জাতীয় | The Daily Ittefaq

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে যাত্রী

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে যাত্রী
জামিউল আহসান সিপু১৪ জুন, ২০১৮ ইং ০৪:২২ মিঃ
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে যাত্রী
ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া শুরুর চতুর্থ দিনে ট্রেনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বেশিরভাগ ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। ট্রেনের প্রতিটি বগি কানায়কানায় ভরাতো ছিলই, যাত্রীবোঝাই ছিল ছাদও। এ নিয়ে টিকিট কাটা যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
 
যাত্রীরা বলছেন, অনেক কষ্ট করে ট্রেনের টিকিট কেটেছেন। তারপরও রীতিমত যুদ্ধ করে ট্রেনে চড়তে হয়েছে। বগির ভিতর শুধু করিডরে নয়, সিটের হাতলেও অনেক যাত্রীকে বসতে হয়েছে। ফলে কোন নড়াচড়া ছাড়াই সিটে বসে তাদের ঘরে ফিরতে হচ্ছে।
 
এদিকে, ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে সড়কপথের যাত্রীদের তেমন কোন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। বাস যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে যে আশংকা করা হচ্ছিল, তেমনটা হয়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান হাঁটুপানিতে ডুবে যাওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলোর এক থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্ব হয়। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে বিশেষ করে গাবতলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত কিছুটা যানজটের মুখে পড়লেও অনেকটা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি যেতে পেরেছেন বাসের যাত্রীরা।
 
বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও কল্যাণপুরের বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে গেছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলমুখী বাসের কাউন্টার ব্যবস্থাপকরা জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কে বড় ধরনের কোনো যানজটে পড়তে হয়নি। এই অবস্থা চালু থাকলে এবার ঈদ যাত্রা স্বস্তিরই হবে।
 
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়
 
গতকাল ট্রেনে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন ৪ জুন অগ্রিম টিকেট কেনা যাত্রীরা। এদিন সকালে রাজশাহী, দেওয়ানগঞ্জ, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট ও খুলনার উদ্দেশে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যায়। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৫৯ টি ট্রেন ছেড়ে যায়। বন্ধ রয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ১০টি লোকাল ট্রেন চলাচল।
 
গতকাল সকালে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পর কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ছাড়ার সময় ছিল সকাল পৌনে ৯টায়, তা ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের পৌনে একঘণ্টা পর। লালমনিরহাটের লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন বেলা সোয়া ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। এটি ছাড়ে বেলা ১১টায়। দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ট্রেনও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর ছেড়ে যায়। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। জামালপুরের তারাকান্দি রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়েছে। দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়েছে। নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাড়ার সময় সকাল ৮টায়। তবে ট্রেনটি আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যায়।
 
অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী আলীমুজ্জামান বলেন, ট্রেনের বগির ভেতরের অবস্থা ভালো না। প্রথম শ্রেণির এসি চেয়ার কোচের টিকিট কিনেছি। কিন্তু সিট ভাঙা। আবার কয়েকটি সিট পেছনে কাত হয়ে যায়। সোজা হয়ে বসা যায় না। আবার প্রথম শ্রেণি এসি বগিতে বিনা টিকিটে অর্ধশত যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করেন।
 
ট্রেনের সেবা উন্নত করার কথা বললেও আসলে বাস্তবে তার বিন্দুমাত্র ছাপ নেই বলে উল্লেখ করেন অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের আরেক যাত্রী আব্দুল খালেক।
 
বুধবার আগের চেয়ে ভিড় বেশি হয়েছে বলে জানান কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, কয়েকটি ট্রেন সামান্য দেরি করেছে। তবে ঈদের সময় ১৫-২০ মিনিট দেরি করে যাওয়া বড় কিছু নয়।
 
দুপুর আড়াইটায় কমলাপুর রেলস্টেশনে যান রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। এসময় তিনি চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
পরে রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ৩০টির মতো ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৪৫মিনিট দেরি করেছে। বাকি ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে।
 
ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা উঠছে সাংবাদিকদের এমন তথ্যের ব্যাপারে রেলমন্ত্রী জানান, ছাদে উঠা আইনে নেই। আমরাও সমর্থন করি না। যারা উঠেন, তারা নিজ দায়িত্বে উঠছেন। যারা উঠছেন, তাদের নিবৃত্ত করা হচ্ছে।
 
বাস যাত্রায় স্বস্তি
 
সড়কপথে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ সহনীয় রাখতে গত ৮ জুন থেকে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কের ভাঙাচোরাও মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ‘সংস্কার’ কাজ অনেকে এলাকাতেই ধুয়ে মুছে গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গতকাল দিনভর ধীরগতিতে গাড়ি চলেছে। কোথাও কোথাও যানজটও সৃষ্টি হয়েছে।
 
ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা অংশ সেই তুলনায় নির্বিঘ্ন ছিল। অনেকটা স্বস্তিতেই গাড়ি চলেছে। রংপুরের আগমনী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তফা আজাদ চৌধুরী জানান, স্বাভাবিক সময়ে রংপুর যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। গতকাল লেগেছে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা। ঈদযাত্রায় এক দুই ঘণ্টার বিলম্বকে সহনীয় মনে করেন তিনি। যাত্রীরাও একই কথা বলেছেন। আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরস্তা পর্যন্ত দিনভর যানজট ছিল। সাংবাদিক রমা প্রসাদ জানিয়েছেন, নেত্রেকোনা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চৌরাস্তা পার হতেই তিন ঘণ্টা সময় লাগে। 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬