রাজনীতি | The Daily Ittefaq

শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন, একবিন্দুও ছাড় নয় :নাসিম

শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন, একবিন্দুও ছাড় নয় :নাসিম
স্বাধীনতাবিরোধীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ঢুকে পড়েছে :আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৫৭ মিঃ
শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন, একবিন্দুও ছাড় নয় :নাসিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, ‘জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচনে আসুন। এর বাইরে অন্য কোনো ফর্মুলা দিয়ে লাভ হবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। এ ক্ষেত্রে একবিন্দুও ছাড় দেয়া হবে না, ১৪ দলের মুখপাত্র হিসেবে আমি কথাটা বললাম। এই বাংলাদেশে অসাংবিধানিক আর কিছু হবে না। কেউ অসাংবিধানিক কিছু দাবি করলে এর বিরুদ্ধে ১৪ দলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।’

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত ‘সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের অবিরাম পরিশ্রমের মাধ্যমে গত নয় বছরের অর্জনসমূহ ধরে রাখতেই আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জয়লাভ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আবার যেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচার বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্য আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। কাজেই আগামী নির্বাচন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার, অর্জন রক্ষার নির্বাচন। আগামী ভোটে অন্যকিছু হলে সব কিছু অন্ধকারে চলে যাবে। আমাদের পরাজয় মানে অন্ধকার নেমে আসা। হায়েনার দল ও ঘাতকরা যাদের পিতৃপুরুষ পাকিস্তানের, তারা ক্ষমতায় এলে সব অর্জন নিঃশেষ হয়ে যাবে, অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। কাজেই আমরা ছোটখাটো  ভুল করতে পারি, কিন্তু বড় ভুল করলে সবকিছু অন্ধকারে চলে যাবে।

১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, আমরা প্রতি পাঁচ বছর পর জনগণের ম্যান্ডেট নিতে চাই। কারণ আমরা জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখি। কিন্তু মির্জা ফখরুল (বিএনপির মহাসচিব) এমন দিন নেই যেদিন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন না, আজও (সোমবার) উনি বলেছেন তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাস করেন না। সরকারকে বিশ্বাস না করতে পারেন, কিন্তু এই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তো আপনারা কিছুদিন আগে বৈঠক করলেন, মতামত দিলেন। এই কমিশনের অধীনে হওয়া নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু হয়েছে। আপনারা (বিএনপি) প্রতিবার নির্বাচন নিয়েই এরকম কথা বলেন, এখন রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়েও কথা বলছেন।

নাসিম আরো বলেন, বামপন্থিরাসহ অনেকেই ৭০ এর নির্বাচনে যেতে বঙ্গবন্ধুকে বারণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি নির্বাচনে যাব এবং জনগণের ম্যান্ডেটও পাবো, জনতার ওপর আমার বিশ্বাস আছে। ঠিকই বঙ্গবন্ধু সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছিলেন। ৭০ এর নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, কারণ সেই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ম্যান্ডেট। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্ব আজ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে- বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকও এখন প্রকারান্তরে স্বীকার করছে যে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে তারা বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করেছে।

স্বাধীনতাবিরোধীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ঢুকে পড়েছে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা যারা প্রায়ই গ্রামে-গঞ্জে যাই তারা জানি কিভাবে কেউ কেউ এখনো স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকার করতে পারছে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ জনপ্রশাসনে উপঢৌকনসহ নানা কিছুর বিনিময়ে এমন কিছু লোকজনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাদের পেছনের ইতিহাস যথাযথভাবে দেখা হয়নি। যে কারণে স্বাধীনতাবিরোধীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ঢুকে পড়েছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানরা আজ এ দেশে রাজনীতিও করছে, আসলেই কি তারা রাজনীতি করছেন? কাজেই আমাদের চোখ, কান খোলা রাখা দরকার।

স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনও তত্পর: ড. রাজ্জাক

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ১৪ দলে কতটি দল আছে সেটি বিবেচ্য নয়। বিষয় হলো- এটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, এই শক্তি মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি। এই শক্তিকে নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেননা স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনও তত্পর, তারা আজও মনেপ্রাণে স্বাধীনতা মানে না, তারা আবারও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে অনেক মিথ্যাচার হয়েছে। ৭৫ এর পর তিলে-তিলে ইতিহাসকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে খাটো করতে এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ধ্বংস করতেই এই বিকৃতি ঘটানো হয়েছে।

দুর্নীতি রোধ এবং সুশাসন ও সামজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে: শেখ শহীদ

জাতীয় পার্টি-জেপি’র সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সময় এখন বাংলাদেশের’, এটা মিথ্যা কথা নয়। এটা আমাদের অগ্রগতির স্মারক। এর ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। দেশে আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করছে। ১৭ কোটি মানুষের ছোট্ট এই দেশে কিছু জঙ্গিবাদ ও আগুন সন্ত্রাসের ঘটনা তুচ্ছ। তিনি বলেন, বিজয় দিবসে তিনটি বিষয়ে আমাদের শপথ নেওয়া প্রয়োজন- তৃণমূল পর্যন্ত সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে, সমাজ থেকে দুর্নীতি চিরতরে নির্মূল করতে হবে, আর মানুষে-মানুষের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে হবে: দিলীপ বড়ুয়া

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত, একদিকে শোষক আরেক দিকে শোষিত শ্রেণি, আমি শোষিতের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছরেও সেই বৈষম্যের অবসান হয়নি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া, জামায়াত ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি হলো সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী, এদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

ঐক্য ধরে রাখুন: সাদেক সিদ্দিকী

জেপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী বলেন, দেশে এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির লড়াই চলছে। অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় আবারও নিশ্চিত করতে হলে ১৪ দলের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। শরিকদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে এক মঞ্চে সমবেত করতে হবে। অন্যথায় সামনে বিপদ আসতে পারে।

জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তার পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ১৪ দল শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত্ হোসেন, গণ আজাদি লীগের এস কে সিকদার, বাসদ একাংশের আহ্বায়ক রেজাউল হোসেন খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের নেতা অসিত বর্মন ও ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু ও নাজমুন নাহার বেবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩০
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৫