ঢাকা টু কান
দেশীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা
খালেদ আহমেদ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
দেশীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা
 

ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশ (আইএফআইবি) একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। গত বছর থেকে একটু একটু করে কাজ করলেও বর্তমানে পুরোদমে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় চিত্রপরিচালকদের জন্য কাজ করছে। আর প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হলেন জনপ্রিয় চিত্রপরিচালক ও প্রযোজক সামিয়া জামান। আইএফআইবি নিয়ে কথা হলো তার সঙ্গে। তিনি জানালেন, দেশীয় চলচ্চিত্রের সম্ভাবনার নতুন গল্প। আইএফআইবি বাংলাদেশি চিত্রপরিচালকদের জন্য কী কী কাজ করছে জানতে চাইলে সামিয়া জামান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের ফিল্মের সঙ্গে বাইরের বিশ্বের যোগাযোগটা ব্যক্তি সাফল্য ও ব্যক্তির প্রচেষ্টাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে বাংলাদেশের উল্লখযোগ্য কিছু সাফল্য এলেও আমরা তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আর নিচ্ছি না বা নিতে পারছি না। সেজন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি, সাংগঠনিকভাবে কিছু করার প্রয়োজন বোধ করি। আনন্দের কথা, আইএফআইবির প্রথম আন্তর্জাতিক কাযর্ক্রম ‘ঢাকা টু কান’ (কান ফিল্ম উত্সব) শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। বাংলাদেশের তিনজন নবীন চলচ্চিত্র পরিচালক বা প্রযোজককে ২০১৭-এর কান উত্সবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে আইএফআইবি। আমাদের ওয়েবসাইটে আজই আবেদন করতে পারেন এ সুযোগের জন্য। যারা সবে শুরু করেছেন, একটা-দুটো স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি বা ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন, মূলত তাদের জন্য এই আয়োজন। যারা আবেদন করবেন, তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বাছাই করা হবে। আন্তর্জাতিক জুরি এই বাছাইয়ের কাজটি করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের সংগঠন আইইএফটিএ ‘ঢাকা টু কান’ কাযর্ক্রমের মূল সহায়ক। এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মার্কো অরসিনি গত বছর এবং এবছর—দু’দুবার বাংলাদেশে ঘুরে গেছেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে নতুন নির্মাতাদের উত্সাহিত করার কাজে যুক্ত হয়েছেন। এই নবীন নির্মাতারা ২০১৭ সালের কান উত্সবের ফিল্ম ওয়াকর্শপে যোগ দেবেন। প্রত্যেকের অবশ্য হাতে তাদের আগামী ছবি সম্পর্কে একটা ধারণা থাকতে হবে, এবং সেটিও বিবেচনার বিষয় হবে। আশা করি আমাদের নবীন নির্মাতারা সবাই আবেদন করবেন।’ ‘রানী কুঠির বাকি ইতিহাস’ খ্যাত পরিচালক সামিয়া জামান এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে অনেক আশাবাদী। প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা টু কান অবশ্য আমাদের প্রথম বড় কার্যক্রম। এর মধ্যে আমরা বাংলাদেশের ছবির আন্তর্জাতিক যাত্রায় আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে আলোচনার আয়োজনও করেছি। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, যোগাযোগ হচ্ছে। পরামর্শের ভিত্তিতে আমাদের কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে রাখতে চাই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ফেস্টিভ্যালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কাজটা আমরা করতে চাই আমাদের দীর্ঘপথ পরিক্রমার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য অনেক। পাশাপাশি এটাও সত্য, আমাদের চলচ্চিত্র সম্পর্কে বাইরের পৃথিবীর তেমন কোনো স্পষ্ট ধারণা এখনো নেই। যার যার নিজের অবস্থান থেকে এই কাজটি সবাইকেই করতে হবে। সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানো সম্ভব, ইতিবাচক ইমেজ তৈরিতেও ভূমিকা রাখা যেতে পারে। আইএফআইবির বিভিন্ন কাযর্ক্রমের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জগতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর করার কাজ চলবে।’ সামিয়া জামান নির্মিত দুটি ছবিও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আকাশ কত দূরে’ মুক্তির পর নতুন ছবির কাজ শুরু করছি এবছরই। পরিচালনার পাশাপাশি, প্রযোজনার কাজও করছি। আশা করি, নতুন ছবিগুলোর বিষয়ে কিছুদিনের মধ্যেই জানাতে পারব।’

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:১০
মাগরিব৫:৪৯
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৪
পড়ুন