জাতীয় | The Daily Ittefaq

এনবিআরের নজরদারিতে আসছে বড় ব্যবসায়ীদের লেনদেন

এনবিআরের নজরদারিতে আসছে বড় ব্যবসায়ীদের লেনদেন
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০৪:১৯ মিঃ
এনবিআরের নজরদারিতে আসছে বড় ব্যবসায়ীদের লেনদেন
মাঠ পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মাঝারি ও বড় অঙ্কের লেনদেন এনবিআরের নজরদারিতে আনতে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে। বার্ষিক পাঁচ কোটি টাকার উপরে বিক্রয় (টার্নওভার), এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা জারি করে সম্প্রতি এনবিআর একটি আদেশ জারি করেছে। ব্যবসায়ীরা এই বাধ্যবাধকতা না মানলে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুণতে হবে। দেশব্যাপী কত সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটি টাকার উপরে বার্ষিক টার্নওভার- তার কোনো পরিসংখ্যান এনবিআরের কাছে নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি পুরোদমে চালু হলে নতুন করে ৮ থেকে ১০ হাজার ব্যবসায়ীর লেনদেন এনবিআরের নজরদারিতে আসবে।
 
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে অল্প কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাদে অন্যরা ম্যানুয়ালি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করেন। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে সঠিক তথ্য পাওয়া এনবিআরের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত লেনদেনের তথ্য গোপন করে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিসাবপত্র সংরক্ষণ করলে প্রকৃত লেনদেনের তথ্য জানা সম্ভব হবে। এতে লেনদেনের স্বচ্ছতার পাশাপাশি যথাযথ রাজস্বও আদায় হবে।
 
অবশ্য এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জনিয়েছে, ব্যবসায়ীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সহযোগিতা না করলে এ ধরনের উদ্যোগে সফল হওয়া কঠিন। কেননা কোনো ব্যবসায়ী এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও সব লেনদেনের তথ্য এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ নাও করতে পারেন। যে অর্থের লেনদেন এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হবে না, তার হিসাবও এনবিআর পাবে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সব লেনদেন সার্বক্ষণিক নজরদারি করা এনবিআরের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। ফলে লেনদেনে স্বচ্ছতা আনা কিংবা কাঙ্ক্ষিত ভ্যাট আদায়ের এ উদ্যোগ সফল নাও হতে পারে।
 
এনবিআরের ওই আদেশে বলা হয়, এনবিআরে নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে মোট বিক্রয় বা টার্নওভার পাঁচ কোটি টাকা বা তার অধিক হলে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি ও হিসাবপত্র এনবিআর নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। যে সব প্রতিষ্ঠান এ আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ভ্যাট আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ওই ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিলে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের অর্ধেক বা সমপরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা যাবে।
 
কী ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে কিংবা এর বৈশিষ্ট্য কী হবে, তাও ওই আদেশে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো ডাটা হারানো গেলে দায়-দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে কোনো ডাটা যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থাসহ তাত্ক্ষণিক ব্যাক-আপ ও স্থায়ী ব্যাক-আপের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সফটওয়্যারে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য সাময়িকভাবে ব্যবহার করা না গেলে ওই সময়ের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাবপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। ত্রুটিমুক্ত হওয়ার পর সব তথ্য সফটওয়্যারে ধারণ করতে হবে।
 
এর আগে ১১ ধরনের খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত হিসাব যন্ত্র ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হলেও তাতে খুব একটা সফলতা আসেনি। নতুন করে ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটি এখনো কার্যকর হয়নি।
 
অবশ্য ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বড় অংশই মনে করছেন, এটি বাস্তবতা বর্জিত। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ভ্যাট বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেন, বাস্তবতার নিরিখে নিয়ম-কানুন তৈরি না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭