জাতীয় | The Daily Ittefaq

‘আদিবাসী’ মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়

‘আদিবাসী’ মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়
ইত্তেফাক রিপোর্ট১০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০১:২৯ মিঃ
‘আদিবাসী’ মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা বলেছেন, ‘আদিবাসী’ মানুষ দেশান্তরী হতে চায় না। এই বাংলাদেশ তাদের মাতৃভূমি। দেশের অন্যসব মানুষের মতোই সম্মান-মর্যাদা নিয়ে তারা বাঁচতে চায়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র  জাতিসত্তার মানুষেরা তাদের অধিকারের কথা তুলে ধরেন। সকালে আদিবাসী গানের দল ‘মাদল’ এর সদস্যরা গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করে।

দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকাকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি; বরং আদিবাসীরা দিন দিন প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছে। তাদের জমিজমা        কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অনেক জায়গায় জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভূমি ও সম্পদ দখল হচ্ছে। তাদের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। শাসকগোষ্ঠীর দর্শন ও চিন্তাধারা গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক নয়। আর এ জন্যই বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের ওপর নিগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দরকার নিরন্তর সংগ্রাম ও আন্দোলন। আর এ আন্দোলনে শুধু ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ নয়, বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর অসামপ্রদায়িক, গণতান্ত্রিক শক্তির সহায়তা চান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে

সরকার সচেতন : ইনু

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ দ্বন্দ্বের অবসানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ওই চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির অনেক কিছুই হয়তো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার সচেতন ও সতর্ক আছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অসামপ্রদায়িকতার ছাতা ধরে রেখেছেন।

লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশে দুই শ্রেণির মানুষ দেশ ত্যাগ করে। এরা হলো মন্ত্রী-এমপি-বড় আমলাদের ছেলেমেয়েরা আর অন্যরা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ। মন্ত্রী-আমলাদের সন্তানরা  উড়োজাহাজে করে দেশ ত্যাগ করে, ওঠে নিজেদের দ্বিতীয় হোমে। আর ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ দেশ ত্যাগ করে হেঁটে হেঁটে। তারা সেখানে গিয়ে থাকে পথে পথে, গাছ তলায়।

অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারির বাণী পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস। আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ। আলোচনা শেষে বাংলাদেশ আদিবাসী কালচারাল ফোরামের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় নৃত্যানুষ্ঠান ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’। এটি পরিচালনা করেন চন্দ্র ত্রিপুরা ও সাচিং মারমা। এ ছাড়া হাজং, সাঁওতাল, গারো ও মাহাতো জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক দলও নাচ-গান পরিবেশন করে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০