রাজনীতি | The Daily Ittefaq

আমাদের বক্তব্য না শুনেই আদেশ দিয়েছে আদালত: মওদুদ

আমাদের বক্তব্য না শুনেই আদেশ দিয়েছে আদালত: মওদুদ
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং ২০:৪৫ মিঃ
আমাদের বক্তব্য না শুনেই আদেশ দিয়েছে আদালত: মওদুদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আপিল বিভাগ স্থগিত করা আমাদের বিস্মিত করেছে। দুদকের আইনজীবীর কথা শোনার পর আমাদের কোনো কথা না শুনেই বিচারক আদেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশে এমনটা দেখতে হবে সেটা কখনো ভাবিনি। এ ধরনের আদেশ দেয়া যুক্তিসঙ্গত হয়নি। আদালতের আজকের এই রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ,ব্যথিত। খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বেআইনি। হাইকোর্ট বলেছে জামিন হওয়ার পর আবার অন্য মামলায় শোন এরেস্ট দেখানো বেআইনি। কিন্তু তারা তা করছে। 
 
বুধবার নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
 
মওদুদ আহমদ বলেন, আদালত কখনোই বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। দেশের সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। শুনানিতে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য উপস্থাপনের পরপরই খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ রবিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের কোনও বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই পক্ষের কথা শুনে উচ্চ আদালত যে কোনও আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু একপক্ষের বক্তব্য শুনে এত তাড়াহুড়া করে এ ধরনের রায় দেওয়া কোনোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি। এই রায়ে আমরা ক্ষুদ্ধ ও আশাহত।এ ঘটনায় দেশের উচ্চ আদালতের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ হয়েছে।
 
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। আইনগতভাবেই সেটা তারা সেভাবে করে নিয়েছেন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি- এগুলো সব চলে গেছে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে রাষ্ট্রপতির অধীনে। অর্থাৎ নির্বাহী বিভাগের কাছেই এখন চলে গেছে। আর যারা নিম্ন আদালতে কাজ করেন তারা সরকারি কর্মকর্তা। মামলার নথি আসবে ১৫ দিনের মধ্যে, এটা তো পাঠানো ২ ঘণ্টার ব্যাপার। এগুলো কারা হ্যান্ডেল করেন? সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করেন। তারা সরকারের কথায় এসব কাজ করেন। বিভিন্ন আদালতে আমাদের (বিএনপি) যে মামলাগুলো আছে, সেগুলোর একটা মামলায় জামিন পেলে আরেকটা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এই শোন অ্যারেস্ট দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি। সুপ্রিম কোর্ট এটা বলে দিয়েছেন। কিন্তু নিম্ন আদালতে কর্মকর্তা ও বিচারপতিরা তবুও তা করছেন। কারা করছেন? যারা নিম্ন আদালতে কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচারপতি আছেন, তারা। কারণ তাদের জবাবদিহিতা নির্বাহী বিভাগের কাছে। খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে যা ঘটেছে,বাংলাদেশে এমন কিছু দেখবো বা শুনবো তা কোনোদিন ভাবিনি। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায় আপিল বিভাগ স্থগিত করে সবাইকে বিস্মিত করেছে। উচ্চ আদালত থেকে দেশের মানুষ যা প্রত্যাশা করে না, সেটাই আজ ঘটেছে।
 
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে একের পর এক মামলায় শোন এরেস্ট দেখিয়ে কারাগারে রাখবে। আর সরকারি দলের লোকজন সরকারি খরচে সারাদেশে ভোট চেয়ে বেড়াবে। আর আমরা আইনজীবীরা আদালতেরর দ্বারে দ্বারে ঘুরব।খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমার ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পাঁচ বছরের সাজার ক্ষেত্রে আপিল গ্রহণের সময় জামিন দেওয়া হয়। আদালতের কাছে সরকারের একটি বক্তব্য থাকে, সাজাপ্রাপ্তের বিচারিক আদালতে জামিনে ছিল কিনা,পালিয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা রয়েছে কিনা ও মামলাটি কতটা গ্রহণযোগ্য। আমার মনে হয়েছে, খালেদা জিয়ার মামলাটি বিবেচনা করা হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে। হাইকোর্ট তাকে জামিন দেওয়ার পরও আপিল বিভাগের স্থগিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে, আদালতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। কারণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা চলাকালীন বর্তমান সরকার প্রধান বলেছেন, ‘এতিমের টাকা চুরি হয়েছে।’ অথচ আদালতে আমরা দেখিয়েছি, যে টাকা ট্রাস্ট্রের নামে এসেছে তা এখন তিন গুণের বেশি রয়েছে। সুতরাং টাকা আত্মসাৎ হয়নি। আর খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে আত্মসাতে সহযোগিতার জন্য।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১