রাজনীতি | The Daily Ittefaq

সরকারকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে: রিজভী

সরকারকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে: রিজভী
ইত্তেফাক রিপোর্ট১১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২০:৩১ মিঃ
সরকারকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে: রিজভী
ফাইল ছবি
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যে আলোচনা হওয়া দরকার সে আলোচনার জন্য আমাদের দল সব সময় প্রস্তুত। আর এ ধরনের সংলাপের ডাক তো বিএনপি সব সময়ই দিয়ে যাচ্ছে। কোনো এজেন্ডা ছাড়া কোনো আলোচনা হতে পারে না। সরকারকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
 
‘শর্ত ছাড়া রাজি হলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। 
 
তিনি বলেন, শূন্য টেবিলে তো আর আলোচনা হয় না। আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হবে। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে বিরোধীদল গুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তারা যদি এটা না চায় তাহলে বুঝতে হবে তাদের মন স্বচ্ছ না। তাদের মন সাদা নয়, ধূসর। 
 
তিনি আরো বলেন, জাতীয়তাবাদের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী করে রাখবেন আর নির্বাচনের কথা বলবেন সেটা কীভাবে হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ এই কমিশন নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
 
রিজভী বলেন, বিএনপি সব সময় অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। শুধু অংশগ্রহণমূলক হলেই হবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এসব বিষয়ে সমাধান না হলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপিও সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। 
 
রিজভী বলেন, পরিবহন সেক্টরের অরাজকতার দায়ী নৌমন্ত্রীসহ এ সেক্টরের গডফাদাররা মাফ পেয়ে যান আর শিক্ষার্থীরা ন্যায়ের আন্দোলনের জন্য সরকারি জুলুমের শিকার হন। যে নির্দোষ শিক্ষার্থীরা ব্যতিক্রমধর্মী এবং সকলের চোখ খুলে দেওয়ার মতো আন্দোলন করে মানুষের বিবেককে জাগিয়েছে তারাই এখন রিমান্ডে ভোগ করছে সরকারি উৎপীড়ন অথচ দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বার বার সাধারণ ক্ষমা পেয়েছে এ সরকারের আমলে। 
 
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না,ছিল নিরাপদ সড়কের দাবিতে অথচ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হলো ছাত্রলীগ-যুবলীগ আর বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকদের । অথচ এ শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন চলাকালে পথচারিদের বলেছে ওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার করতে, গাড়ির চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখতে। লোক দেখানো  খসড়া আইন যে একটা শুন্যকুম্ভ সেটা এখন প্রতিমুহুর্তে তার আলামত দেখা যাচ্ছে। 
 
শুক্রবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে একটি বেপরোয়া বাস, যার চালক ছিল হেলপার। আন্দোলন দমানোর নামে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন বেপরোয়া চালকদের আরো বেশি বেপারোয়া করেছে। সড়কে নৈরাজ্য আর ভোগান্তি আরো বেড়েছে। 
 
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেফতার নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে শহিদুল আলমের উপর অকথ্য পুলিশি নির্যাতনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পুলিশ কাস্টডিতে শারীরিক নির্যাতনের পক্ষে কথা বলে সংবিধান ও উচ্চ আদালতের রায়কে অবজ্ঞা করলেন জয়।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭