জাতীয় | The Daily Ittefaq

দুই দলেরই টার্গেট নতুন ভোটার

দুই দলেরই টার্গেট নতুন ভোটার
আনোয়ার আলদীন ও মেহেদী হাসান১৪ জুন, ২০১৮ ইং ০৩:১৩ মিঃ
দুই দলেরই টার্গেট নতুন ভোটার
প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অক্টোবরে তফসিল আর ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে চান তারা। ইতিমধ্যে বড় দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপিতে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি লবিংয়ে ব্যস্ত। যদিও বিএনপি এখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে নিশ্চিত করে প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
 
তারপরও অন্তরালে তাদের প্রস্তুতি থেমে নেই। দুই দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, নতুন ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় নিয়ামক হবে। তারাই মূল ফ্যাক্টর। অতীতেও প্রতিটি নির্বাচনে তারাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে মূল ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে নবীন ভোটারদের কাছে টানতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নানা সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহার। প্রচার-প্রচারণায় থাকতে পারে পাল্টাপাল্টি প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা। প্রায় আড়াই কোটি নতুন-তরুণ ভোটারকে পক্ষে রাখতে কৌশল সাজাচ্ছে উভয় দল। ক্ষমতাসীনরা এবার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণদের নানা সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার, প্রণীত হচ্ছে নির্বাচনী কৌশল । নানা প্লাটফর্মে তরুণদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। অপর দিকে, বিএনপিও বসে নেই। তারাও পরিকল্পনা করছে। নতুন ভোটারদের সমর্থন আদায়ে নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলছে তারা। দলটির ইশতেহারে থাকছে নানা প্রতিশ্রুতি, বেকার ভাতা চালু করার অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন আকর্ষণ।
 
বিগত বিভিন্ন সংসদ নির্বাচনের ভোটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন ভোটাররাই মূলত: প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৮ ভোট (বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত ১৫৩ আসন ছাড়া)। জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৭ ভোট। আর নবম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৯ ভোট। আর বিএনপি পেয়েছিল ২ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ১০০ ভোট। আর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ২ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৬ ভোট। সেই হিসাবে নবম থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ২ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৯৯৭ জন নতুন ভোটার ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে যারা যত নতুনদের ভোট টানতে পারবেন আগামীতে তারাই ক্ষমতায় যাবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার জন্য অক্টোবরে হতে পারে তফসিল ঘোষণা। আগামী বছর ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।
 
ভোটার হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচন থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। এ বছরের ৩১ জানুয়ারি সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছর হালনাগাদ ভোটার তালিকায় যোগ হয়েছেন ৪৩ লাখ ২০ হাজার নতুন ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে ১০ বছরে দেশে নবীন ভোটার বেড়েছে দুই কোটি ২৫ লাখের মতো। এদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স এখন ১৮-২৮ বছর। এদের মধ্যে ১ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজারের অধিক ভোটার এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার পেয়েছেন। বাকি তরুণ ভোটাররা দশম জাতীয় সংসদে ভোটাধিকার পেয়েছিলেন।
 
 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন। ২০১৮ সালে এসে তা দাঁড়ায় ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। মোট বেড়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৩ ভোটার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার। সে হিসাবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যোগ হন ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৭ জন নতুন ভোটার। এই নতুন ভোটারদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছর।
 
নতুন ভোটারদের টার্গেট করে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগ
 
তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ফার্স্টটাইম ভোটারদের মন জয় করতে চাচ্ছে দলটি। এজন্য বিগত দু’বারের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী মনোনয়নে তারুণ্যনির্ভর এবং জনপ্রিয়দের বাছাই করছে ক্ষমতাসীনরা। এছাড়া এবার দলের নির্বাচনী ইশতিহারেও তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করার মতো বিষয় থাকবে। তরুণদের জীবনমানের উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব তা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ১৩৬ সদস্যের কমিটি ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এ কমিটির চেয়ারপার্সন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘জীবনে প্রথম ভোটার হলেন’- এমন তরুণদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও সম্প্রতি দলীয় একাধিক বৈঠকে বলেছেন, এবার আমাদের প্রধান টার্গেট তরুণ ও নারী ভোটার। বিশেষ করে ফার্স্টটাইম ভোটার। এজন্য তারুণ্যনির্ভর এবং তরুণদের কাছে জনপ্রিয় ও উইনেবল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, অর্ধশতাধিক তরুণ নেতাও এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে তরুণ মনোনয়ন প্রাত্যাশীরা নতুন ভোটারদের কাছে টানতে কাজ করছেন।
 
জানা গেছে, ‘আওয়ামী লীগ পারে, আওয়ামী লীগই পারবে’ এই মূলমন্ত্রই থাকবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে তরুণদের জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার কী কী করেছে, সেসবের বিবরণ থাকবে। এবার নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের জন্য আলাদা চমক রাখবে ক্ষমতাসীন দলটি।
 
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ ইত্তেফাককে জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, আইসিটি সেক্টরে তরুণদের বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র তুলে ধরা হবে। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমরা তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুনত্ব নিয়ে আসব। কারণ তরুণরাই দেশের ভবিষ্যত্। অপরদিকে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্লাটফরম ইয়াং বাংলার মাধ্যমে দেশের মেধাবী তরুণদের টার্গেট করে বিভিন্ন কাজ করছে। দেয়া হচ্ছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’। এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকায় তরুণদের নাম থাকবে। তবে অতীতের তুলনায় এবার এ সংখ্যা বেশি হবে।
 
বিএনপির ইশতেহারে থাকছে নানা প্রতিশ্রুতি, বেকার ভাতা চালু করার অঙ্গীকার
 
দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকলেও আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করছে। প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নির্বাচনের। বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেই ইশতেহারের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। এর পুরোভাগে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে নতুন ভোটারদের আকর্ষণ করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে। বিএনপি ঘোষিত রূপকল্প ২০৩০’ এর আলোকে এই ইশতেহার হচ্ছে। ইতোমধ্যে দলে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানেও নতুন ভোটারদের টার্গেট করে দলে অন্তর্ভুক্ত করানোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তাদের ভোট পেতে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেও থাকছে নতুন কর্মসংস্থান, বেকার ভাতাসহ নানা প্রতিশ্রুতি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপির মূল টার্গেট নতুন ভোটার। এজন্য ‘ভিশন-২০৩০’-এ তরুণদের বিষয়ে নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা আগামী নির্বাচনের ইশতেহারেও থাকবে। সেখানে বলা হয়েছে, এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা দেয়া হবে। বেকার যুবশক্তিকে উত্পাদনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়োগের জন্য দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের চাহিদার নিরিখে যুবসমাজকে যথাযথভাবে দক্ষ ও সক্ষম করে তুলবে। ‘দলের স্থায়ী কমিটির অপর একজন সদস্য বলেন, তরুণ ভোটরদের আকর্ষণ করার জন্য বিএনপির ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো দলীয়করণ করা হবে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।  
এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬