ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫
১৯ °সে

দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয় মানুষ ছিলেন সৈয়দ আশরাফ

দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয় মানুষ ছিলেন সৈয়দ আশরাফ
সভাপতির বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। ছবি: ইত্তেফাক

‘সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছেই তিনি অত্যন্ত প্রিয় মানুষ ছিলেন’।

মঙ্গলবার সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ অডিটরিয়ামে শোকসভার আয়োজন করা হয়।

বক্তারা বলেন, সততা, নম্রতা, সরলতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল। এমন চিত্র রাজনীতির অঙ্গনে বিরলই বটে।

শোকসভায় অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন, বিশ্বাসী, অনুগত নেতা ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। তার মত নেতা রাজনৈতিক জীবনে হাতেগোনা কয়েকজন পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের মত এতবড় একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তার মধ্যে অহংকার ছিল না, রাজনৈতিক কোন নেতাকর্মী কখনই বলতে পারবেন না সৈয়দ আশরাফ তাদের সঙ্গে কখনও জোরে বা ধমক দিয়ে কথা বলেছেন। তিনি সব সময়ই ছিলেন বিনয়ী।

সদ্য যেসব মন্ত্রী-এমপিরা শপথ নিলেন তাদের কাছে সবাই আশা করবে তারাও যেন সৈয়দ আশরাফের মত মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেন তাদের কাজ কথা আচরনের মধ্য দিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতিটি জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি তিনি কতটা জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন সবার কাছে।

রাজনৈতিক,সামাজিক, পারিবারিক জীবন তিনি অতিবাহিত করেছেন সততার মাধ্যমে। একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে এমনটাই আশা করে সব মানুষ। তাই সৈয়দ আশরাফ অনুকরণীয় হওয়া উচিত সব নেতাদের কাছেই।

আলোচকরা বলেন, দেশে ১/১১ এর সময় থেকে শুরু করে একটি কঠিন সময়ে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ে সৈয়দ আশরাফ পদ-পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন বা জ্ঞাতসারে কাউকে অন্যায় সুবিধা দিয়েছেন, এ রকম অভিযোগ কেউ করতে পারবেন না।

সৈয়দ আশরাফ তাঁর সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের যে কথাটি জোর দিয়ে বলতেন, তা হলো রাজনীতি করতে চাইলে দুর্নীতি ছাড়তে হবে। আর দুর্নীতি করলে রাজনীতি ছাড়তে হবে। পদের গরিমা সৈয়দ আশরাফকে কখনো আচ্ছন্ন করেনি। তাঁর ব্যক্তিত্ব পদের চেয়ে বড় ছিল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে নাগরিক শোক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ, পরিবেশ আন্দোলনের সহ সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন: পোশাক খাতের অস্থিরতা চলতে দেওয়া হবে না: টিপু মুনশি

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিব শাহাবুদ্দিন খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) শেখ সালাহ্উদ্দিনসহ কাউন্সিলরগণ।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন