ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫
২৩ °সে

ইসি ব্যর্থ, গণতন্ত্র টিকবে কিনা আমরা উত্কণ্ঠিত :ফখরুল

ইসি ব্যর্থ, গণতন্ত্র টিকবে কিনা আমরা উত্কণ্ঠিত :ফখরুল
পল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মহান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিজয় দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয় : ইত্তেফাক

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সংক্ষিপ্ত বিজয় শোভাযাত্রা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পুলিশের সময় ও বেধেঁ দেওয়া সীমিত এলাকার মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট গতকাল রবিবার এই শোভাযাত্রা করে। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ১২টার কয়েক মিনিট পর শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। একটি পিকআপভ্যানে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বক্তব্য রাখেন। শোভাযাত্রা বিজয় দিবসের হলেও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রার্থীর ছবি, পোস্টার, আর বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে অংশ নেওয়ায় এটা অনেকটা নির্বাচনী প্রচারে রূপ নেয়। ঐক্যফ্রন্টের এই শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায় নয়াপল্টন এলাকায়।

শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্য ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ বিসর্জনকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আজকের এই বিজয় দিবস হওয়া উচিত্ ছিল আমাদের আনন্দের উত্সবের। কিন্তু আমরা অত্যন্ত ভরাক্রান্ত, আমরা আতঙ্কিত, গভীর উত্কণ্ঠিত এই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কী থাকবে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে সরকার এবং আমরা কখনো এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি। নজিরবিহীনভাবে তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মী এবং প্রার্থীদেরকে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। প্রার্থীদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। অবিলম্বে তিনি সব ধরনের হামলা-মামলা, গ্রেফতার বন্ধ করার দাবি জানান।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, গ্রেফতার বন্ধ করুন। না হলে এর দায়দায়িত্ব সবকিছু আপনাদের নিতে হবে। এই দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার দায়িত্ব নিতে হবে। ফখরুল আরো বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে যে বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রে থাকবে, নাকি গণতন্ত্রে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার ফল ভোগ করবে কী করবে না। বাংলাদেশের মানুষ নির্যাতিত হয়ে একটি স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে, একটি একদলীয় শাসনব্যবস্থার মধ্যে যাবে, নাকি বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের দিকে যাবে; এই বিষয়গুলো আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে এই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে কিনা।

শোভযাত্রায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি ছাড়াও নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।

ঐক্যফ্রন্টের শোভাযাত্রা যখন শান্তিনগরের কাছে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে পৌঁছায়, তখন সেখানে মাইকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রচার চলছিল। সেখানে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। কলেজের সামনের রাস্তা বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিতে দিতে পেরিয়ে যান। পরে শান্তিনগর মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে শোভাযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। সেখান থেকে স্লোগান দিতে দিতে নেতাকর্মীরা আবার নয়াপল্টন ফিরে যান।

গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়েছি। যারা ক্ষমতাসীন আছেন তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আবার ক্ষমতায় থাকার জন্য নীলনকশার ষড়যন্ত্র, নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। সরকার পুলিশ বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যাতে আমরা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দিই। ১৬ কোটি মানুষ ও ১০ কোটি ভোটারের ওপর নির্ভর করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ৩০ ডিসেম্বর জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে রায় দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে-এই হলো বিজয় দিবসের আহ্বান।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিজয়ের দিনেও আমরা একটা লড়াইয়ের মধ্যে আছি। এই লড়াই ভোটের লড়াই। সরকার ভেবেছিল এই নির্বাচনেও বোধহয় তারা ওয়াকওভার নিতে পারবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ওয়াকওভার দেব না, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, প্রার্থী দিয়েছি এবং সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন