রাজনীতি | The Daily Ittefaq

খুলনা সিটি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি

খুলনা সিটি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৬ মে, ২০১৮ ইং ১৪:১০ মিঃ
খুলনা সিটি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি
 
জালভোট ও কারচুপির অভিযোগ এনে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। একই সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।
 
বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
 
খুলনা সিটি নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেন।
 
রিজভী বলেন, নির্বাচনে এক নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির দক্ষ যজ্ঞ জনগণ প্রত্যক্ষ করলো। ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা যেভাবে নিগৃহীত হয়েছেন তা কোন সুস্থ নির্বাচন পদ্ধতি হতে পারে না। ভোটের দিন নৌকার প্রার্থীর লোকজনদের ছিল সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা। গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা লাইন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট প্রদান করে। অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিং’ এ সহায়তা করে। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে।
 
তিনি অভিযোগ করেন, ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার লজ্জায় গণমাধ্যমের সামনে না আসলেও ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন-খুলনা চমত্কার ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। উনি ঠিকই বলেছেন উল্লিখিত ভোটের পরিবেশই হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন-যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া ছেলে একই সঙ্গে বাবার সাথে ভোট দিতে পারে, কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়, পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উত্সব চলে, ভোটার’রা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়, কেন্দ্র দখল করে আধা ঘণ্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়, তারা বলেছে টার্গেট ১২০০-আধাঘণ্টা তো লাগবেই, ভোট কেন্দ্রের বাইরে মুখোশ-ধারীরা বাছাই করে করে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে ভোট নেয়া হয়, কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জাল-ভোটের উত্সব চলে সেরকম নির্বাচনকে তো চমত্কার বলবেনই নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন বলেছে যে, ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৬৫ শতাংশের ওপরে। তিনি বলেন, সেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ্য নেই আর যোগ্যতাও নেই।
 
রিজভী বলেন, চিকিত্সা দিতে অগ্রাহ্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় বেগম জিয়া সরকার প্রধানের হিংসার সম্মুখীন। বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে তাঁর জীবনযাপন ও রাজনীতি থেকে দুরে সরানোর দীর্ঘদিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা। সরকারের উদ্দেশ্য অশুভ, অমানবিক ও ব্যক্তির মানবাধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা। চিকিত্সা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদাসীনতা ও উপেক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার কোনোরূপ ক্ষতি হলে সরকার কোনভাবেই রেহাই পাবে না।
 
ইত্তেফাক/এএম
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪