রাজনীতি | The Daily Ittefaq

কোনো কিছুই গায়ে লাগছে না, ভাগ্য ভালো হলে দেশত্যাগ করুন: ড. কামাল

কোনো কিছুই গায়ে লাগছে না, ভাগ্য ভালো হলে দেশত্যাগ করুন: ড. কামাল
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৭ মে, ২০১৮ ইং ২০:৫৫ মিঃ
কোনো কিছুই গায়ে লাগছে না, ভাগ্য ভালো হলে দেশত্যাগ করুন: ড. কামাল
গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিক জনগণ। সেই জনগণই আজ বড় অসহায়। হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও পাচার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জনগণ কিছু করতে পারছে না। সবাই এত কথা বলছে, কোনা কিছুই তাদের গায়ে লাগে না। এই গায়ে না লাগানো এমন পর্যায়ে চলে গেছে, সেখান থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ওরা যতোই ভাব করুক যে, কিছুই গায়ে লাগছে না তাদের, শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে বলবো ভাগ্য ভালো থাকলে সময় থাকতে দেশত্যাগ করুন। নইলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। যা অতীতে বহুবার আমরা দেখেছি। 
 
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া আয়োজিত ‘সর্বগ্রাসী লুণ্ঠন বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
ড. কামাল বলেন, সংবিধানে বলা আছে- জনগণের পক্ষে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ঘরে-ঘরে, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বলতে হবে, আগামীতে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করবো যারা হবেন আমাদের সত্যিকারের প্রতিনিধি। যারা টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনেন তারা যেন আমাদের প্রতিনিধি না হন। যারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনেন ও বিনা ভোটে এমপি হন তারা আমাদের প্রতিনিধি হতে পারেন না। যারা বলছেন তারা গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সঙ্গে তাদের কি সম্পর্ক আছে? 
 
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল- জনগণ হবে দেশের মালিক, দেশে গণতন্ত্র থাকবে। আগামীতেও যেন বিনা ভোটে এমপি ও সরকার হতে না পারে সেজন্য জনগণকে মালিকের ভূমিকায় আসতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।
 
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক বলেন- আগে শুনতাম, ১, ২ বা বড় জোর ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতি বা পাচার হয়েছে। এখন শুনি হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে মরহুম কোকো ২/৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। সিঙ্গাপুর থেকে তার সেই টাকা ফেরৎ আনা হলো, আমরা সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। এখন শুনি সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাও নাকি কোনো টাকা নয়। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হলেও সেসবের কোনো তদন্ত নেই। আমরা এত বলছি, কিন্তু তাদের চামড়া যেন মহাগ-ারের। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদকে ইঙ্গিত করে ড. কামাল বলেন, পদত্যাগ করে উনি নিরাপদে চলে যান। ভাগ্য ভালো বলে তার বিচার হয়েছিল, জেল খেটেছিলেন। কিন্তু সেদিন রাস্তায় সবার হাতে লাঠি ছিল। জনগণের চোখ ছিল গাছের দিকে, পদত্যাগের পরপর ধরতে পারলে জনগণ তাকে গাছে লটকিয়ে দিত। কিন্তু এই ব্যক্তির এখনও কোনো শিক্ষা হয়নি। মাঝেমধ্যে উনি কিছু উচিত কথা বলেন। পরদিন ওনার মামলার তারিখ পড়ে। আবার তিনি নিরব হয়ে যান। কিছুদিন পর আবার কথা বলতে শুরু করেন। ড. কামাল আরও বলেন, এসব থেকে কেউ শিক্ষা নিচ্ছে না। ভবিষ্যতে যে কারও ২০/২৫ বছর জেল হবে না সেটির কি নিশ্চয়তা আছে?
 
আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে ড. কামালের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর বলেন, বিচারক, সাংবাদিক সবাই আজ চাপের মুখে। রাজনীতিকরা আছে মহাচাপে। বিনাভোটের এই সরকার মহাজোটের নয়, এটা মহালুটপাটের সরকার। 
 
গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমাদের স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবই আজ লুণ্ঠিত। নিরবে আমরা সবকিছু হজম করছি। একশ্রেণীর লোক মহাআনন্দে লুট করছে। মুক্তিযুদ্ধে চেয়েছিলাম ন্যায়, সুশাসন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র। আজ চলছে অন্যায়, কুশাসন ও একদলীয় শাসনব্যবস্থা। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ.ব.ম মোস্তবা আমীন বলেন, সর্বক্ষেত্রে আজ সীমাহীন লুটপাট। যারা লুট করছে তারাও এটা স্বীকার করে। উন্নয়নের কথা বলে ধাপ্পাবাজি করা হচ্ছে, উন্নয়ন হয়েছে ব্যক্তিবিশেষের আর দুর্নীতির।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮