চম্পার আজকাল
১৩ নভেম্বর, ২০১৪ ইং
চম্পার আজকাল
 

‘তিন কন্যা’ প্রয়াত বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা শিবলী সাদিক পরিচালিত সুচন্দা প্রযোজিত ছবি, যে ছবিতে মূলত প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রের তিন নায়িকা বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা একসাথে অভিনয় করেন এবং এই ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়েই চলচ্চিত্রে চম্পার অভিষেক ঘটে। সময়টা ১৯৮৬। একটি মাত্র ছবিতেই চম্পার অভিনয়ের ইচ্ছে থাকলেও এরপর নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তিনি একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন সর্বাধিক পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘অন্য জীবন’, ‘উত্তরের খেপ’, ‘শাস্তি’ এবং ‘চন্দ্রগ্রহণ’-এ অভিনয় করে চম্পা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেও এমন আরও অনেক ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন, যা তাকে দর্শকের মাঝে যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখবে। বড় দুই বোন চিত্রনায়িকা সুচন্দা ও ববিতার অনেক স্নেহের চম্পাকে নিয়ে লিখেছেন কবিতা আলী 

 

এদেশে চম্পা একজনই। নিজ নামকে যিনি অভিনয়ের মাধুর্য দিয়ে নিয়ে গেছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তায়। সেই চম্পাকে এখন চলচ্চিত্রে কিংবা নাটকে কম পাওয়া গেলেও যে ক’টিতে পাওয়া যায় তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গড়পড়তা একের পর এক কাজ করতে চান না চম্পা। যে কারণে তার সমসাময়িক অন্য অনেকের মতো খুব বেশি ব্যস্তও নন নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের কাজে। গল্প আর চরিত্র মন থেকে ভালো না লাগলে একেবারেই ‘হ্যাঁ’-সূচক উত্তর মিলে না চম্পার কাছ থেকে। চম্পা অভিনীত প্রথম ছবি ছিল শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’। এ ছবিতে অভিয়ের পর চলচ্চিত্রে চম্পার নিয়মিত না হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু এরপর অভিনয়ে নিয়মিত হয়ে একজন নায়িকা হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিলেন। কেন? জবাবে চম্পা বলেন, ‘আমাদের তিন বোনেরই আসলে ইচ্ছে ছিল যে অন্তত একটি ছবিতে আমরা তিন বোন একসাথে অভিনয় করব। সেই পরিকল্পনা থেকেই মূলত ‘তিন কন্যা’ ছবিতে আমার অভিনয় করা। তখন কিন্তু আমার সংসার শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই আসলে একটি ছবিতেই অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল। ববিতা আপার ক্যারিয়ার তখন ব্যাপক তুঙ্গে। তো এই ‘তিন কন্যা’ মুক্তির পর চিত্রনায়ক আলমগীর তার প্রযোজনা ও পরিচালনায় ‘নিষ্পাপ’ ছবিতে আমাকে মূল নায়িকা হিসেবে নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেন। এটি ছিল মূলত ত্রিভুজ প্রেমের ছবি। ‘নিষ্পাপ’ মুক্তি পেল। ছবিটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হলো। চলচ্চিত্রকে নিয়ে আমারও ভাবনার পরিবর্তন হলো। তখন আমি এক মোহের মধ্যে পড়ে চলচ্চিত্রেই রয়ে গেলাম। আলমগীর ভাই এখনো এই ‘নিষ্পাপ’ ছবির কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘নিষ্পাপ’ হলো আমার হাউজের ‘সোনার হাঁস’, যা এখনো ডিম পাড়ে। অর্থাত্ এই ছবিটি থেকে এখনো তিনি বেশ অর্থ উপার্জন করেন।’ একজন নায়িকা হিসেবে চম্পা ১২-১৪ বছর শীর্ষ নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ করে গেছেন। আলমগীর পরিচালিত ‘নিষ্পাপ’-এর পর অনেক ছবিতেই তিনি অভিনয় করেছেন। বিশেষ বিশেষ ছবির নাম মনে করতে গিয়ে চম্পা বলেন ‘ভেজাচোখ’, ‘সহযাত্রী’, ‘নীতিবান’, ‘সরল রেখা’, ‘কাশেম মালার প্রেম’, ‘অবুঝ হূদয়’, ‘বাসনা’, ‘অন্ধ প্রেম’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘বানেছা পরী’, ‘যোগাযোগ’, ‘ত্যাগ’, ‘গর্জন’ ছবির কথা। এসব ছবিতে অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে চম্পা সেই সময়ে ছিলেন ব্যাপক আলোচনায়। চম্পা বলেন, ‘বিশেষ করে আমি সেই সময়ের ‘ভেজাচোখ’ আর গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবির কথা বলব। ‘ভেজাচোখ’ ছবির ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া আজই চিঠি দিয়েছে’ কিংবা ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ এসব গান তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। আর ‘পদ্মা নদীর মাঝি’তে মালা চরিত্রে অভিনয় করে আমি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করি। তবে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ ছবিতে শাবনাজ-নাঈমের অভিষেকের পর এবং মৌসুমী-শাবনূরের আগমনের পর নায়িকা হিসেবে আমার অবস্থান থেকে আমি একটু একটু করে পিছিয়ে পড়ি। আসলে এটা কিন্তু সময়ের দাবি। তাই আমি সব মেনে নিই। কিন্তু আমি আমার সময়ে ববিতা আপা, রোজিনা আপা, দিতি, অরুণা বিশ্বাসের মতো গুণী নায়িকাদের সাথে প্রতিযোগিতায় থেকে কাজ করে গেছি।’ চম্পা এখন টিভি নাটকেও কাজ করছেন। টিভি নাটকে আবারও নিয়মিত হওয়া প্রসঙ্গে চম্পা বলেন, ‘মিডিয়াতে মূলত আমার অভিষেক ঘটে টিভি নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। টিভি নাটকে আমার হাতেখড়ি হয় প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘ডুব সাঁতার’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। এরপর আরও বেশ কয়েকটি নাটকে আমি ওই সময় অভিনয় করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়ার কারণে টিভি নাটকে আর অভিনয় করা হয়ে উঠেনি। যেহেতু আমার শুরুটা ছোট পর্দায় অভিনয় দিয়ে তাই সেই মিডিয়াটার প্রতি একটা বিশেষ দুর্বলতা থেকেই মূলত এখনও মাঝে মাঝে ছোট পর্দায় কাজ করা।’ চলচ্চিত্রে একজন নায়িকা হিসেবে কাজ করে পেয়েছেন অনেক খ্যাতি, আছে কি কোনো দুঃখবোধ যা চলচ্চিত্রকে ঘিরেই আবর্তিত? এবার ভাবনার আকাশে ডানা মেললেন চম্পা। অনেক কিছুই বলার ছিল তার। কিন্তু নিজে থেকেই থেমে গেলেন তিনি। কিছুটা বললেন। চম্পার বলেন, ‘সত্যি বলতে কি চলচ্চিত্র থেকে আমি অনেক কিছুই পেয়েছি। কিন্তু ক্ষতিও হয়েছে আমার। চলচ্চিত্রের প্রযোজক, পরিচালক আর দর্শকের কথা চিন্তা করেই আমি আমার একমাত্র সন্তান এশার জন্মের পর আর কোনো সন্তান নিইনি। আমি হয়তো চাইলেই আর দু’একজন সন্তানের মা হতে পারতাম। আমি চলচ্চিত্রে রাজনীতির স্বীকার হয়েছি। একজন নায়ক আমাকে নিয়ে সেই রাজনীতি করেছিলেন। আমার সাইন করা ছবি রাতারাতি অন্য নায়িকার হাতে চলে গিয়েছিল। তবে যাই হোক না কেন একজন নায়িকা হিসেবে মর্যাদার দিক দিয়ে আমি যে উঁচু স্থানে অবস্থান করেছিলাম, সেই সম্মান নিয়ে আজও আছি। ভালো আছি একমাত্র সন্তান এশাকে ব্যবসায়ী ছেলে তমালের হাতে তুলে দিতে পেরে। আমার বাবা মারা গেছেন সেই ছোট্ট বেলায়। কতদিন বাবা বলে ডাকতে পারিনি। তমালকে বাবা ডেকে সেই অতৃপ্ত ইচ্ছেটাকে এখন পূরণ করতে পারছি। এটাইতো জীবনের অনেক বড় পাওয়া এখন।’ একজন গুণী নায়িকা কিংবা অভিনয়শিল্পী যাই বলি না কেন চম্পা চম্পাই এবং এদেশে একজনই চম্পা, যার বিকল্প আর কেউই নন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন