রাজনীতি | The Daily Ittefaq

৬ দফার ভিত্তিতে জাপা-খেলাফত মজলিস ‘নির্বাচনি সমঝোতা’

৬ দফার ভিত্তিতে জাপা-খেলাফত মজলিস ‘নির্বাচনি সমঝোতা’
ইত্তেফাক রিপোর্ট১১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৮:১৫ মিঃ
৬ দফার ভিত্তিতে জাপা-খেলাফত মজলিস ‘নির্বাচনি সমঝোতা’
প্রয়াত শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ছয় দফার ভিত্তিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দল দু’টি জোটবব্ধ হয়নি, এটিকে ‘নির্বাচনি সমঝোতা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। 
 
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এই নির্বাচনি সমঝোতা অনুষ্ঠানটি হয়।
 
সমঝোতা স্বাক্ষর শেষে আগামী নির্বাচনে জাপা কার সঙ্গে জোট করবে- সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমরা এখন তিনশ আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে ভবিষ্যতে কি হবে জানি না। রাজনীতিতে অনেক কথা হয়, অনেক খেলা হয়, কী হবে জানি না, কার সঙ্গে যাব এখন সঠিক বলতে পারব না।’ ‘গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের কাছে জাপা একটি প্রার্থী তালিকা পাঠিয়েছে’- এই প্রশ্নের জবাবে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাছে কোনো তালিকা গেছে বলে আমি জানি না। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো তালিকা যাবে না, যদি যেতে হয় আমি একাই যাব।’
 
বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আগামীতে কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা জানে কমিশন। আমরাই তার (সিইসির) নাম প্রস্তাব করেছিলাম। উনি সহজ-সরল মানুষ। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করি না। আশা করি এই কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
 
খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ছয় দফার চুক্তির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করা, সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি পুনঃস্থাপন করা, কওমী শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা, সব ধর্মের লোকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
 
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫৮টি দল নিয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট-ইউএনএ নামে একটি জোট গঠন করেন এরশাদ। এরমধ্যে শরিক হিসাবে রয়েছে ইসলামী মহাজোট, এই জোটটিতেই ৩৪টি দল রয়েছে বলে তখন দাবি করা হয়েছিল। এই ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক  অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ইমামতির জন্য কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন, সেটা এরশাদের আছে। আমরা তাকে আমাদের নেতৃত্ব বা ইমামতির দায়িত্ব দিয়েছি। কারণ, কোনো মহিলাকে ইমামতির দায়িত্ব দেয়া যায় না।’ তার এই মন্তব্যের জবাবে পরে এরশাদ বলেন, ইসলামের চেয়ে বড় শক্তি আর নেই। কিন্তু অনৈক্যের কারণে ইসলাম আজ ধ্বংসের মুখে। ইসলামকে এ দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। খেলাফত মজলিসের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, খেলাফত মজলিস একটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল। তারা আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করায় খুব খুশি হয়েছি। এতে আমরা কত শক্তিশালী হয়েছি পরে বুঝবেন। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। প্রমাণ করব, আমরা ক্ষমতায় আসতে পারি।’
 
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, খেলাফত মজলিসের আমির সিলেটের কাজীরবাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান প্রমুখ। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এসএম ফয়সল চিশতি, সুনীল শুভ রায় ও মেজর (অব.) খালেদ আখতার, কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাহফুজুল হক তার বাবা প্রয়াত শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের বাংলায় অনুবাদ করা কয়েক খণ্ডের বোখারি শরিফ এরশাদকে উপহার দেন। পরে খেলাফত মজলিসের আমির নির্বাচনী সমঝোতার সাফল্য কামনা করে মোনাজাত করেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬