জাতীয় | The Daily Ittefaq

কার্লাইলের বিজনেস ভিসা সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না

কার্লাইলের বিজনেস ভিসা সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য একমত নন কার্লাইল
কার্লাইলের বিজনেস ভিসা সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না
বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে নিযুক্ত ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে গত বুধবার রাতে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, কার্লাইলকে বিজনেস ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করতে চাইছিলেন। ভারতীয় ভিসা পদ্ধতি একে সমর্থন করে না। লন্ডন থেকে বিমানে চড়ার আগেই লর্ড কার্লাইলের ভিসা বাতিল করা হয়। 
 
তিনি জানতেন যে, তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হবে। এজন্য তিনি রিটার্ন টিকিট নিয়ে এসেছিলেন। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানান, লর্ড কার্লাইল যে কারণ দেখিয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন- আর তার সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্যের মধ্যে কোনও সামঞ্জস্যতা নেই বলেই তার ভিসা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়। লর্ড কার্লাইল ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন- এমন সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। এমনকি তিনি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধী দলের (বিএনপি) সম্পর্কেও সন্দেহ তৈরি করতে চাইছেন বলে তিনি দাবি করেন। 
 
তিনি জানান, লর্ড কার্লাইল খুব ভাল করেই জানতেন তাকে ফিরে যেতে হবে। সে কারণেই তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানের ‘রিটার্ন বোর্ডিং পাস’ নিয়েই এসেছিলেন।
 
যদিও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ব্রিটিশ আইনসভার প্রবীণ সদস্য লর্ড কার্লাইল। ভারতে ঢুকতে না পেরে লর্ড কার্লাইল লন্ডনে ফিরে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সেখান থেকে একটি ভিডিও কনফারেন্সিং করেন। তিনি দিল্লির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি ভিসা আবেদনে বলেছিলাম একজন আইনজীবী হিসেবে বৈঠকের জন্য ভারত যেতে চাই। আমি কেন ভারত যাব সেটা তারা ভালোভাবেই জানতো। তিনি বলেন, হিথ্রো বিমানবন্দরে তার ভারতীয় ভিসা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অন্তত দুইবার চেক করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। আমি যখন দিল্লিতে নেমে আমার ফোন অন করলাম, দেখি আমার ভিসা বাতিল করা হচ্ছে বলে আমাকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আমাকে জানানো হলো আমাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
 
ভারত সরকারকে রাজি করিয়ে দিল্লিতে ঢোকার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে জন্য লর্ড কার্লাইল দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনারকেও ফোন করেছিলেন। কিন্তু লর্ড কার্লাইলের দাবি অনুযায়ী, তিনিও এ ব্যাপারে তার অসহায়ত্ব ব্যক্ত করেন। পরিষ্কার জানিয়ে দেন ভারতের সিদ্ধান্ত নড়চড় হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লন্ডনগামী ফিরতি বিমানে উঠিয়ে দেওয়া হয়।
 
কার্লাইলের দাবি বাংলাদেশ সরকারের চাপের মুখে ভারত তাকে প্রবেশে অনুমতি দেয়নি। কার্লাইল বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি আমার শ্রদ্ধা শেষ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে তারা যেভাবে নতি স্বীকার করলো এবং সত্তর বছর বয়সী একজন পার্লামেন্টারিয়ানের সঙ্গে যে আচরণ করল তাতে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, কৈফিয়ত দেওয়া উচিত। তিনি লন্ডনে খুব শিগগিরি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানান।
 
ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডসের প্রবীণ সদস্য লর্ড কার্লাইল সম্প্রতি জানান, বাংলাদেশ সরকার তার ভিসার আবেদন ঝুলিয়ে রাখায় তিনি দিল্লিতে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে চান। কেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ, সেটাই তিনি দিল্লিতে গিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান। প্রথমে লর্ড কার্লাইল ১৩ জুলাই দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব বা এফসিসি-তে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলেন। সেভাবে ওই ক্লাবের মিলনায়তনটি প্রাথমিকভাবে বুকিংও করে রেখেছিলেন। কিন্তু ওই একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতও ওই ক্লাবে আসছেন, এই যুক্তিতে শেষ মুহূর্তে এফসিসি তার বুকিং বাতিল করে দেয়। 
 
পরে জানানো হয়, লর্ড কার্লাইল বৃহস্পতিবার দিল্লির লা মেরিডিয়ান হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু গত বুধবার রাতে ভারতে প্রবেশ করতে না পারায় সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করা হয়। লন্ডনে নামার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই স্কাইপ কলে তিনি দিল্লির মিডিয়ার সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হন তিনি। দিল্লির সূত্র মতে, লর্ড কার্লাইল জামায়াতে ইসলামীর পয়সায় রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
 
ইত্তেফাক/কেআই
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১২
সূর্যোদয় - ৫:২২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫