রাজনীতি | The Daily Ittefaq

জটিল অংকে দুই দল ও জোট

জটিল অংকে দুই দল ও জোট
আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামলেন এরশাদ। আবারো আওয়ামী লীগের সমর্থন চান বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ, নতুন সমর্থন প্রত্যাশী নাজমুল হুদা। বিএনপি জোটের সমর্থন চাইবেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীও রয়েছেন
শামছুদ্দীন আহমেদ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ০০:০৭ মিঃ
জটিল অংকে দুই দল ও জোট

অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীর পাশাপাশি ঢাকা সেনানিবাস এলাকার সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকা। কূটনৈতিক জোন বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় এই আসনটিকে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নিলে প্রার্থী মনোনয়ন বা সমর্থন দিতে গিয়ে জটিল হিসাব-নিকাষের মুখে পড়তে হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে। দল ও জোটের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বা স্পর্শকাতর রাজনৈতিক সহযোগীও রয়েছেন যারা এই আসনটিতে সমঝোতা চান। পরিস্থিতি এমন যে কাকে রেখে কাকে বাদ দেবে এবং নিজেদের পক্ষে সামগ্রিক রাজনৈতিক বিন্যাস কীভাবে হবে-এরকম জটিল অবস্থায় পড়তে হতে পারে দুই দলকে।

নবম সংসদে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। তখন তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা মহাঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন এরশাদ। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যান, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্রও প্রত্যাহার হয়। অনেকটা নাটকীয়ভাবে তখন সামনে আসেন তখন নবগঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ। আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিজয়ী হয়ে তিনি বর্তমান সংসদের এমপি। আত্মপ্রকাশের পরপরই অনেকটা রকেট গতিতে বিএনএফ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়া ছিল তখনকার রাজনীতিতে চমকপ্রদ ঘটনা।

গতবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। গতকাল সোমবার ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণাও শুরু করেছেন। এসময় ভাষানটেক বাজার, দামালকোর্ট ও কচুক্ষেতে পৃথক তিনটি জনসভায় বক্তব্যকালে তিনি এলাকাবাসীর কাছে নিজের জন্য ভোট চান। ভাষানটেকে সমপ্রতি পুড়ে যাওয়া বস্তি নির্মাণে সাধ্যমত সাহায্য করার ঘোষণা দেন। জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সাহিদুর রহমান টেপা, এসএম ফয়সল চিশতি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও আজম খান প্রমুখ নেতা এরশাদের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেন।

এরশাদ বর্তমানে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। একাদশ নির্বাচনেও এই আসনের পাশাপাশি তিনি ঢাকা-১৭ আসনেও নির্বাচন করতে চান। বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থা বহাল থাকলে ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগেরও সমর্থন চাইবেন তিনি। এক্ষেত্রে এই আসনে দল মনোনীত বা সমর্থিত প্রার্থী নির্ধারণে হিমশিম খেতে হতে পারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। একদিকে, এরশাদকে সমর্থন না দিলে বিরোধী দলের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা জাপার সঙ্গে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে, গতবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থন না দিলে বেঁকে বসতে পারেন বর্তমান এমপি ও বিএনএফ চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সহযোগী বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্স-বিএনএ তথা জাতীয় জোট ও তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাও ঢাকা-১৭ আসনে  নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে এই নির্বাচনী এলাকায় পোস্টারিং করেছেন একসময়ের বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হুদা। হুদার দাবি, আওয়ামী লীগ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ মল্লিকও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উল্লেখ্য, জেপি বর্তমানে ১৪ দলের শরিক।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, আমার চাচা সালমান এফ. রহমান এবার আমারই বিগত নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন। আসনটি আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। ঢাকা-১ আসনে তাকে বিজয়ী করতে আমি সবধরনের সমর্থন দেব। আশা করি আমিও ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনের জন্য তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা পাব।

ঢাকা-১৭ আসন থেকে আগামীতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানও নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

অবশ্য দশমের মতো একাদশ নির্বাচনও বিএনপি বয়কট করলে ভিন্ন হিসাব-নিকাষ দাঁড়াবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার আগামীতে রাজনৈতিক বোঝাপড়া না হলে, জাপা সম্পূর্ণ এককভাবে নির্বাচন করলে কিংবা জাপা ভিন্ন কোনো জোটে যুক্ত হলেও প্রার্থী মনোনয়ন বা সমর্থনের ক্ষেত্রে নতুন হিসাবের প্রশ্ন আসবে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলটি এখনই কাউকে সমর্থনের কথা জানাবে না, পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ঠিকঠাক থাকলে কাউকে নারাজ না করার কৌশল হিসেবে এই আসনটি উন্মুক্তও রাখা হতে পারে।

মোট চারটি থানা ও তিনটি থানার একাংশ নিয়ে আসনটি গঠিত। এখানকার ভোটার তিন লাখের বেশি।

ঢাকা-১৭ আসনের আগামী নির্বাচনী রসায়ন সম্পর্কে বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি নই, এই কারণে আওয়ামী লীগের একটি অংশের উষ্মা রয়েছে। তারপরেও আগামীতে আমার প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন না থাকার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। তাছাড়া আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘাত চাই না। এরশাদ সাহেবও নির্বাচন করতে চান, তার অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে এরশাদ সাহেব আওয়ামী লীগের জন্য বিপজ্জনকও হতে পারেন।’

আগামী কাল পড়ুন ঢাকা-১ আসন

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫