কালোবাজারি বন্ধে

‘রেলের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক হচ্ছে’

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  বিশেষ প্রতিনিধি

টিকিট কাউন্টার (ফাইল ছবি)

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, কালোবাজারি বন্ধে রেলের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত দশ বছরে রেলে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়লেও টিকিট কালোবাজারিরা সব অর্জন নষ্ট করে দিচ্ছে। বদনাম হচ্ছে এ সেবা খাতের। এছাড়া টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে যে জেলায়, যে টিকিট বরাদ্দ দেওয়া আছে তা যেন বজায় থাকে।  

রবিবার রেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময়  উপস্থিত ছিলেন রেলের সচিব মোফাজুল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মজিবুর রহমান, প্লানিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন, এ ডি জি আর এইচ সামসুর জামানসহ অন্য কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকিট কেনার পদ্ধতি পরীক্ষামূলক শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একটি এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে ৪টি টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। একটি নম্বর দিয়ে প্রতিদিন একবারই টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে শুরু হলেও ১৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের কাউন্টারেও সোনার বাংলার টিকিট কিনতে এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

রেল পরিবহনে অভিযোগবিহীনভাবে সেবা দেওয়াকেই মূল চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রেলপথমন্ত্রী বলেন, চাহিদার সঙ্গে যখন বাস্তবতার সামঞ্জস্য না থাকে তখন টিকিট কালোবাজারি হয়। একারণেই রেল স্টেশন মাস্টারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এনআইডি দিয়ে টিকেট কেনার পদ্ধতি শুরু করা প্রয়োজন।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ডিভাইসটা আমরা করতে চাচ্ছি, বাধ্যবাধকতা থাকলে স্টেশন মাস্টার টিকেট দিতে পারবে না, সিস্টেমটা তৈরি করতে হবে। আগামী সপ্তাহে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী রেলভবনে রেলভবনে আসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, রেলের সেবাটা আরো কিভাবে ডিজিটাল করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেলপথমন্ত্রী আরও বলেন, রেলখাতে সেবার মান বাড়িয়ে যুগপোযোগী করে মানুষের চাহিদার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। রেলের উন্নয়নের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী আরামদায়ক ও সেবামূলক খাতে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন ও সে অনুযায়ী দেশের প্রতি জেলায় রেল স্থাপনের জন্য কাজ করে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, সারাবিশ্বে রেলের উন্নয়ন খুব দ্রুত হচ্ছে। আমরাও পিছিয়ে থাকবো না। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর দশটি মেগা প্রকল্পের মধ্যেরেলের দু’টি প্রকল্প রয়েছে। রেল এখন ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখাতে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রান্স এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, রেল এখন পর্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে গত দশ বছরে রেলখাতে কিছু হলেও মানুষের আস্থার জায়গায় যেতে পেরেছে। আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সফল হবোই। আমি জনগণের প্রতিনিধি জবাবদিহি করতে বাধ্য। প্রধানমন্ত্রীর ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবো। এজন্য বুলেট ট্রেন, স্টেশনের উন্নয়ন, টিকিট কালোবাজারি বন্ধ, দক্ষজনবল নিয়োগ এবং মনিটরিং ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ভারতে কর্মস্থলে নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা, পাচ্ছেন ছুটি

রেলকে সার্বজনীন করতে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, মানুষের সেবা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের দায়িত্ব দিয়েছেন। রেলের সেবার মান বৃদ্ধি কার জন্য যা কিছু করার দরকার করবো। গত দশ বছরে রেল এগিয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত স্থানে যেতে পারেনি। কিছু সংখ্যক লোক এ খাতের বদনাম করছে। আশা করছি রেলকে আরও বেশি আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।

জনবল নিয়োগের বিষয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, হাইকোর্টের মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্যা হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের জন্য ৮৬ জন স্টেশন মাস্টার, আর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ৪৩ জন মাস্টার নিয়োগ দেওয়া হবে শিগগিরই। 

ইত্তেফাক/এমআই