গল্পটা দুই বন্ধুর
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
গল্পটা দুই বন্ধুর

 

ফেলে আসা দিনের কিছু গল্প থেকে যায় মনের কোণে। দশেরও অধিক চলচ্চিত্রে জুটি হয়ে অভিনয় করা জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অমিত হাসান ও নন্দিত নায়িকা শাবনূরের ফেলে আসা দিনের তেমন কিছু অজানা গল্প নিয়েই করা হয়েছে এই আয়োজন। লিখেছেন

অভি মঈনুদ্দীন

অমিত-শাবনূর, দুই পরিবারের দুজন মানুষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা দুজনই চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য। আবার দুজনের মধ্যে শুরু থেকেই পারিবারিক সম্পর্কটা বেশ দৃঢ়। আর তাই দুজনই মনে করেন, তারা চলচ্চিত্র পরিবারের বাইরেও একটি পরিবারেরও সদস্য। অমিত হাসানের দুই কন্যা লামিসা ও নামিরাকে শাবনূর খুব স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। আবার শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজেনকে অমিত ও তার স্ত্রী লাবণী খুব আদর করেন। এই যে দুটো ভিন্ন পরিবারের পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ—এটা শুরু থেকেই ছিল বলে জানান শাবনূর। শাবনূর বলেন, ‘আমি যখন থেকে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছি, তখন থেকে কীভাবে যেন আমি আর অমিত একই এলাকার বাসিন্দা হয়েই থেকেছি। এখনো আমরা রাজধানীতে একই এলাকায় বসবাস করছি। বিপদে আপদে অমিত, অমিতের স্ত্রী লাবণী আমার পাশে এসে দাঁড়ায় সবসময়। অনুরূপভাবে অমিত বা লাবণী যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমি-অমিত সহশিল্পী বা ভালো বন্ধু, তার বাইরে আমি মনে করি আমরা একই পরিবারের মানুষ। এই একই পরিবারের হয়ে ওঠাটা কিন্তু একদিনের নয়। বলা যায় প্রায় দুই যুগের। দুই যুগ বলাটা হয়তো খুব সহজ। কিন্তু সময়টা পেরিয়ে আসা, সম্পর্কটা লালন করে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আবার এটাও সত্য—আন্তরিক হলেই তা সম্ভব। আমার ও অমিতের পরিবারের মধ্যে সেই আন্তরিকতাটা আছে।’ অমিত হাসান বলেন, ‘শাবনূর আমার খুব ভালো বন্ধু, তবে আমার চেয়ে আমার স্ত্রী লাবণীই শাবনূরের বেশি ঘনিষ্ঠ। অনেক কথা আমার চেয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গেই শাবনূর শেয়ার করে বেশি। আমরা সুখে দুঃখে একে অন্যের পাশে থাকি।’ শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে অমিত হাসান প্রথম অভিনয় করেন এহতেশাম পরিচালিত ‘সৈনিক’ চলচ্চিত্রে। এরপর তাদের দুজনকে দেখা গেছে আবিদ হাসান বাদলের ‘আত্মসাত্’, ‘বিদ্রোহী প্রেমিক’, ‘পাগলীর প্রেম’, ‘তুমি শুধু তুমি’, মোতালেব হোসেনের ‘স্ত্রী হত্যা’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘চিরঋণী’, শিল্পী চক্রবর্তীর ‘উজান ভাটি’, ‘বিনি সুতার মালা’, ওয়াকিল আহমেদের ‘ভুলো না আমায়’ এবং শাহ আলম কিরণের ‘শেষ ঠিকানা’। ‘শেষ ঠিকানা’ চলচ্চিত্রে অমিতের লিপে যাওয়া শাবনূরের উদ্দেশে অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘আমি পাথরে ফুল ফুটাবো শুধু ভালোবাসা দিয়ে’ গানটি এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে শোনা যায়। শাবনূর প্রসঙ্গে অমিত হাসান বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে শাবনূর খুউব ভালো। তার রয়েছে শিশুসুলভ একটি মন। আর একজন আর্টিস্ট হিসেবে সুপার ট্যালেন্টেড—এটা আসলে বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন সহশিল্পী হিসেবে দারুণ সহযোগিতাপরায়ণ। তার সঙ্গে করা প্রতিটি চলচ্চিত্রই আমার জন্য ছিল অনেক ভালোলাগার। প্রতিটি চলচ্চিত্রের জন্য এখনো সাড়া পাই।’ শাবনূর বলেন, ‘অমিত আমার চলচ্চিত্রের বন্ধু, পারিবারিক বন্ধু। যখন থেকে অমিতের সঙ্গে কাজ করি, তখন থেকেই আমার সঙ্গে তার খুব ভালো বন্ধুত্ব। দেখা যেত যে, আমরা যেকোনো বিষয় নিয়ে সেটে ঝগড়া করেছি, আবার কিছুক্ষণ পর মিলেও গেছি। অমিত খুব ভালো একজন অভিনেতা, সহশিল্পী হিসেবে সময়টাকে উপভোগ্য করে তোলার মতো সত্যিকারের বন্ধু।’ চলতি সপ্তাহেই অমিত ও শাবনূরের উদ্যোগে একটি গেটটুগেদার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অমিত-শাবনূরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন অনেকেই। শাবনূর বলেন, ‘সত্যি বলতে চলচ্চিত্র পরিবার, আমার নিজের পরিবার। এই পরিবারের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতেই আমি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি সবসময়ই সবার খোঁজখবর রাখতে ভালোবাসি। আবার এটাও ভালোলাগার বিষয় যে এই পরিবারের যখন কেউ আমার খোঁজ নেয়, আমি পুলকিত হই।’ আগামী ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে অমিত হাসান অভিনীত মালেক আফসারী পরিচালিত ‘অন্তরজ্বালা’ চলচ্চিত্রটি। শুটিং চলছে তার অভিনীত মনতাজুর রহমান আকবরের ‘মাই ডার্লিং’, তাজুল ইসলামের ‘গোপন সংকেত’ চলচ্চিত্রের। শাবনূর এরইমধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘এত প্রেম এত মায়া’ চলচ্চিত্রে সুদীপ কুমার দীপের লেখা শ্রী প্রীতমের সুর-সংগীতে প্লে-ব্যাক করেছেন। এই চলচ্চিত্রের ষাট ভাগের কাজ শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে শাবনূর এই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের কাজ শেষ করবেন বলে জানালেন পরিচালক মানিক।

ছবি মোহসীন আহমেদ কাওছার

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৭ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন