রাজনীতি | The Daily Ittefaq

জামিন পেলেও সহসাই মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার

জামিন পেলেও সহসাই মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার
আরো ৬ মামলায় নিতে হবে জামিন ** ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৭ মে, ২০১৮ ইং ০২:৫৮ মিঃ
জামিন পেলেও সহসাই মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম  খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্ট এই মামলায় তাকে চার মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল। ওই জামিন বাতিল চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেন। এদিকে জামিন পেলেও সহসাই কারামুক্তি পাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপার্সন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় তিনি জামিনে নেই। এসব মামলার মধ্যে কুমিল্লায় ৩টি, ঢাকায় ২টি ও নড়াইলে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এগুলোতে জামিন পেলেই তিনি কারামুক্তি পাবেন বলে জানান আইনজীবীরা। অপরদিকে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরই হাইকোর্টে আপিল শুনানির জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে। আপিল নিষ্পত্তির জন্য যে আদেশ দেয়া হয়েছে তাতে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে বিচারকাজ বিলম্বিত করতে পারবেন না। কারণ তিনি নয় বছর ধরে নিম্ন আদালতে মামলাটি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।
 
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। আপিলে নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল করে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। গত ১২ মার্চ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয়। এই জামিন বাতিল চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর গত ৮ ও ৯ মে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ১৫ মে রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেয় আদালত। কিন্তু ওইদিন অসমাপ্ত বক্তব্য রাখার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল আবেদন জানালে রায় ঘোষণা একদিন পিছিয়ে পরদিন ধার্য করা হয়। সেই মোতাবেক গতকাল সকাল ৯টা ৫ মিনিটে এজলাসে আসেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি। এরা হলেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। এরপরই প্রধান বিচারপতি দুটি আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।
 
সরকার নানা কৌশলে মুক্তি বিলম্বিত করার চেষ্টা করবে: ব্যারিস্টার মওদুদ
 
রায়ের পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জামিন পেলেও এখনই খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কিছুটা বাধা আছে। কারণ সরকার নানা কৌশলে তার মুক্তি বিলম্বিত করার চেষ্টা করবে। নিচের আদালতের কতগুলো মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে। এসব মামলায় জামিন নিতে হবে। সেই জামিন নিতে যতটুকু সময় লাগে সেই সময়টুকু পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আপিল বিভাগ জামিন বহাল রাখায় নিম্ন আদালতে জামিন পেতে আর অসুবিধা হবে না। সুতরাং খুব শিগগির চেষ্টা করব ওই মামলাগুলোতে উনার জামিন নিতে। জামিনগুলো পাওয়ার পরে খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি সম্ভব কি না জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, শুনানি শুরু হলে তখন বোঝা যাবে। শুনানির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তখন বোঝা যাবে কতদিন লাগবে, এটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।
 
আপিল শুনানির প্রস্তুতি নেব: অ্যাটর্নি জেনারেল
 
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়ায় আমরা এটার শুনানির ব্যাপারে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি নেব। কারামুক্তির কোনো সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, একজনের বিরুদ্ধে যদি পাঁচটি মামলা থাকে, সেখানে একটি মামলায় জামিন পেলে অন্যান্য মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাকে জেলেই থাকতে হবে। তবে তার নামে কয়টি মামলা আছে, কোন কোন মামলা কি অবস্থায় আছে, সেটি তো আমি বলতে পারব না। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তাঁর আইনজীবীরা বলতে পারবেন।
 
দলবল দেখে আদেশ দেই না: আপিল বিভাগ
 
আপিল বিভাগের রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের অনুলিপি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি এ আবেদন জানিয়ে বলেন, আপনারা জামিন বহাল রেখেছেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত তার জেলে থাকাটা বেআইনি। ফলে জামিননামা দাখিলের জন্য জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিয়া তো আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন। এ পর্যায়ে আপিল বিভাগ বলেন, এ ধরণের সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার নজির নেই। এ ধরনের আবেদন গ্রহণের কোনো বিধানও আপিল বিভাগের রুলসে নেই। আবেদন প্রত্যাখান করা হলো। এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা চাইলে তো দিতে পারেন। আমি দলবল নিয়ে আসিনি, একা এসেছি। আপিল বিভাগ বলেন, এটা কেমন কথা! দলবল নিয়ে আসলেই কি আমরা আদেশ দিয়ে দেই? দলবল দেখে আদেশ দেই না। আপনি আমাদের জোর করতে পারেন না। এ পর্যায়ে ওই আইনজীবী তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭