রাজনীতি | The Daily Ittefaq

'শেখ হাসিনা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন'

'শেখ হাসিনা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন'
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৬ জুলাই, ২০১৭ ইং ২২:০৪ মিঃ
'শেখ হাসিনা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন'
 
শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে এদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল স্বৈরতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। তিনি কারা অন্তরীণ থেকেও দেশকে বাঁচানোর জন্য নির্বাচন চেয়েছিলেন। কারামুক্ত হয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ারও মুক্তির দাবি জানান। গণতন্ত্রের এমন উদাহরণ বিরল। একারণেই তিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা। এখনও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারা অন্তরীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
 
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু প্রমুখ।
 
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ১৬ জুলাই এদেশের জন্য একটি কালো অধ্যায়। সেদিন মিথ্যা মামলা দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করে এদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল স্বৈরতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তার গ্রেফতারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ গর্জে ওঠে। তারা কঠিন আন্দোলনে নামে। তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রায় ১১ মাস পর তারা শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এখনও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তার হাতকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।
 
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন গমন নিয়ে নানক বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন গমন আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। জানি না তিনি ওখানে দেশকে নিয়ে কী ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন এদেশে তিনি তা কায়েম করতে পারবেন না। এদেশের জনগণ তাকে সফল হতে দিবে না।
 
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান শুরুতেই ১৬ জুলাইয়ের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০০৭ এর ১৬ জুলাইয়ের আগেও জননেত্রী ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। তাকে বহুবার হত্যার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। ১/১১ সরকার আসার পর এ ষড়যন্ত্র আরো গভীরে গিয়ে পৌছায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রকারীদের আক্রোশে পরিণত হন। ১৬ জুলাই তিনি কারা অন্তরীণ হয়ে তিনি একটি মেসেজ দিলেন। সেটি হলো মার্চ-এপ্রিলে নির্বাচন হতে হবে। কারা অন্তরীণ হয়েও তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শ ধরে রেখেছেন।
 
শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, সেই রাতে আমাদের প্রাণের নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর পরই ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে। ভোরে মিছিল স্লোগানে কেঁপে উঠে রাজপথ। সেদিন আমাদের একটাই দাবি ছিল, যেকোন মূল্যে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে হবে।
 
সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গণতন্ত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের নেত্রীকে অবৈধভাবে গ্রেফতার করে। প্রতিবাদে সেইদিন ছাত্রলীগ আন্দোলন করেছিল। যে কোনো কঠিন মূহুর্তে ছাত্রলীগ নেত্রীর পাশে ছিল এবং সবসময় পাশে থাকবে। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পূর্বে যেভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছিল আজকেও একইভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একইভাবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অতএব ষড়যন্ত্র হবেই। যাদের ষড়যন্ত্র করার কাজ তারা ষড়যন্ত্র করবেই। আমাদের কাজ হবে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা।
 
সেনা সমর্থিত ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
 
ইত্তেফাক/জামান
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪