অণুগল্প বোনাস প্রিয়তম
আতা সরকার২১ জুন, ২০১৭ ইং
অণুগল্প বোনাস প্রিয়তম
লোকটা জবুথবু দাঁড়িয়ে। লক্কড়-ঝক্কর ভক্সওয়াগনে হেলান দিয়ে। তেজগাঁ সাত রাস্তার মোড় থেকে একটু পিছিয়ে—যেখান থেকে ফ্লাইওভারের উড়াল মিন্টু রোডে। এর খানিকটা দূরে ঝকঝকে এক আপিস থেকে বেরিয়ে এল স্যুটেড-বুটেড ভদ্রলোক। ড্রাইভার দাঁড়িয়ে এক চকচকে দামি জিপের ডোর খুলে। ওঠার জন্য পা বাড়িয়েছিল ভদ্রলোক। নজর গেল ভগ্ন-দশা লোকটার দিকে। মৃদু হাসি খেলে গেল ঠোঁটে। জিপে না উঠে এগিয়ে এল লোকটার দিকে। ডাকল: কী হে, খবর-টবর কী? রাস্তার পাশে? দাদার আমলের এই গাড়িটা দেখি এখনো আছে! বিগড়ে গেল নাকি?

লোকটা সিধে দাঁড়াল। ঠোঁটে কষ্ট-হাসি। বলল: গাড়ির সার্ভিস এখনো ঝিকঝিক। মাঝখানে অচল আমি নিজেই।

: কেন?

: ঝামেলায়।

: সে কী! এত রমরমাতেও! ঝামেলা কোথায়? সামনেই তো ঈদ। মন খুলে আনন্দ করো।

: ঈদের আনন্দেই তো আাাছি। সাথে জুটছে বোনাসের নগদ ইট-পাটকেল।

: তোমার ড্রাইভার কোথায়? নাকি নিজেই চালাচ্ছ?

: আমাকেই এখন চালায় কে? ড্রাইভার এখানে গাড়ি থামিয়ে পার্কিং স্ট্রাইকের হুমকি দিয়েছে।

: মানে? কেন?

: এবারের ঈদে তার ডাবল বোনাস চাই। ঈদের জন্য নিয়মমাফিক উত্সব বোনাস। এর সাথে ওভারটাইম বোনাস—শুধু ওভারটাইমে তার পোষাচ্ছে না।

ভদ্রলোক সাথে সাথে ঠোঁটে তর্জনী ছোঁয়াল। ফিসফিস বলল: আস্তে, আমার ড্রাইভারও তাহলে বুদ্ধি পেয়ে যাবে।

লোকটির ঠেঁটে বাঁকা হাসি। বলল: ইকোনমিস্ট বন্ধু আমাদের, তোমরা গবেষণা করে আমাদের খরচাপাতি আর্থিক দুর্ভোগ বাড়াতে ওস্তাদ। এবার বোনাস কালচার নিয়ে রিসার্চ কর। আনকোরা নতুন সাবজেক্ট। আমাদের দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পেয়ে যায়, আর বোনাস কালচারের স্বরূপ ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গবেষণায় কিছু একটা পেয়েও যেতে পার।

ভদ্রলোক সান্ত্বনার হাত রাখল লোকটির কাঁধে। বলল: খুব খেপে আছ?

: তাতেও ভয়—ওর জন্যও যদি বোনাস দিতে হয়। ট্যাক্সের মতো। ঘর থেকে বেরিয়ে এখানে আসতে আসতে গাঁটে গাঁটে কত যে বোনাসের কবলে পড়েছি! ঠেকেছি এখানে এসে। এই রাস্তায়।

: রাস্তাটা তো আর বোনাস চাইছে না।

: তারও দাবি আছে। তোমাদের এই মহাসড়কও বোনাস দাবি করে বসেছে।

: মহাসড়ক? কী করে?

: তার পক্ষে বোনাস চেয়েছেন যান নিয়ন্ত্রক। ঈদের বোনাস চাই তার—রাস্তায় গাড়ি চালালে। আপত্তি জানালে গাড়ির কাগজপত্র দেখার নাম করে নিয়ে গিয়েছে। অগত্যা ড্রাইভারকে পাঠিয়েছি তার পেছনে পেছনে। আগে আশ্বাস দিয়েছি ড্রাইভারকে। তারপর তাকে দিয়ে বোনাস পাঠিয়েছি মহাসড়ক স্যারের জন্য।

: বাপারটা তাহলে মিটেই যাচ্ছে।

লোকটি হতাশ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: কে জানে! এরপর তো উঠব এই ফ্লাইওভারে। তাকিয়ে দেখো কেমন হা করে আছে। ইনি কোন্ ধরনের বোনাস যে দাবি করবেন কে জানে।

অমায়িক হাসি ইকোনমিস্টের মুখে। বলল: ধীরে বন্ধু, ধীরে। মনটাকে শক্তপোক্ত কর। তোমাকে আরো অনেক বোনাস গুনতে হবে। নিত্য দিন। ক্ষণে ক্ষণে। পনেরো পারসেন্ট ভ্যাট।

লোকটি কি বিষণ্ন হয়ে উঠল? তার উদাস দৃষ্টি এখন ফ্লাইওভার ছাড়িয়ে আরো উপরে। আনমনায় বলল: ফ্লাইওভার ছাপিয়ে আরো উপরে কি উড়াল দিতে হবে?

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন