জাতীয় | The Daily Ittefaq

বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি চিরদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয় :প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি চিরদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয় :প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০১:০৫ মিঃ
বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি চিরদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয় :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্পাদন খরচের চেয়ে কম দামে গ্রাহকদের বিদ্যুত্ দেওয়ার কথা তুলে ধরে বলেছেন, বর্তমানে আমাদের বিদ্যুত্ উত্পাদন খরচ ৬ দশমিক ২৫ টাকা/কিলোওয়াট এবং বিক্রয় মূল্য রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৮২ টাকা/কিলোওয়াট। কাজেই এখানে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। অর্থাত্ বিদ্যুত্ উত্পাদনে যে খরচ তা আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে নিচ্ছি না। তবে বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি চিরদিন অব্যাহত রাখা হয়তো সম্ভবপর হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৮’ উদযাপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে দেশের বিদ্যুত্ খাতকে যেভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল তা নজীরবিহীন। গত সাড়ে ৯ বছরে বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। প্রতিমাসে ৩ থেকে ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের ফলে এখন মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটিতে পৌঁছেছে। উত্পাদন খরচের চেয়ে কম দামে গ্রাহকদের বিদ্যুত্ দেওয়ার কথা তুলে ধরে অপচয় বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যবহূত বাণিজ্যিক জ্বালানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পূরণ করা হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন ৪টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। গ্যাসের গড় উত্পাদন দৈনিক ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। ৮৬২ কিলোমিটার নতুন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৯-২০১৮ সময়ে ৩৩টি নতুন গ্যাস স্ট্রাকচার চিহ্নিতকরণ, ১৪টি অনুসন্ধান কূপ ও ৫৭টি উন্নয়ন কূপ খনন এবং ৪৪টি কূপের ওয়ার্কওভার কাজ তাঁর সরকার সম্পাদন করেছে। তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১০৮টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র উত্পাদনশীল কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া থেকে বর্তমানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি লংওয়াল টপ কোল কেভিং (এলটিসিসি) পদ্ধতিতে গড়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার হতে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যত হতে থাকবে ভবিষ্যতে বিদ্যুতে যতটা খরচ হবে ততটাই তাদের প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমার একটা অনুরোধ থাকবে বিদ্যুত্ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিগত সাড়ে নয় বছরে দেশের বিদ্যুত্ খাতের সম্প্রসারণে বেশ কিছু আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ-ভারতের সহযোগিতা চুক্তির আওতায় স্থাপিত দু’দেশের বিদ্যুত্ সঞ্চালন কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রথম গ্রিড আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করা হচ্ছে। এ ক্ষমতা ১০০০ মেগাওয়াটে উন্নীতের কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় গ্রিড আন্তঃসংযোগ উদ্বোধনের মাধ্যমে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করা হচ্ছে। ভারত হতে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেপাল এবং ভুটান থেকে জল বিদ্যুত্ আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মাসেই তাঁর সরকার নেপালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ, ভুটান এবং ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিদ্যুত্ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে মোট ২৪ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৩৫টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ও ১০১টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকার দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ভবিষ্যত্ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুত্ উত্পাদনের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করার মাধ্যমে প্রায় ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রায় ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিডভিত্তিক ২টি সোলার বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
 
দেশের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের বিকাশে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বিদেশি তেল কোম্পানির নিকট হতে ৫টি গ্যাস ফিল্ড ক্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু ঘৃণ্য কুচক্রীদের হাতে জাতির পিতা শাহাদতবরণ করায় তাঁর এই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
 
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ এবং সেচ বিষয়ক মন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোহম্মদ রহমাতুল মুনিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্ বিভাগে সরকারের সাফল্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯