জাতীয় | The Daily Ittefaq

ইভিএম সংযোজন করা হচ্ছে আরপিওতে

ইভিএম সংযোজন করা হচ্ছে আরপিওতে
সংস্কার নিয়ে আজ ইসির সভা
সাইদুর রহমান২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০১:৪৪ মিঃ
ইভিএম সংযোজন করা হচ্ছে আরপিওতে

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংসদ নির্বাচন পরিচালনার আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ইভিএম ব্যবহারের বিধানটি সংযোজন করা হচ্ছে। কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির বিভিন্ন প্রস্তাব চূড়ান্ত করার বিষয়ে আজ রবিবার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি থেকে আগেই জানানো হয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনী আইনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি সংযোজন ছাড়া বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হবে না। তবে এ আইন বাংলায় তর্জমা করার প্রস্তাব রাখা হবে।

আজ রবিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য কমিশন বৈঠকে দুটি প্রধান এজেন্ডা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সংশোধন। অন্যটি হচ্ছে এ বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফেমবোসা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে।

গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া প্রতিটি  স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে ইভিএমে ভোট গ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৪৫ হাজার ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রেও ইভিএম ব্যবহার করতে হলে আরপিওতে বিষয়টি সংযোজন করতে হবে।

তিনি বলেন, সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সবার কাছে সহজবোধ্য করার জন্য আরপিও বাংলায় তর্জমা করার প্রস্তাবের বিষয়টিসহ আরো কিছু বিষয় আলোচনা হতে পারে। কমিশন থেকে এ সব প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপিত হবে।

এদিকে গত ১৫ জুলাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে দলীয় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মত প্রস্তাবে বিলুপ্ত ৭ নম্বর ধারার অনুরূপ একটি ধারা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংযোজন করার অপচেষ্টা চলছে। এর উদ্দেশ্য বিএনপির নেতৃত্ব থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া। এ বিষয়ে সচিব বলেন, আরপিও সংশোধনী প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বিষয়টি থাকছে না। এটি রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই।

আরপিওসহ  নির্বাচন সংক্রান্ত বিদ্যমান ১৪টি আইন ও বিধি সংস্কার করার জন্য গত বছর ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে প্রধান করে আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি গঠন করে ইসি। ওই কমিটি আরপিও সংশোধনের জন্য কিছু সুপারিশও প্রস্তুত করে। তার মধ্যে নির্বাচনে অনিয়ম রোধে ‘তৃতীয় চোখ’-এর বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখার বিধান করার সুপারিশটি পরে বাদ দেওয়া হয়। বাদ দেওয়া হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশের পরিবর্তে এক হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার সুপারিশটিও। সমভোটের ক্ষেত্রে লটারির বিধান বাতিল এবং নির্বাচনী অপরাধের সাজা তিন থেকে সাত বছর করার সুপারিশও প্রত্যাহার  করা হয়।

গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সভায় কমিটির মোট ৩৫ দফা সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত সাতটি সুপারিশই বাতিল করা হয়। বাকি সুপারিশগুলো পরীক্ষা করে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশন একজন পরামর্শকও নিয়োগ করে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, পরামর্শকের কাছে পরীক্ষার জন্য আইন সংস্কার কমিটির যে প্রস্তাবগুলো পাঠানো হয়, তাতে আরপিও’র ১৯টি অনুচ্ছেদে সংশোধন বা সংযোজনের বিষয় উল্লেখ ছিল। সেগুলো হচ্ছে- ৯, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২২, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৩৭ ও ৪৪ অনুচ্ছেদ ।

খসড়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘আরপিওতে ইভিএম-এর বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন আছে। বর্তমান ইভিএম শুধু ভোটগ্রহণের জন্য নয়, এতে আঙুলের ছাপ ও এনআইডি নম্বর দিয়ে যাচাইয়ের মাধ্যমে ভোটার শনাক্তও করা হবে। যে এই বায়োমেট্রিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণ  হবে না সে ভোট দিতে পারবে না। ২৮ (ক) অনুচ্ছেদে ব্যালট বাক্সের সঙ্গে ইভিএম যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের আগে ব্যালট বাক্স অথবা ইভিএম শূন্য অবস্থায় আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। একই সাথে ২৮ (গ) অনুচ্ছেদে খালি ব্যালট বাক্স ও ইভিএম সিল করে দেওয়ার কথা বলা হয়। ৩১ (৩) অনুচ্ছেদে হাতে অমোচনীয় কালিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে ব্যালট সরবরাহ না করার এবং তাকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার বিষয় যুক্ত করতে বলা হয়। ৩৩ (১) অনুচ্ছেদে ভোট চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে ইভিএমকে বাইরে রাখার বিষয়টি যুক্ত করতে বলা হয়। ৩৪ (১) অনুচ্ছেদের সংশোধনীতে বলা হয়, নষ্ট ব্যালটের বিষয়টি ইভিএমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ৩৬ (৬) অনুচ্ছেদে সংশোধনীতে বলা হয়, ইভিএম ভোটিংয়ের ফলাফলের নথি হচ্ছে স্টোরেজ ডাটা কার্ড। ইভিএম-এর বিষয়টি ছাড়াও ইসির আইন সংস্কার কমিটির প্রস্তাবে ১২ (৩) অনুচ্ছেদে অনলাইনে মনোনয়ন জমা এবং এর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদানের বিষয়টি যুক্ত করতে বলা হয়। ১৩ (১) (এ) অনুচ্ছেদে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। ২২ (৩) অনুচ্ছেদে পোলিং এজেন্টকে প্রার্থীর প্রতীক সংবলিত কার্ড না দিয়ে ইসির পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়। ১২ (৩) অনুচ্ছেদে অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের বিধান যুক্ত করতে বলা হয় এবং ১২ (৩বি) (এ) তে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট গ্রহণের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে  মার্কশিট জমা নেওয়ার  কথাও বলা হয়।

এদিকে সম্প্রতি এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত ইভিএম ব্যবহার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও এর ব্যবহার অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দেড় লাখ ইভিএম সংগ্রহের জন্য তিন হাজার ৮২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। গত ১৯ আগস্ট  বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন তা স্থগিত করা হয়।

জানা যায়, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক ইসি’র এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮২১ কোটি টাকা। এর বেশিরভাগই ব্যয় হবে ইভিএম কেনার খাতে।  প্রতি ইউনিট ইভিএমের দাম পড়বে প্রায় দুই লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে আড়াই হাজারের মতো ইভিএম সংগ্রহ করেছে।  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬