জাতীয় | The Daily Ittefaq

শিশুরা কেন হিংস্র হচ্ছে?

শিশুরা কেন হিংস্র হচ্ছে?
সমীর কুমার দে২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০৪:৪৩ মিঃ
শিশুরা কেন হিংস্র হচ্ছে?
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে এক কিশোর আরেক কিশোরকে হত্যা করে। পুলিশ ঘাতক ওই কিশোরকে আটক করেছে। গত জুন মাসের এই ঘটনায় নিহত কিশোরের নাম নয়ন মোল্লা (১৫)। সে পৌর এলাকার লঞ্চঘাটের খান হোটেল নামের এক খাবারের দোকানের কর্মচারী ছিল। পুলিশ ওই হোটেলের আরেক কিশোর কর্মচারীকে (১২) আটক করেছে। পুলিশ বলছে, মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে দুইজনে কয়েকদিন কথা বলত না। এক পর্যায়ে ১২ বছরের ওই কিশোর নয়নকে অতর্কিত ছুরি দিয়ে হত্যা করে।   এরপর জুলাই মাসে গাজীপুরে সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু হাদিকাকে খুন করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। জয়দেবপুর থানার ওসি জানান, ‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হাদিকাকে হত্যা করেছে বলে ওই কিশোর গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
 
এই দু’টি ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে শিশুরাও হিংস্র হয়ে উঠছে? কেন তাদের মধ্যে এই অপরাধ প্রবণতা? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের আশপাশের পরিবেশ দেখেই বড় হচ্ছে শিশুরা। আমরা যে অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি করেছি সেটা দেখেই শিশুদের মধ্যে এই অপরাধ প্রবণতা। অনেক সময় জেনেটিক কারণে শিশু অপরাধী হচ্ছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আমরা তো শিশুদের জন্য কোন সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারছি না। ওরা যা দেখে বড় হচ্ছে সেটাই শিখছে। আমরা যে অসহিষ্ণু পরিবেশে বড় হচ্ছি সেটা দেখেই শিশুরা খুনি হয়ে যাচ্ছে। ওরা তো যা দেখবে তাই তো শিখবে।
 
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে প্রতিদিন গড়ে একটি শিশু খুন হয়েছে। এই সংখ্যাটা ৩৫২। গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০১৭ সালটি ছিল শিশুদের জন্য ভয়ঙ্কর।
 
মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল ইত্তেফাককে বলেন, পরিবার বিচ্ছিন্নতাই শিশুদের হিংস্র হয়ে উঠার প্রথম কারণ। পাশাপাশি পরিবারের মধ্যে যে ভায়লেন্স দেখে শিশুটি তাই দেখেই শিশুদের অপরাধ করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। যেমন বাবা মাকে পেটাচ্ছে। সেটা দেখে শিশুটি শিখে ফেলছে। আবার মোবাইল কালচার শিশুদের অপরাধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খুব সহজেই শিশুরা পর্ণ সাইটে ঢুকছে। এমনকি দু’থ্রিতে পড়া শিশুরা পর্ণ সাইট দেখছে এমন শিশুকে নিয়ে বাবা-মা আমার কাছে এসেছে। এসব দেখার ফলে শিশুটি নারীকে ভোগের বস্তু মনে করছে।  এখানে ভালবাসা-মায়া মমতার যে বিষয়টি আছে সেটা হয়ত তারা শিখছেই না।
 
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী রতন ইত্তেফাককে বলেন, গ্যাং কালচার একটা বড় সমস্যা। এখানে শিশুদের মধ্যে হিরোইজম কাজ করে। শুধু পরিবার নয়, টিভি সিনেমায় শিশুরা যা দেখছে সেটাও কিন্তু শিখছে। পাশাপাশি মাদক একটা বড় সমস্যা। বাবা বা মা যদি মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তাহলে শিশুটির মধ্যে অপরাধ প্রবণতা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক। জেনেটিক বিষয়ও একটা বড় কারণ। বাবা-মায়ের মধ্যে যদি অপরাধ প্রবণতা থাকে তাহলে শিশুটিও অপরাধী হয়ে উঠে। ভিডিও গেমে বন্দুক নিয়ে গোলাগুলি শিশুদের অপরাধের দিকে নিয়ে যায়। সবশেষে বলব- বাবা-মায়ের মধ্যে দূরত্ব থাকলে শিশুরাও সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। তখন তাদের মধ্যে নানা ধরণের অপরাধ প্রবণতা তৈরি হয়। আর বাবা-মা যদি শিশুটির বন্ধু হয় তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪