নাটকে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
নাটকে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে
মাসুদ সেজান এ সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ততম একজন নাট্যনির্মাতা। এরমধ্যেই দর্শক তার নাটকগুলোর মধ্যে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেছেন। অন্য নির্মাতাদের কাজ থেকে তার কাজ সহজেই আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। গুণী এই নির্মাতার সঙ্গে তার কাজ ও নাট্যশিল্পের অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন খালেদ আহমেদ

 

 

বর্তমানে আপনার কী কী নাটক প্রচারিত হচ্ছে?

বাংলাভিশনে প্রচারিত হচ্ছে ‘খেলোয়াড়’। এক ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই ধারাবাহিক নাটকটি প্রচারিত হচ্ছে প্রতি রবি ও সোমবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে। আর এনটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে ‘ডুগডুগি’। রবি, সোম ও মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে এটি প্রচারিত হয়। অলরেডি ৯৩ পর্ব প্রচারিত হয়েছে। ১০৫ পর্বে এটির সমাপ্তি ঘটবে।

 

গত ঈদে আপনার দুটি বিশেষ ধারাবাহিক প্রচারিত হয়েছে। একটি ‘চরিত্র :স্ত্রী’ অন্যটি ‘হিরো কেন ভিলেন’। কোনটি থেকে বেশি রেসপন্স পেয়েছেন?

‘চরিত্র :স্ত্রী’ বাংলাভিশনের জন্য নির্মিত আমার একটি সিক্যুয়াল ওয়ার্ক। চরিত্র :নেতা, ভোটার ও স্বামীর পর এবার স্ত্রী করেছি। এটির প্রতি দর্শকের একটা আকর্ষণ আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। এর সাথে ‘হিরো কেন ভিলেন’-কে মিলানো যাবে না। আমি এই প্রথম দীপ্ত টিভির সঙ্গে কাজটি করলাম। দর্শকের রেসপন্স খুবই ভালো। বিশেষ করে ওই চ্যানেলের শীর্ষ পদের কর্মকর্তারা আমাকে ফোন করে নাটকটির প্রশংসা করেছেন। যা সচরাচর কেউ করে না, পরের নাটকে টাকা যদি বেশি চেয়ে বসি, হা হা হা। যাই হোক, এটি আমার জন্য একটি বাড়তি ভালোলাগা তৈরি করেছে।

 

নাটকের ‘টিআরপি’ চ্যানেল পাড়ায় খুব আলোচিত একটি সাবজেক্ট। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

টকশোতে কিংবা ইন্টারভিউয়ে আমি অনেকবারই বলেছি, টেলিভিশনের টিআরপি সিস্টেমটা আমি মানি না, কারণ এর কোনো স্বচ্ছতা নেই, এর নিরপেক্ষ ও সার্বজনীন কোনো ভিত্তি নেই। তবু চ্যানেলগুলোর কাছে টিআরপির রিপোর্ট তাদের রুটিরুজির একমাত্র সার্টিফিকেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এই রিপোর্টের জন্য বসে থাকে। রিপোর্ট থেকে তাদের বিজ্ঞাপন আসে, সেই বিজ্ঞাপনের টাকা দিয়ে তারা সার্ভাইভ করে। এ এক অন্য রকম খেলা। দুষ্টচক্রের একটা পার্টও বলা যেতে পারে।

 

চ্যানেলের সুফলটা তো বললেন, টিআরপির কারণে নাটকের মানের ক্ষেত্রে কি কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে?

হ্যাঁ যাচ্ছে, যেহেতু চ্যানেলের টার্গেট থাকে যেভাবেই হোক তাদের টিআরপি লাগবে। কাজেই কমেডি নাটকগুলো ভাঁড়ামি নাটকে রূপ নিচ্ছে। মেধাবী কিছু আর্টিস্ট নিজেকে ভাঁড় হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কে কার থেকে বেশি ছ্যাবলামি করে, হাত-পা ছুঁড়ে, সস্তা ও স্থূল ডায়লগ দিয়ে দর্শকদের ধরে রাখবেন—এই রকম একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

 

চ্যানেল ও দর্শকের ডিমান্ড থেকেই কি এমনটা হচ্ছে?

নাটক নির্মাণ করতে যখন এসেছি, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ঈদেই আমার নাটক টিআরপির ১ম, ২য়, ৩য় কিংবা শীর্ষ ১০-এ এসেছে। কীভাবে এলো? আমি তো কখনোই ভাঁড়ামি করে দর্শক টানার চেষ্টা করিনি। আসলে সমস্যাটা হয়েছে অন্যখানে। বেশিরভাগ চ্যানেল দর্শকদের রিড করতে পারছে না। তারা এখন কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে, অভিনয়রীতি কী হবে, এই শিক্ষাটা নিতে গেছে ইউটিউবের কাছে। সেখানে দেখছে, হিরু আলমের ভিউ বেশি, অতএব আমাদের তথাকথিত জনপ্রিয় আর্টিস্টরা হয়তো হিরু আলমকে তাদের আইডল হিসেবে গ্রহণ করেছে। দেখছে, জনৈক এক মস্তিষ্ক বিকৃত ‘সেফুদা’র ভিউ বেশি, এদেরও মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা দিয়েছে। তারা ভাবছে, তার মতো না হোক অন্তত ‘হালার পো হালা’ টাইপের গালি তো সংলাপের মধ্যে দিয়েই দেওয়া যায়।

 

তাহলে আমরা কোথায় যাচ্ছি?

একটা সময় বাংলা সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজকরা মনে করলেন তাদের দর্শক কমে যাচ্ছে, সিনেমার মধ্যে ‘কাটপিস’ জোড়া দিতে হবে। নীল ছবির আদলে কিছু কাটপিস জোড়া দিয়ে তারা ভাবল, এইবার দর্শকে দর্শকে হল ভর্তি হয়ে যাবে। একটা সময়ের পর দেখা গেল, দর্শকের অভাবে একটার পর একটা হলই বন্ধ হয়ে গেল। সেই হিসাবটা তখন তারা বুঝতে পারেননি। মাহফুজুর রহমানের গানের ভিউ দিয়ে টিআরপি নির্ধারণ করা কিংবা সেফুদার জনপ্রিয়তা দিয়ে দর্শককে মাপলে হবে না। চ্যানেলকে চলতে হবে গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে। যে গণমানুষের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও আছেন, একজন রিকশা চালকও আছেন। এই কমনসেন্সটা আমরা ধরতে পারছি না।

 

তাহলে এর সমাধান কী?

চ্যানেলগুলোকে সদ্যবিলুপ্ত সিনেমাহলের অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের মানসম্মত অনুষ্ঠানের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে হবে। আর শিল্পীকে সর্বোপরি শিল্পের জায়গাটাতেই অবস্থান করতে হবে। শিল্পীসত্তাকে কাজে লাগিয়ে, নিজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ব্যবসা-বাণিজ্যটা বন্ধ করতে হবে। এমন অভিযোগ এখন হরহামেশাই শোনা যাচ্ছে, অমুক শিল্পীর প্রযোজিত নাটক চ্যানেল না কিনলে, সেই চ্যানেলের অন্য কোনো নাটকেই তিনি অভিনয় করবেন না। এটি লজ্জাজনক। এই অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন