জাতীয় | The Daily Ittefaq

স্থাপনা ভাড়ায় ভ্যাট ফাঁকি

স্থাপনা ভাড়ায় ভ্যাট ফাঁকি
ছয় মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে আটকা আছে ১৮৫ কোটি টাকা
রিয়াদ হোসেন১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০২:৩৮ মিঃ
স্থাপনা ভাড়ায় ভ্যাট ফাঁকি
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে গ্রামীণফোনসহ শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো এই ভ্যাটের অর্থ সরকারের ঘরে জমা দেয়নি। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র পরীক্ষা করে বিরাট অঙ্কের ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছয়টি মোবাইল ফোন কোম্পানির এরকম ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণ ফোনের ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বাংলালিংকের ৬২ কোটি, রবি অজিয়াটার ৪১ কোটি, এয়ারটেলের ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ও টেলিটকের ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০১১ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত নথি পরীক্ষা করে বিভিন্ন সময়ে এসব ফাঁকি বের হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ করা তথ্যের উপর ভিত্তি করেই এ ফাঁকি উদ্ঘাটন হয়েছে। স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার প্রকৃত তথ্য জানা গেলে এ ফাঁকি আরো কয়েকগুণ বেশি হবে।
 
সূত্র জানায়, এসব ফাঁকির অর্থ পরিশোধ করতে অভিযুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছে বিভিন্ন সময়ে দাবিনামা জারি করার পর এটি এখন আদালতে বিচারাধীন। তবে কেউ কেউ আদালতের বাইরে সালিশী ব্যবস্থায় (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর) তা সমাধান করতে চাইছে। ইতোমধ্যে রবি ও বাংলালিংক এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা এডিআরে সমাধানের লক্ষ্যে আবেদন করেছে। রবি’র দুটি মামলা এডিআরে নিষ্পত্তির প্রাথমিক ধাপ পার হয়েছে বলেও জানা গেছে। সূত্র জানায়, ওই দুটি মামলায় এনবিআরের দাবিকৃত অর্থই এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ৬টি মোবাইল কোম্পানির কাছে এনবিআর এ সংক্রান্ত ২০টি দাবিনামা জারি করেছে। এর বিপরীতে তারা আদালতে রিট করেছেন। প্রায় সব মোবাইল ফোন কোম্পানিই এসব মামলা এখন এডিআরের মাধ্যমে সমাধান করতে চাইছেন। ইতোমধ্যে যে তিনটি মামলা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে, তা এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ থেকে কমেনি। অন্য দাবিনামাগুলোও এনবিআরের পক্ষেই রায় আসবে বলে আশা করছি।
 
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ১৫০ বর্গফুটের বেশি কোনো স্থান কিংবা স্থাপনা ভাড়া নেওয়া হলে এর বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হবে। এবং যে প্রতিষ্ঠান ভাড়ার টাকা পরিশোধ করবে, ওই প্রতিষ্ঠানই ভ্যাটের অর্থ এনবিআরের কাছে পরিশোধ করবে। ২০১২ সালের বাজেটে এনবিআর ভ্যাট আইনে এ সংক্রান্ত একটি পরিবর্তন আনে। পরবর্তীতে এর ভিত্তিতে একটি আদেশ (এসআরও) জারি করা হয়। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো দেশব্যাপী তাদের বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তার প্রায় সবই ভাড়ায় নেওয়া। এনবিআরের এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়, স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণকারী সেবার উপর ভ্যাট ভাড়া গ্রহণকারী কর্তৃক প্রদেয়।
 
অবশ্য এনবিআরের এমন দাবি অযৌক্তিক বলে মনে করেন মোবাইল অপারেটর রবি’র চিফ অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ভ্যাট আইনের মূল নীতি হলো যারা স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার অর্থ গ্রহণ করবে, তারা ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করবে। আমাদের (মোবাইল অপারেটর) কাছ থেকে এ অর্থ দাবি করা অযৌক্তিক। সরকার আইন পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু বারবার মূল নীতি থেকে সরে আসায় অস্পষ্টতা ও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সংক্রান্ত মামলা সালিশী ব্যবস্থায় নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এডিআরে আবেদনের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আশা করছি সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারবো।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯