জাতীয় | The Daily Ittefaq

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৩ বছর পরও পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি’

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৩ বছর পরও পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি’
অনলাইন ডেস্ক১৮ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৬:৩৮ মিঃ
‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৩ বছর পরও পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় তারা এই দাবি করেন। শনিবার আয়োজিত এই আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
 
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে জানান, একটি দেশের জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আইন করে সেই হত্যার বিচারকার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ইনডিমিনিটি বিলে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু তারপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিলেও এই আইন বাতিল করেননি। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ এবং ১৯৯০ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও এই কালো আইন বাতিল করেনি। বরং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই আইন বাতিল হয় এবং মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।
 
এ সময় তিনি আরও জানান, মামলা নিয়ে বিচারকদের বিব্রতবোধের বিড়ম্বনার পাশাপাশি তথ্য ও দলিলাদি সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে সরাসরি হত্যাকারীদের আমরা বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে মূল পরিকল্পনাকারীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা এখন বেশ স্পষ্ট। তাই আমি মনে করি আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি।
 
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বছর ৯ মাস। মা-বাবার সাথে কোন সুখ স্মৃতি আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে মেঝেতে রক্তাক্ত পরে থাকা আমার বাবার লাশ এবং তারপর মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের কথা।
তিনি বলেন, বাবা-মা ছাড়া আমাদের কেউ দীর্ঘ সময় আশ্রয় দিতে চায়নি। এই আত্মীয়ের বাসা থেকে ঐ আত্মীয়ের বাসায় আমার ৫ বছরের বড় ভাই আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের বেশি কেউ আমাদের আশ্রয় দেয়নি। কিন্তু এটা বড় কষ্ট ছিল না। সবচাইতে বড় কষ্ট ছিল, হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা। আর তার থেকেও বড় কষ্ট ছিল বঙ্গবন্ধু ও আমার বাবাকে নিয়ে চালানো প্রোপাগান্ডা।
 
তাপস বলেন, ১৯ নভেম্বর আমার জন্মদিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবারকে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণ রায় পাই। কখনও আমার জন্মদিন পালন করা হয়নি। কিন্তু এটি ছিল আমার জন্য সবচাইতে বড় জন্মদিনের উপহার।
 
কিন্তু তাই বলে এই রায়েও পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট নন তিনি। তাপস উপস্থিত কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, আত্মস্বীকৃত খুনিরা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে ক্যু এর কথা জানানো হয় এবং প্রতি উত্তরে জিয়া বলেন, ‘গো এহেড’। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এমনকি ভারতেও কোন আর্মি অফিসারের এমন মন্তব্যকে কি বলা হয়? এটা কি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। বিষয়টা এভাবেই বলা, ‘আমি যেতে পারছি না, তোমরা কাজটি করে এসো’। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্ট এখন স্পষ্ট। আমি কবরে যাবার আগ পর্যন্ত বলে যাবো, বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবার হত্যায় সরাসরি জড়িত জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোস্তাক।
 
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর জাপানি চলচ্চিত্রকারের নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সাক্ষাৎকার এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি সাক্ষাৎকার প্রদর্শন করা হয়।
 
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম কমিটির সদস্য কর্নেল ফারুক খান ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপু মনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যবৃন্দ।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬