মনীষী
কুড়ি ও একুশ শতকের সেরা জিনিয়াস, বিদায়!
লুত্ফর রহমান রিটন১৮ মার্চ, ২০১৮ ইং
কুড়ি ও একুশ শতকের সেরা জিনিয়াস, বিদায়!
 

পৃথিবী ও মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিস্ময়কর মেধাবী পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ছিলেন সেরাদের সেরা। তাঁর লেখা ‘আ ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম’ বইটির কল্যাণে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। কোটি কোটি কপি মুদ্রিত হয়েছে বইটির। বেস্ট সেলার তালিকার শীর্ষে ঠাঁই পেয়েছিল ‘আ ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম’।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য ‘বিগ ব্যাং থিউরি’র প্রবক্তা হিসেবে সায়েন্স কমিউনিটি ছাড়াও জগেজাড়া তাঁর ছিল বিপুল গ্রহণযোগ্যতা। বলা হয়ে থাকে আইনস্টাইনের পরেই তাঁর স্থান।

সেলিব্রেটিদের সেলিব্রেটি ছিলেন নড়াচড়ায় অক্ষম অসাধারণ বিস্ময়কর প্রতিভাধর এই মানুষটি। কথা বলতে পারতেন না হকিং, কিন্তু কমিপউটারের মাধ্যমে হুইল চেয়ারে বসে থাকা তাঁর ভাবনাগুলো যান্ত্রিক উচ্চারণে শোনা যেত। গান প্রিয় মানুষ ছিলেন হকিং। ভালোবাসতেন ক্লাসিক্যাল সংগীত। পিংক ফ্লয়েডের ‘কিপ টকিং’ শিরোনামের গানটা শুরু হয় একটা যান্ত্রিক ভয়েস দিয়ে, ‘ফর মিলিয়নস অব ইয়ার্স ম্যানকাইন্ড লিভড জাস্ট লাইক দি অ্যানিমেলস। দেন সামথিং হ্যাপেনড হুইচ আনলিশড দ্য পাওয়ার অফ আওয়ার ইমাজিনেশন। উই লারনড টু টক...!’ এই ভয়েসটা স্টিফেন হকিং-এর। পিংক ফ্লয়েডের গানে তাঁর যান্ত্রিক কণ্ঠটাই ব্যবহার করা হয়েছে হুবহু। প্রথমে একটি বিজ্ঞাপনে তাঁর এই যান্ত্রিক কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান থেকে পিংক ফ্লয়েডের গানে।

তাঁর তুল্য কেউ নেই এই পৃথিবীতে। অনন্য তিনি। দুরারোগ্য মটর নিউরন রোগে ভুগছিলেন পঞ্চাশ বছর ধরে। কিন্তু শারীরিকভাবে অক্ষম এই মানুষটি যাবতীয় প্রতিবন্ধিতাকে পরাজিত করেছিলেন অপরূপ মেধার বিস্ময়কর দ্যুতিতে। অকল্পনীয় প্রাণশক্তির উদাহরণও তিনি।

একুশ শতক এক অদ্ভুত টাইমফ্রেম। এই সময়ে পৃথিবীতে গোলাম আযমদের মতো মানবতার শত্রুরা বেঁচে থাকে বিরানব্বই বছর কিন্তু স্টিফেন হকিং-এর প্রয়াণ ঘটে ৭৬ বছর বয়েসেই! হ্যাটস অফ স্টিফেন হকিং! আমরা বেঁচেছিলাম তোমার সময়ে, এও এক মোহনীয় গৌরব।

কুড়ি ও একুশ শতকের সেরা জিনিয়াস, বিদায়! পৃথিবী তোমাকে মনে রাখবে।

অটোয়া ১৪ মার্চ ২০১৮

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৯
যোহর১২:০৭
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১২
এশা৭:২৪
সূর্যোদয় - ৬:০৫সূর্যাস্ত - ০৬:০৭
পড়ুন