রাজনীতি | The Daily Ittefaq

আইভি রহমানের মরদেহ দেখে চোখের পানি সামলাতে পারিনি: মওদুদ

আইভি রহমানের মরদেহ দেখে চোখের পানি সামলাতে পারিনি: মওদুদ
ইত্তেফাক রিপোর্ট১২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৯:৩৫ মিঃ
আইভি রহমানের মরদেহ দেখে চোখের পানি সামলাতে পারিনি: মওদুদ
জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ছবি: ফোকাস বাংলা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আমায় অনেক স্নেহ করতেন। তার স্ত্রী আইভি রহমানের মরদেহ দেখে চোখের পানি সামলাতে পারিনি। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে। এ ধরনের ঘটনাকে আমরা ঘৃণা করি। মওদুদ অভিযোগ করেন, গ্রেনেড হামলার পর আওয়ামী লীগ তৎকালীন সরকারকে কোন সহযোগিতা করেনি। তবে ২১ আগস্টের ঘটনায় আমরা খুব মর্মাহত হয়েছি। এ ধরনের ঘটনা আর যেন বাংলাদেশের মাটিতে না ঘটে সেটাই আমরা কামনা করি। এ ধরনের ঘটনাকে ঘৃণা করি আমরা। কিন্তু এই মামলায় যিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না তাকে আজকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায় সরকার।
 
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট সাজানো মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বাতিল ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
মওদুদ আহমদ বলেন, রায়ের কারণে সরকার মনে করছে যে, আমাদের যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া করতে যাচ্ছি। এটাকে ব্যাহত করা হবে। আমি বলবো, এই রায়কে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে, উপেক্ষা করে এবং কোনও গুরুত্ব না দিয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে। খুব শিগগিরই আমরা এটার একটা রূপরেখা দিবো এবং এই আন্দোলনের একটা কাঠামো ঘোষণা করবো। এরপর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে এই সরকারের পতনের ব্যবস্থা করবো। বর্তমান সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে। সরকার যত কথাই বলুক না কেনো, যত পোস্টার লাগাক না কেনো, যত ট্রেন জার্নি, যত পদযাত্রা করুক, যত নির্বাচনী প্রচারণা করুক, যতই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিক না কেনো অবশ্যই তাদের সংলাপে আসতে হবে।
 
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একমাত্র পথ হলো রাজপথ। রাজপথ ছাড়া বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। তাই এখন আপনারা প্রস্তুতি নেন। সময় এসেছে, মাঠে নেমে দাবি আদায় করতে হবে।
 
মওদুদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে খুশি করছে। এমনকি যারা অবসরে গেছে এবং পেনশনের টাকা নিয়ে নিয়েছে তাদেরকেও আবার নতুন করে পেনশন দিচ্ছে। এতে যদি কিছু ভোট তারা পায়! এ ভোট পাওয়ার জন্য কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়ে দিল। এই ভোট পাওয়ার জন্য প্রত্যেকদিন তারা প্রকল্প উদ্বোধন করছে। এগুলো হলো নির্বাচনী প্রকল্প, দেশের মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য করছে। কিন্তু এদের ৮০ ভাগও যদি ভোট দিতে যায়, তবে তারা যে তাদের ভোট দেবে না এটা আওয়ামী লীগ জানে না।
 
তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের মামলায় প্রথম চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম ছিল না। মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তিমূলক যে বক্তব্য দিয়েছিল সেখানে তার নাম ছিল না। এফবিআইয়ের রিপোর্টে ছিল না,ইন্টারপোলের রিপোর্টে ছিল না। এ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একটা বিতর্কিত ব্যক্তিকে দিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। অত্যাচার করে মুফতি হান্নানের কাছ থেকে জোর করে তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করিয়েছিল। মুফতি হান্নান আদালতে বলেছে, তার কাছ থেকে জোর করে তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করানো হয়েছে। সে তারেক রহমানকে চেনেও না। কোনো দিন সাক্ষাৎ পায়নি তার। 
 
মওদুদ আরও বলেন, এ বেইআইনি রায় দিয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পদত্যাগের কথা বলছে। কেন তারেক রহমান পদত্যাগ করবেন। এ রায়টাই তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যে রায়টি আমরা গ্রহণ করিনি, যে রায়কে আমরা নিরপেক্ষ মনে করি না। আমরা যাকে নেতা মনে করি, তাকেই নেতা মনে করব।
 
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবির মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, জিয়া পরিষদের অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদার, অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ড. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬