রাজনীতি | The Daily Ittefaq

লর্ড কার্লাইলকে কেন বাংলাদেশের ভিসা দেয়া হলো না: ড. মঈন

লর্ড কার্লাইলকে কেন বাংলাদেশের ভিসা দেয়া হলো না: ড. মঈন
ইত্তেফাক রিপোর্ট১২ জুলাই, ২০১৮ ইং ১৮:০৭ মিঃ
লর্ড কার্লাইলকে কেন বাংলাদেশের ভিসা দেয়া হলো না: ড. মঈন
ফাইল ছবি
যেকোনও ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পাশাপাশি আইনি সেবা পাওয়ারও অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ভারত না হয় ভিসা দেয়নি, কিন্তু বেগম জিয়ার ব্রিটিশ আইনি পরামর্শক লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইল বাংলাদেশের ভিসা কেন পেলেন না? তাকে কেন বাংলাদেশে আসতে দেয়া হলো না? আমি সরকারের কাছে জবাব চাই। এখানে তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
 
মঈন খান বলেন, স্বাস্থ্য ও আইনি সেবা পাওয়া যেকোনও রাষ্ট্রের যেকোনও মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বে স্বীকৃত। যদি কাউকে কখনও কোনও মামলায় কারাগারে যেতে হয়, কোনও মামলায় অভিযুক্ত হতে হয়- তবে সেই ব্যক্তি চাইলে আইনি অধিকার অনুযায়ী বিদেশি আইন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে পারেন। আর যতক্ষণ না পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই আইন বিশেষজ্ঞকে না পান ততক্ষণ পর্যন্ত মামলার বিচারকাজই শুরু করা যাবে না। এই আইন সংসদে পাস করতে হয় না। এটা প্রকৃতির আইন। মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন এই অধিকার নিয়েই সে জন্মগ্রহণ করে।
 
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক এক আলোচনায়  সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
আবদুল মঈন খান বলেন, অনেকে বলে সরকার নাকি ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। আমি বলছি, তারা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন নয়, ২০০৮ সালের মতো পাতানো নির্বাচন করে বিএনপিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন সরকার তাদের এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পারে।
 
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি আপনাদের ইতিহাস ভুলে গেছেন? টমাস উইলিয়ামকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। সেইদিন কি তিনি বাংলাদেশে এসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে ওকালতি করেন নাই? নিজের ইতিহাস যখন নিজে ভুলে যায়, তার ভবিষ্যৎ কিন্তু ভালো না!
 
আবদুল মঈন খান বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে সরকারকে অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধ্য করা হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠন করা হবে। ইনশাআল্লাহ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হবেন। মঈন খান বলেন, আমরা কোথাও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারি না। জাতীয় প্রেসক্লাব বা দলীয় কার্যালয়ের সামনে যেখানেই যে কর্মসূচি দেয়া হোক না কেন সেখানে সরকার বাধা দিচ্ছে। হোক সেটি কালো পতাকা প্রদর্শন বা অনশন কর্মসূচি। শুধু বিএনপির কর্মসূচি বা বিএনপির ওপর নয়, যারাই আন্দোলন করছে তাদের ওপরই সরকার নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে। কিছুদিন আগেও কোটা আন্দোলনকারীদের কিভাবে হামলা করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে তা দেশবাসী দেখেছে। বিএনপি বা বিরোধী রাজনৈতিক দল নয় সরকারের ভিন্নমতের যারাই কথা বলুক তাদেরই দমন করা হচ্ছে।
 
‘বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না’- ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে মঈন খান বলেন, আমি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে একমত। বিএনপি আওয়ামী লীগ নেতাদের মত লগি বৈঠার আন্দোলন করতে পারে না। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করি। তাই আমাদের আন্দোলন তাদের কাছে পছন্দ হবে না। আমরা আপনাদের একটা চ্যালেঞ্জ করি- আসুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাস্তায় নামুন, আমরাও আসি। দেখি কার আন্দোলন কত বেশি হয়। কারা আন্দোলনে টেকে সেটা রাজপথে নামলেই প্রমাণ হয়ে যাবে। নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে দেখিয়ে দেবো কীভাবে সরকার পতন করতে হয়। সামনে পিছে ডানে বামে পুলিশ, র‌্যাব রেখে বড় বড় অনেক কথা বলা যায়। রাজপথে সাপের মত লাঠি দিয়ে মানুষ পিটিয়ে মারাকে কখনও আন্দোলন বলা হয় না। আমরা তেমন আন্দোলনে বিশ্বাস করি না।
 
ড্যাবের সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২