রাজনীতি | The Daily Ittefaq

ভারতের কাছে একতরফা নির্বাচনের গ্যারান্টি চাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা: রিজভী

ভারতের কাছে একতরফা নির্বাচনের গ্যারান্টি চাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা: রিজভী
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৫ জুন, ২০১৮ ইং ১৭:২৬ মিঃ
ভারতের কাছে একতরফা নির্বাচনের গ্যারান্টি চাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা: রিজভী
ফাইল ছবি
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছে আবারও একতরফা নির্বাচন করার গ্যারান্টি চাচ্ছেন। সম্প্রতি ভারত সফরে তার দেয়া বক্তব্যে এমনটিই পরিষ্কার হয়েছে। 
 
রিজভী বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে ফিরে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি তা ভারত সারাজীবন মনে রাখবে- আমরা কিন্তু তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি, আমরা কোনো প্রতিদান চাই না।’ অন্যদিকে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদান চেয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই যদি হয়ে থাকে তবে জনগণের জানার অধিকার আছে যে, ভারতের কাছে কী প্রতিদান চাওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে কী আশ্বাস পাওয়া গেছে?
 
মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, সামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম, উলাম দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। সেজন্যই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় আটকে রেখেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সে ইচ্ছা পূরণ হবে না। মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে আর তা হবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই।
 
রিজভী বলেন, বছর খানেক আগেও প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একগুঁয়েমির অজুহাত দেখিয়ে তিস্তার পানির কোন প্রাপ্তিই ঘটেনি। সেসময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬২ দফার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছিল, সেখানে চুক্তি ও সমঝোতার স্মারকের সংখ্যা ছিল ২২টি। অথচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে টু শব্দটিও করেনি এবং যৌথ বিবৃতিটিও প্রকাশের কোনো আগ্রহ দেখাননি। কোনোকিছু ঢাকতে গেলে ঢাকনীর ভেতর থেকে কোনো না কোনোভাবে গোপন বিষয়টি বেরিয়ে আসবেই। স্বাধীন দু’টি দেশের মধ্যে সহযোগিতায় উভয় পক্ষের প্রত্যাশা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রাপ্তি শুভঙ্করের ফাঁকি আর ভারতকে সব দিয়ে দেয়া হয়েছে উজাড় করে।
 
তিনি বলেন, আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে ‘হাসিনা জানিয়েছেন তার সরকার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লিকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই।’
 
আসলে প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে- শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন একতরফা করতে গ্যারান্টি চাচ্ছেন ভারতের কাছ থেকে, এটাই একমাত্র প্রতিদান আশা করেন ভারতের কাছ থেকে, অন্য কিছু নয়। যদিও ওই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে নিজেদের উন্নত দেশে উত্তরণ ঘটাতে শেখ হাসিনার স্বপ্ন বা দৃশ্যকল্প বাস্তবায়নে ভারত তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। অতএব শেখ হাসিনার শান্তিনিকেতন সফর মহিমামণ্ডিত, এক অভূতপূর্ব প্রতিদানের কাব্যিক আলেখ্য, ভোট ছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা পেলেন কী পাশ্ববর্তী দেশ থেকে?
 
রিজভী বলেন, ভারত তাদের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু জনসমর্থনহীন একটি সরকারকে টেকানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকারকে অবজ্ঞা করছে- যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে যে, তারা যদি বাংলাদেশের জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনাকে ঠেকাতে ভ্রান্তনীতি গ্রহণ করে, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে তাতে বাংলাদেশের জনগণের মনে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নই হবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেই জনগণের কাছে বিবেচিত হবে।
 
রিজভী আরো বলেন, ‘আর বাংলাদেশের প্রতি ভারতের এই নীতি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে শুধু ভারতের পশ্চিমে নয়, পূর্বে স্বাধীন বাংলাদেশেও কাশ্মীরের ন্যায় পরিস্থিতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করা ভারতের জন্য কী উচিৎ হবে? মনে রাখা দরকার মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নিলে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত খোলা থাকবে অথচ ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া উঠবে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে বাংলাভাষীদের ঠেলে দেয়ার টালবাহানা, তিস্তার আশ্বাস ঝুলে থাকা, বিপর্যস্তকর রোহিঙ্গা সংকটে ভারতের সহানুভুতি না পাওয়া- এভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হয় না। ভারতের পত্রিকায় যে প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত।
 
রিজভী আরো বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের গণতন্ত্র এখন সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, অর্থনীতিও যথেষ্ট শক্তিশালী।’ আসলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা। আমি বলব এগিয়ে যাচ্ছে তবে তা পিছনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক এখন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন শুধু সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ডে শোভা পায়। দেশে সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক মিলে ৮৫ হাজার কিলোমিটার সড়কে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কের খানাখন্দ আর দুর্ভোগের আশংকায় লাখ লাখ মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারবে কিনা চিন্তিত। তারা বিকল্পভাবে বাড়ি যেতে ট্রেনের টিকিটের পিছনে ছুটছে, সেখানেও পাচ্ছে না কাঙ্খিত টিকিট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনা এবং প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০জন লোক সড়কে নিহত হচ্ছেন। সরকারের বেপরোয়া লুটপাটের নীতির কারণেই সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশা কাটছে না, ঈদের প্রাক্কালে ঘরে ফিরতে চরম দুর্গতির জন্য এই সরকারের প্রতি ধিক্কার জানাই। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮