জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এবার স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক, শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৯টি বাদে সব আসন পেয়েছিল। তারপরও যেসব দল সংসদে আসন জেতেনি তাদেরকেও তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় এনেছিলেন। অথচ তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, জাতির পিতা দেখলেন একটা নির্বাচনে ব্যাপক খরচ। তাই রাষ্ট্রীয় খরচে একই পোস্টারে সকল প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা করেছিলেন জাতির পিতা। এর মাধ্যমে ভোটেনর ক্ষেত্রে সবাইকে স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার তিনি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। অথচ পঁচাত্তরের পরের সকল নির্বাচনে অর্থ, লাঠি এগুলোর আধিপত্য ছিল। পচাত্তরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বোমাবাজি, খুনখারাবি, লাশ পড়েছে। সশস্ত্র বাহিনীতে ১৯টা ক্যু হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার অফিসার নিহত হয়েছে। জাতির পিতার যে পদ্ধতি নিয়েছিলেন পদ্ধতিতে দুটি নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাইকে হারিয়ে একজন স্কুল মাস্টার জয়ী হয়েছিলেন। পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের দুটি নির্বাচনে সাধারণ কৃষক-শ্রমিকের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন : ফ্যাব্রেগাসের ছেলের ‘ব্যাপটিজমে’ পুত্রসহ মেসি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিপ্লবের পর বিবর্তন আসে। সকল দেশেই এমনটি হয়। তাই বিপ্লবোত্তর সমাজে তিনি সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদনের ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। সেখানে জমির মালিকানা কৃষকের হাতেই থাকবে। তবে সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের একাংশ শ্রমিক ও একাংশ মালিক পাবে। শিক্ষার্থীদের জন্য কুদরত-ই খুদা কমিশন গঠন করেন। জাতির পিতার গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে ৫/৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত হতে পারতো।
পরবর্তীতে নিজের সরকার গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একুশ বছর পর ক্ষমতায় এসে তাঁর দেখানো পথ অনুযায়ী কাজ করেছি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। ২০০১ এ ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। জনগণের ভোট বেশি পেয়েও দেশের সম্পদ অন্যের কাছে বিক্রয় না করায় আমরা সিট পেলাম না। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। তাই ২০০৮ সালে জনগণ আমাদের ভোট দেয়। আমরা যেন উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে পারি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চড়াই উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সেই দেশটাকে নিয়ে কেউ যদি সম্মানের সাথে না দেখে সেটা স্বাভাবিকভাবে আমাদের কষ্টের কারণ ছিল। আমরা সরকারে আসার পর আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছি। আমরা এই অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ অর্জন করতে চাই। মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলারে উন্নত করতে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। সবাই সম্মানের চোখে দেখছে।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তারা আস্থা বিশ্বাস রেখে সেবা করার জন্য আমাদের সুযোগ দিয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে যখন দুর্নীতির অভিযোগ আমার ও আমার পরিবারের উপর আনা হল, আমরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। সেই চ্যালেঞ্জে ওয়াল্ড ব্যাংক হেরে গেছে। সততার শক্তি দিয়ে আমরা সেটা মোকাবেলা করতে পেরেছি। যাদের কাছ থেকে একসময় আমরা লোন নিতাম, এটাকে তারা অনুদান হিসেবে চালিয়ে দিতো। আমরা সেখান থেকে সম্মানের জায়গায় এসেছি।
স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদের স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে পেরেছি। এরকম অনেক গুণীজন রয়েছেন, তাদের সবাইকে দিতে পারিনি। তবে আমরা মনে করি দেশের কল্যাণে যারা অবদান রাখবে তাদের খোঁজে বের করা প্রয়োজন।
২৫ মার্চের গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি পাক হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেটার স্বীকৃতির জন্য। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। প্রতিটি মানুষ যেন স্বাধীনতার সুফল পায়। কেউ গৃহহীন না খেয়ে থাকবে না। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
ইত্তেফাক/কেআই

