ঢাকা বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
২১ °সে

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, এমপিও বাতিল

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, এমপিও বাতিল
ভিকারুননিসায় বিক্ষোভ। ছবি: ইত্তেফাক

শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাদের এমপিও বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অভিযুক্তরা হলেন- ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রতিষ্ঠানটির বেইলি রোড শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জিনাত আরা এবং ক্লাস টিচার হাসনা হেনা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আরো পড়ুন: অরিত্রীর আত্মহত্যা: অধ্যক্ষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ভিকারুননিসার সব শাখার ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল শ্রেণির ক্লাস-পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

অরিত্রী অধিকারী। ছবি: ইন্টারনেট

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুলতানা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এভাবে চলতে পারে না। শিক্ষকরা আমাদের নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করে। প্রাইভেট টিউশনির জন্য কৌশলে বাধ্য করে। অথচ এ বিষয়ে অধ্যক্ষ কোন ব্যবস্থা নেন না। আমার অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তি চাই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসে যে বিষয়গুলো পড়ানো হয় তা পরীক্ষায় আসে না। যেগুলো শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনিতে পড়ান তা পরীক্ষায় কমন পড়ে।

সোমবার রাজধানীর শান্তিনগরে ৭ তলা ভবনের সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীকে। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে।

অরিত্রীর মা-বাবা জানান, তাদের মেয়ের স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রবিবার চলছিল সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় তার কাছে একটি মোবাইল পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ অরিত্রীর মা-বাবাকে ডেকে পাঠায়। স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, অরিত্রী মোবাইলে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তার। ছবি: ইন্টারনেট

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন