রাজনীতি | The Daily Ittefaq

দেশে ২০০১ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না: ওবায়দুল কাদের

দেশে ২০০১ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না: ওবায়দুল কাদের
সিলেট অফিস৩০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২২:৪২ মিঃ
দেশে ২০০১ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে ২০০১ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। এই স্বপ্ন যারা দেখেন তারা বোকার স্বর্গে আছেন। তিনি বলেন, হাওয়া ভবনের মালিক তারেক রহমান, খালেদা জিয়া, নিজামীরা ২১ আগস্টের ঘটনা ঘটায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে। ২১ আগস্টের ঘটনার জন্য মীর্জা ফখরুলও নাকি বিচার চান। ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন করে বলেন, তিনি কার কাছে বিচার চান?

তিনি বলেন, আমরা সংলাপের বিরুদ্ধে নই। তবে কার সঙ্গে সংলাপ? শেখ হাসিনা কি খালেদা জিয়াকে সংলাপের প্রস্তাব দেন নি এমন প্রশ্ন করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার সংলাপ দেখেছেন আপনারা টেলিভিশনের মাধ্যমে। ছোট ছেলের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা কি খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে তাঁর বাসায় যান নি ? সে সময় খালেদা জিয়া বাড়ির দরোজা বন্ধ রেখে শেখ হাসিনাকে সান্ত্বনা দিতে দেন নি। সেদিনই সংলাপের দরোজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগস্ট এলেই আমাদের বেদনার অশ্রু ঝরে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। দুচোখে নামে অশ্রু ধারা। আবেগের অশ্রু বারেবারে গলে পড়ে। বিশ্বাসঘাতকতা ও যড়যন্ত্রের কারণে ঘটে হত্যাকাণ্ড। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে পুরস্কৃত হয়েছিল কারা? কারা হত্যাকারীদের বিদেশে পাঠিয়েছিল? কারা দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল তাদের? ইন্ডিমিনিটি জারি করেছিল কে? ২১ আগস্টে হামলার সময় কে ক্ষমতায় ছিল?

হাওয়া ভবনের যুবরাজ কে ছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হাওয়া ভবনে এই হামলার পরিকল্পনা হয়। পরবর্তীতে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়। এই ঘটনার এফবিআই তদন্তে এসে ফিরে যায়। এই হত্যাকাণ্ডের সব আলামত নষ্ট করেন তৎকালীন ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলে অভিযোগ করেন কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও আইভি রহমান সেদিন রক্ষা পাননি। কাদের কারণে এতোগুলো প্রাণ সেদিন চলে গেলো? সেদিনের এই হত্যাকাণ্ডের দায় কি বিএনপি অস্বীকার করতে পারে? তারেক রহমান কি এর দায় এড়াতে পারে ?

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হসিনার সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা দেশের জনগণের রায়কে সম্মান করি। সিলেট সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল কোন ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয় এবং তাই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জনগনের রায় মেনে নিয়েছেন। তিনি ইভিএম ভোট সম্পর্কে বলেন, এই পদ্ধতিতে সুষ্টু ও দ্রুত ভোট হয়।

তিনি বলেন সিসিক নির্বাচনে যারা আত্মবিনাশী কাজ করেছেন তাদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে। আমি সিলেটে কেবল ভাষণ দিতে আসিনি, নির্বাচন নিয়ে যে সকল অভিযোগ উঠেছে সেগুলোকে খতিয়ে দেখতে এসেছি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, এনামুল হক শামিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সিলেট-৩আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. লুৎফুর রহমান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা স্বপরিবারে হত্যা করেছে এবং ২১ আগস্টের নায়কদের বিচারের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দেশ থেকে চিরতরে হত্যার রাজনীতি বন্ধ চায় দেশের জনগণ। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ১৫ আগষ্ট ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যা ঘটনার নায়কদের যারা পুরষ্কৃত করলো তাদের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূণ্য করতে ঘটানো হয় ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড। কিন্তু আল্লাহর অশেষ দয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা বেচে আজো বেঁচে আছেন। এসব হত্যার রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের তিনি বিচারের দাবি জানান। সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি আর মনোনয়ন চাইবো না, বেইমানি-মুনাফিকি প্রতিহত করে নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করবো’

সভাপতির বক্তব্যে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আমি আর কাঁদতে পারি না। আমি কাঁদলে মানুষ কাঁদে। আমাকে ক্ষমা করে দিবেন, আমি আপনাদের বিজয় এনে দিতে পারি নি। আমার আর মনোনয়নের দরকার নেই। আমি আর মনোনয়ন চাইবো না। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যেতে চাই। জাতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বলতে চাই বেইমানি-মুনাফিকি প্রতিহত করে নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করবো। যখন যে নির্দেশ দিবেন সেই নির্দেশ পালনে চেষ্টা করবো।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭