক১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং ০৮:৪৬ মিঃ
ঘন কুয়াশায় বাড়ছে না তাপমাত্রা
 
ঘন কুয়াশার কারণে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারছে না। শীতের অনুভূতি কোথায় কোথায় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। শেষ পৌষে প্রায় সারাদিন থাকছে কুয়াশাচ্ছন্ন। দুপুরের দিকে উত্তাপহীন সূর্যের দেখা মিললেও দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে তা ঢেকে যায় কুয়াশার চাদরে। সেই সঙ্গে রয়েছে হিমেল হাওয়া। যা কাঁটার মতো বিঁধছে শরীরে। সন্ধ্যার পরেই বৃদ্ধি পায় এর প্রকোপ। ফাঁকা হয়ে যায় শহরের রাস্তাঘাট। দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কাজে যেতে পারছে না শ্রমজীবী মানুষ। বিদ্যালয়ে কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। কনকনে ঠাণ্ডায় ইরি-বোরে মৌসুমের শুরুতে জমি তৈরির কাজে যেতে পারছে না কৃষক। শীত বস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিচ্ছে ছিন্নমূল মানুষ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক মানুষ ও শিশু। ঘন কুয়াশায় যানবাহন, নৌ-ফেরি ও বিমান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
 
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত পূর্বাভাস কর্মকর্তা গত রাতে বলেন, তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পর যেভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা ছিল সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি। মূলত কুয়াশার কারণে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ছে রাতের তাপমাত্রার ওপর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে প্রায় সারাদিনই কুয়াশা থাকছে। সে কারণে সূর্যের তাপ ভূভাগে পৌঁছতে পারছে না। তাপমাত্রাও বাড়ছে না। স্বাভাবিকের তুলনায় এখন গড় তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কম। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১১ ডিগ্রি ও ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতেই আমরা প্রবল ঠাণ্ডা অনুভব করছি। অন্যদিকে রাজশাহী তাড়াশ ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। সারাদিনই প্রায় সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সেখানে গতকাল সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এ তথ্য-উপাত্ত থেকে সহজেই বোঝা যায় সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। পুরো রংপুর ও রাজশাহী বিভাগজুড়ে একই অবস্থা। তিনি বলেন, পশ্চিমা বাতাসের সঙ্গে মাঝরাতের পর দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশ দিয়ে কুয়াশা দেশে প্রবেশ করছে। তারপর ছড়িয়ে পড়ছে প্রায় সারাদেশে।
 
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অন্য এক কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা বাড়বে। ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কিছু ওপরে যেতে পারে। তবে ১৫ থেকে ১৬ জানুয়ারির পর পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে তাপমাত্রা দেশের কোনো কোনো স্থানে আবার কিছুটা নামবে। ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তবে চলতি মাসের শেষে আরো একটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। তখন তাপমাত্রা বেশ অনেকটাই নেমে যেতে পারে।
 
গতকাল আবহাওয়া বিভাগের দাপ্তরিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাঙ্গামাটি, সীতাকুণ্ড, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, হাতিয়া অঞ্চলও এর আওতায় রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী  চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
 
দিনাজপুর অফিস জানায়, দিনাজপুরে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে বাতাস বইছে। দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে।
 
রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুর অঞ্চলে কমছে না শীতের তীব্রতা। গত দুই সপ্তাহ ধরে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ আর শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। গতকাল সকাল ৮টায় রংপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিনের তুলনায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, জেলার আট উপজেলায় তাদের বিশেষ মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।
 
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, টানা শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা, উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ। গতকাল শুক্রবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা নিম্নগামী হচ্ছে।
 
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো আবাদ মৌসুমে কৃষি শ্রমিক মাঠে যেতে পারছে না। জেলেরা মাছ ধরতে পানিতে নামতে পারছে না।
 
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলের মানুষ। রেহাই পাচ্ছে না পশু-পাখিও। শুক্রবার সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
 
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। দিনভর ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে, সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪