‘জনপ্রিয়তা উপভোগ করছি, এর বিড়ম্বনাগুলোও ভালো লাগছে’
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং
‘জনপ্রিয়তা উপভোগ করছি, এর বিড়ম্বনাগুলোও ভালো লাগছে’
—মাসুদ সেজান

নাট্যকার ও পরিচালক

এ সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা মাসুদ সেজান। ‘অ্যাইম ইন লাইফ’, ‘লংমার্চ’, ‘রেড সিগন্যাল’সহ তার প্রতিটি ধারাবাহিক, ঈদের বিশেষ ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম ও এক ঘণ্টার নাটক দর্শককে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। এখন ‘চলিতেছে সার্কাস’ নিয়েও দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। তার বর্তমান কাজ ও আগামীর পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন খালেদ আহমেদ, ছবি তুলেছেন সোহেল মামুন

 

সবাই যখন বলছেন নাটকের মন্দা সময় চলছে, তখন আপনার নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এর কারণ কী?

আমি আমার কাজটা মনোযোগ দিয়ে করি। শিল্পচর্চা করতে এসে কোনো প্রকার ভণ্ডামি, ভাঁড়ামি কিংবা শুধুই টাকার পেছনে ছুটে দর্শকের সাথে প্রতারণা করি না। অন্যদিকে, আমার নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ কেন বাড়ছে সেটা দর্শকই ভালো বলতে পারবেন।

 

নাটকের সার্বিক শিল্পমান পড়ে যাওয়ার পেছনে কাকে দায়ী করবেন?

এটি আমাদের সামগ্রিক সমস্যা। তবে চ্যানেলগুলো যারা চালাচ্ছেন, প্রধানত তারাই দায়ী। কারণ তারা হয়তো ‘মান’ ব্যাপারটা কী এটাই বোঝেন না, অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করে সস্তা কিছু প্রোডিউস করতে চান। পুরো ব্যাপারটাই আসলে উল্টে গেছে, বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো চ্যানেলের কাছে এসে লাইন দেওয়ার কথা, এখন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে গিয়ে পড়ে থাকে। এটা নাটকের মান উন্নয়নের জন্য মোটেই শুভ লক্ষণ নয়।

 

মানহীনতার প্রশ্নে পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের কমিটমেন্ট এই ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখছে?

এক শ্রেণির দাস পরিচালক তো আছেনই, যারা মানহীনতার পুরো প্রক্রিয়াটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেইসঙ্গে কিছু নামীদামি অভিনেতা আছেন, যাদের এই শিল্পের প্রতি আর ন্যূনতম কোনো ভক্তি শ্রদ্ধা নেই, শুধুমাত্র অর্থ ইনকাম, আমোদ-ফুর্তি, কিংবা পার্টি-প্রোগ্রামের সোর্স হিসেবে এই শিল্পকে ব্যবহার করছেন, তাদের অতি দ্রুত রিটায়ার করা উচিত। আর নতুনরা শিখে-জেনে-বুঝে তাদের চোখ কান খোলা রেখে এই শিল্পে কাজ করতে এলে ভালো করবেন। অভিনয়ে মনোযোগী হওয়ার চাইতে তারা নানাবিধ ধান্ধা-ফিকির ও বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। এইভাবে বেশিদূর এগোনো সম্ভব না।

 

ভারতীয় চ্যানেলের জনপ্রিয়তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? আমাদের ব্যর্থতা কোথায়?

তারা শিল্পটা বোঝেন, ব্যবসাটাও বোঝেন। আমরা শুধুই ব্যবসা বুঝি আর নকলবাজি বুঝি। ওদের নাটকের মানের চাইতে আমাদের মান অনেক উন্নত, কিন্তু আমাদের চ্যানেল কর্তৃপক্ষের অদ্ভুত মানসিকতা ও বিজনেস স্ট্র্যাটেজি আমাদেরকে পিছিয়ে দিচ্ছে। আমাদের চ্যানেলগুলো ভালো কাজ ও খারাপ কাজের যথার্থ মূল্যায়ন যতদিন করতে পারবে না, ততদিন ব্যর্থতার পরিমাণ বাড়তেই থাকবে।

 

আপনার চলচ্চিত্র কবে দেখবো?

আমি কখনোই প্রতিযোগিতার লোক ছিলাম না। শুধুমাত্র চিত্রপরিচালকের খাতায় নাম লেখানোর জন্য সিনেমা বানাবো না। একজন শিক্ষিত, উদারমনের প্রকৃত প্রডিউসারের জন্য অপেক্ষা করছি। যেসব অফার পাচ্ছি, তাতে করে একজন দাস পরিচালক হয়ে কাজ করতে হবে। এটা করতে চাই না।

 

‘চলিতেছে সার্কাস’ নাটকটিকে আর কতদূর নেবেন?

আগামী ২২ ফেরুয়ারি এর ১০০তম পর্ব প্রচারিত হবে। যা অন্যসব ধারাবাহিকের ২০০ পর্বের সমান। নাটকটিকে ঘিরে দেশে-বিদেশে দর্শকের আগ্রহ বেড়েই যাচ্ছে। বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষও চান নাটকটি আরও বড় হোক, কিন্তু আমি যে গল্পটা বলার চেষ্টা করছি, যেখানে গিয়ে মনে হবে বলতে পেরেছি, সেখানেই শেষ করে দেব।

 

আপনি একজন দর্শক নন্দিত নাট্যকার ও নির্মাতা, এই জনপ্রিয়তাকে কীভাবে এনজয় করছেন?

দুভাবেই এনজয় করছি, আমার নাটক দেখে দর্শক যখন তুমুল আনন্দ পান, নাটকের চরিত্র, সংলাপ মুখস্ত শুনিয়ে দেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তাদের রেসপন্সে উল্লসিত হন; তখন খুব ভালো লাগে। অন্যদিকে, আমার এই জনপ্রিয়তার কারণে যখন একদল মানুষ আমাকে কীভাবে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামানো যায় সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন, তখনো আনন্দ পাই। কারণ তখন তাদের মুখোশগুলো আমার সামনে উন্মোচন হয়ে যায়। এটা দেখতেও আমার ভালো লাগে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৩
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৯
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
পড়ুন