জাতীয় | The Daily Ittefaq

মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ

মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ
ড. আতিউর রহমান১২ জুলাই, ২০১৮ ইং ১৭:৫২ মিঃ
মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ
শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐদিন যুক্তরাষ্ট্রগামী ৩৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে ১৩ হাজার চীনা রপ্তানি পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা শুরু হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর চাপ ইউরোপ ও কানাডার ওপরও পড়েছে। এর প্রতিবাদে  চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। চীন ১১ জুলাই ১০৬টি মার্কিন পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে গাড়ি, উড়োজাহাজ, সয়াবিন এবং কৃষিপণ্যও রয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর পরপরই আরও একশ’ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা পণ্য চিহ্নিত করার জন্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মার্কিন ইস্পাত, পোশাক ও অন্যান্য শিল্প পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে।
 
চীন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেধাসত্ত্ব চুরি’ করেছে এই অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বাণিজ্য-যুদ্ধ শুরু করেছেন। তাছাড়া চীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সংকুচিত করা হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ রয়েছে। সব মিলে বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষেত্রে এখন টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য-যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়নি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে ‘নাফ্টা’কে গালমন্দ করছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার হুমকি দিচ্ছেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যে ‘টিপিপি’ বাণিজ্য জোট গঠন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র তা থেকে তাকে বের করে এনেছেন— তাতে ভয় হয় সত্যি সত্যি বাণিজ্য-যুদ্ধ না লেগে যায়। দীর্ঘদিনের আলাপ-আলোচনা শেষে বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে উদারীকরণ প্রক্রিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গঠনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এই হুমকি-ধামকির কারণে তা আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল কি না সেই কথাই ভাবছি। তবে চীন যথেষ্ট সংযমের সাথেই এই বাণিজ্য-যুদ্ধের মোকাবেলা করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আপিল করার কথা বলছে। তবে ঐ সংস্থাকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাত্তা দিতে রাজি নন। তাঁর উপদেষ্টারা অবশ্য এর্িশয়ার, বিশেষ করে চীনের, অর্থনৈতিক শক্তির কথা জানেন। তাই এক পর্যায়ে নিশ্চয় তাঁরা তাদের প্রেসিডেন্টকে এই বাণিজ্য-যুদ্ধ থেকে সরে আসতে উত্সাহিত করবেন। দীর্ঘ মেয়াদে এই বাণিজ্য-যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা গভীরতর হবার আশঙ্কা যে উড়িয়ে দেয়া যায় না সে কথা নিশ্চয় তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা বোঝেন। এর ফলে সারাবিশ্বেই কর্মসংস্থান কমে যাবে। মানুষের কল্যাণ ব্যাহত হবে। আর সে কারণেই আশা করা যায় যে এই ‘বাণিজ্য-যুদ্ধ’ হয়তো ‘মহাযুদ্ধে’ রূপান্তরিত হবে না। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এই বাণিজ্য-যুদ্ধে। তারাও নিশ্চয় চুপ করে বসে থাকবেন না। প্রথম পর্যায়ের পর দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হতে চাইলে রিপাবলিকান নেতা ও সমর্থকদের তিনি নিশ্চয় চটাবেন না।
 
‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জুলাই ১০, ২০১৮ সংখ্যায় এই বাকবিতণ্ডা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বাণিজ্য-যুদ্ধে রূপান্তরিত হবে না বলেই জানিয়েছে। পত্রিকাটি এর পেছনে তিনটি কারণের কথা বলেছে :
 
এক. যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারি আইনেই আছে যে এমন করে শুল্ক আরোপ করতে হলে চীন তথা বাণিজ্য-অংশীদারের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। চীনও তার পাল্টা শুল্কারোপ কবে থেকে করবে তা স্পষ্ট করেনি। এ থেকেই মনে হয় হাঁক-ডাক সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত একটা আপস রফা হবে।
 
দুই. আগেই বলা হয়েছে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আপিল করবে। আপিল গৃহীত হলে চীনের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ঐ বিশ্ব সংস্থাতেই থাকতে চাইছে না, তাই কূটনৈতিক এই তত্পরতা কতোটা সফল হয় তাও দেখার বিষয়।
 
তিন. চীন ও ইইউ যেসব পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করতে চাইছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে দারুণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীন বিশ্বের ৬০% সয়াবিন আমদানি করে। আর এর ৪০% আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া এবং অন্যান্য মধ্য-পশ্চিম অঙ্গরাজ্যের কৃষক ও উদ্যোক্তারা (যারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন) তারা বড়ো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে ইউরোপ মার্কিন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর শুল্ক দেয়াল তোলার যে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে চাইছে, তাতে করে রিপাবলিকান নেতা স্পিকার রায়ানের অঙ্গরাজ্য উইনসকনসিন এবং সিনেটের সংখ্যাগুরু নেতা ম্যাককনেলের অঙ্গরাজ্য কেনটাকির ভোটাররা ক্ষেপে যাবে। ইউরোপ অরেঞ্জ জুসের ওপর বাড়তি ২৫% শুল্কারোপ করলে ফ্লোরিডার ভোক্তাদের ক্ষোভ বেড়ে যাবে। তার মানে ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে রিপাবলিকান দলের ভেতরেই ঝড় দানা বাঁধবে।
 
এসব কারণেই বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত হয়তো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য-যুদ্ধের হুমকি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরে আসবেন। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাইলেও এখন আর সস্তায় তাদের ভোগ্যপণ্য তৈরি করতে পারবে না। গ্রাহকরা সস্তায় বিদেশি পণ্য কিনতে পারলে কেন বেশি দামে ‘স্বদেশী পণ্য’ কিনতে যাবেন? এখানেই বাংলাদেশের মতো অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর নয়া সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও ভারত চীনের সয়াবিন বাজারে ঢোকার বাড়তি সুযোগ পেতে পারে। এরই মধ্যে চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল থেকে সয়াবিন কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ওষুধ, সিরামিক, চামড়া রপ্তানির বাজারও ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে। ঐ বাজারে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পণ্য রপ্তানির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে। বিশেষ করে এশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য প্রবেশের দরজা আস্তে আস্তে খুলছে।
 
তবে এসবই সাময়িক সুবিধে। আখেরে, এই বাণিজ্য-যুদ্ধ সারাবিশ্বের জন্যেই খারাপ খবর। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, প্রবৃদ্ধি কমবে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের মতো দেশের রপ্তানির পরিমাণও কমবে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা বেশি দামে আগের মতো আর পণ্য কিনবে না। বেশি দামে কাঁচামাল আমদানি করে মার্কিন উদ্যোক্তারা কিছুতেই কম দামে ভোগ্যপণ্য বিক্রি করতে পারবে না। আর যখন মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকবে, তখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে মনোযোগী হবে। তখন বিদেশে বিনিয়োগ করা মার্কিন পুঁজি নিজের দেশে ফিরে যাবে। ভারতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং সে কারণে ভারতীয় রুপি তার মূল্যমান হারাতে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও বাণিজ্য ঘাটতি (১৭ বিলিয়নের বেশি) গতবছরের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় অঙ্কের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একসময় এই ভারসাম্যে কিন্তু উদ্বৃত্ত ছিল। আজ নয় বিলিয়ন ডলারের চলতি লেনদেন ঘাটতি। এর চাপ টাকার মূল্যমানের ওপর পড়ছে। রিজার্ভ কমছে। ফলে আমদানি করা পণ্যের (যুক্তরাষ্ট্র থেকে যন্ত্রপাতি ও ভোগ্যপণ্যসহ) দাম বাড়ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে শক্ত হাতে বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা না করা গেলে লেনদেনের ভারসাম্য স্থিতিশীল রাখা বেশ মুশকিল হবে। এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়তে বাধ্য। সেজন্যে বাংলাদেশকে দ্রুত তার রপ্তানি বাজারের নয়া উত্স খুঁজে নিতে হবে।
 
ভারত যে পরিমাণ আমদানি করে, তার এক শতাংশ বাংলাদেশ জোগান দিতে পারলে বছরে চার বিলিয়ন ডলার বাড়তি রপ্তানি করতে পারে। চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও বাংলাদেশি পণ্যের যথেষ্ট কদর। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্য-যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি গভীরভাবে অনুধাবন করে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য প্রসারে বাংলাদেশকে উদ্যোগী হতে হবে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এরই মধ্যে তার বাণিজ্যের শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি এশিয়ানির্ভর করে ফেলেছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ অনেক দেশই এশিয়ার গতিময় অর্থনীতির অংশীদার হবার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাহলে বাংলাদেশ কেন ‘ঘরের পাশের আরশিনগরের’ সন্ধান করবে না? তবে আশার কথা বাংলাদেশ বিশেষ বাণিজ্য অঞ্চলসহ বেশ কিছু মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকি করছেন। এখন দরকার আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থ-ব্যবস্থাপনার নিয়ম-নীতি আরও ব্যবসাবান্ধব করা। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের গার্মেন্টস ছাড়াও অন্যান্য শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সফররত সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তাই প্রমাণ করে।
 
সরকার এরই মধ্যে বিদ্যুত্সহ জ্বালানি উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে। সড়ক, রেল ও সেতু উন্নয়নে সরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বন্দরও উন্নত হচ্ছে। আর সে কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে উত্সাহী হয়ে উঠছেন। চলমান এই বাণিজ্য-যুদ্ধের কারণে চীন থেকে অনেক ‘সূর্যাস্ত শিল্প’ বাংলাদেশের দিকে ধাবমান হবে। এসব বিদেশি উদ্যোক্তাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সত্যি সত্যি তাদের ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ দিয়ে বাংলাদেশে আসার পথ সুগম করে দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় মূল্যস্ফীতি কমিয়ে এনে, বিদেশি ঋণের দায় শোধের ঈর্ষণীয় সক্ষমতা অর্জন করে, লেনদেন ভারসাম্য বজায়ের মাধ্যমে টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল রেখে, সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা মজবুত করে ব্যবসা-বাণিজ্যের যে আশাজাগানিয়া পরিবেশ আমরা তৈরি করেছিলাম, তা যেন আমাদেরই অদূরদর্শিতা ও হঠকারিতায় বিনষ্ট না হয়ে যায়। এদিকে নীতিনির্ধারকদের তীক্ষ নজর রাখতে হবে। আর সমকালীন প্রযুক্তি যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে তার পূর্ণ সুযোগ আমাদের উদ্যোক্তাদের নিতে হবে। বিশ্ববাজার আজ খুবই সমন্বিত। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের পণ্যের ই-কমার্স অবকাঠামো দ্রুত বাড়াতে হবে। সেজন্যে অর্থ লেনদেনের নীতিমালারও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। সারাবিশ্বেই আমাদের পণ্যের মার্কেটিং-এর যে সুযোগ সামাজিক মাধ্যম তথা তথ্যপ্রযুক্তি এনে দিয়েছে, তার পূর্ণ ব্যবহার আমাদের করতে হবে।
 
বিশ্ববাণিজ্য বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই ধারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলেও বন্ধ করতে পারবেন না। সে কারণেই আমাদের উদ্যোক্তাদের ‘গ্লোবাল মার্কেটিং’-এর নয়া কৌশল আয়ত্তে আনতে হবে। একই সাথে বৈশ্বিক ভোক্তাদের পরিবেশসম্মত সবুজ পণ্যের চাহিদার দিকে চোখ রেখে আমাদের শিল্পের সবুজায়ন কৌশল আরও জোরদার করতে হবে। আমাদের গার্মেন্টস কারখানাগুলো এরই মধ্যে সবুজ হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এজন্যে বিশেষ ‘সবুজ তহবিল’ তৈরি করেছে। এ ধারা আরও বেগবান করতে সামাজিক, পরিবেশ ও সুশাসন কেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবেলার জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক নীতিমালাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার কোনো বিকল্প নেই। তাই মি. ট্রাম্প যাই করুক না কেন, সারা পৃথিবীর শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে, আরও সামাজিক দায়বোধসম্পন্ন করে টেকসই উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বিশ্ব বাণিজ্য-যুদ্ধ যে বিশ্ব শান্তির অন্তরায় সে কথা বিশ্বায়নের এই যুগে নতুন করে বলার কি আদৌ প্রয়োজন রয়েছে! তাই দ্রুত অগ্রসরমান বাংলাদেশ সবার সাথে উদারনৈতিক মুক্ত বাণিজ্যের দিকেই যে হাঁটবে সে কথা জোর দিয়েই বলা যায়। আর সেটিই কাম্য।
 
লেখক: অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬