আইনের চোখে
দেনমোহর ও ভরণপোষণ
১৮ মার্চ, ২০১৮ ইং
সরদার আবুল হোসেন

ফাহরিয়া ফেরদৌস

 

দেনমোহর ও ভরণপোষণ বিষয়ক মোকদ্দমা নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের প্রশ্ন। এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে খুবই স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন হচ্ছে—এই দেনমোহর ও ভরণপোষণের মোকদ্দমাটি কতদিনের মধ্যে করতে হয়?  

দেনমোহরের বিষয়টি বিয়ের কাবিননামায় লিখিত থাকে। তাই এটি নিয়ে তর্কের সুযোগ নেই। কাবিননামার যে অংশটি বাকি থাকে সেটি অপরপক্ষকে পরিশোধ করতেই হবে। দেনমোহরের মোকদ্দমায় দেনমোহর পাবে কি পাবে না এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এখানে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে যে দেনমোহরের টাকাটা কিভাবে পরিশোধ করা হবে। এখানে বিষয় দুটি—এক. দেনমোহর এবং দুই. ভরণপোষণ। একটি বিয়ে দুইভাবে সমাপ্ত হতে পারে—একটি হচ্ছে আইনগতভাবে বিয়েটির সমাপ্তি হতে পারে; আর অপরটি হলো যে কোনো এক পক্ষের মৃত্যুর মাধ্যমেও বিয়ের সমাপ্তি ঘটতে পারে। উভয়ক্ষেত্রেই নারী তার দেনমোহর ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হবেন না কোনোদিনই! একটি বিয়ে সমাপ্ত হবার পর সেই নারী যদি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারপরও দেনমোহর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না। কোনো নারীর স্বামী যদি মারা যান, তবে সেই মৃতের সমপত্তিতে প্রথম হক তাঁর স্ত্রীর দেনমোহরের, অর্থাত্ ঐ সমপত্তি থেকে প্রথমে স্ত্রীর দেনমোহর আদায় হবে; উপরন্তু ঐ নারী মৃত স্বামীর সমপত্তি থেকে দেনমোহর পাবার পর স্ত্রী হিসেবে সে স্বামীর সমপত্তিতে যে অংশ সেটাও পাবেন। স্ত্রীর দেনমোহর পাবার অংশ কোনোদিনই খর্ব হয় না এবং এর জন্য মোকদ্দমা করার কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই। বাকি থাকল ভরণপোষণ। ভরনপোষণ বিষয়টি যেহেতু অলিখিত থাকে তাই বিজ্ঞ আদালত তা নির্ধারণ করেন সর্বদিক বিবেচনা করে—এখানে মেয়ে ও ছেলের সামাজিক মর্যাদা, আয় এবং দেনমোহর কত তার ওপর নির্ধারিত হয়ে থাকে। দেনমোহরের মোকদ্দমার জন্য নির্ধারিত সময় না থাকলেও ভরণপোষণের মোকদ্দমা করার জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে এবং এর তামাদি অর্থাত্ সময়সীমা তিন বছর।     

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৯
যোহর১২:০৭
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১২
এশা৭:২৪
সূর্যোদয় - ৬:০৫সূর্যাস্ত - ০৬:০৭
পড়ুন