সেই মুক্তিযোদ্ধাই আজকের অভিনেতা
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
সেই মুক্তিযোদ্ধাই আজকের অভিনেতা
 

আহসানুল হক মিনু একজন মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা। বগুড়ার সন্তান মিনু এখন পুরোপুরি অভিনয়েই ব্যস্ত। নিয়মিত মঞ্চ নাটক, টিভি নাটক এবং সাংগঠনিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন নূপুর বন্দ্যোপাধ্যায়

 

মিনুর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী গেল ১২ আগস্ট তিনি ৬২-তে পা দিয়েছেন। তিনি শুকরিয়া করেন যে এখনো বেশ ভালো আছেন সুস্থ আছেন। কারণ অনেক মুক্তিযোদ্ধাই এখন খুব বেশি সুস্থ নেই, ভালোও নেই। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে মিনুর মতো আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন, মিনুর ভাষ্যমতে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। মিনু বলেন, ‘নিজের দেশে নিজের ভাষায় কথা বলতে পারছি প্রাণখুলে, এ যে কত ভালোলাগার বিষয়, তা ভাষায় প্রকাশের নয়। এই দেশকে আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিলাম। পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ। সেই সোনার বাংলাদেশের মানুষেরই ভালোবাসা পাই এখন প্রতিনিয়ত একজন অভিনেতা হিসেবে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যেমন গর্বিত, ঠিক তেমনি একজন শিল্পী হিসেবেও গর্বিত। গর্বিত আমার নাটকের, চলচ্চিত্রের শিল্পীদের জন্য। তারা আমাকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন। তাই এই দেশ আমার অহংকার, এই দেশের ভাষা আমার গর্ব, এই দেশের মাটি আমার বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। আল্লাহ যেন এই মাটিতেই আমাকে শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেন।’ আহসান হক মিনুর বাবা শামসুল হক ও মা জাহানারা বেগম। তারা আট ভাই দুই বোন। বগুড়া সেন্ট্রাল কলেজ থেকে এসএসসি এবং আজিজুল হক কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি সম্পন্ন করেন। মিনুর সহধর্মিণী সালমা হক। তার দুই সন্তান নিলয় ও নন্দন। এই হচ্ছে মিনুর সুখের পৃথিবী। তবে মিনু মনে করেন তার অভিনয়ের দুনিয়াটাও এক অন্যরকম ভালোলাগার পৃথিবী। কারণ ২০০০ সালে কার্গো বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে চাকরি ছাড়ার পর অভিনয়ই হয়ে ওঠে তার পেশা। অভিনয়ে মিনুকে প্রথম দেখা যায় ১৯৮২ সালে আশরাফুজ্জামান খানের প্রযোজনায় ‘বিনি পয়সার ভোজ’ নাটকে। তবে তার আগে তিনি টানা দশ বছর বগুড়া নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে ছয় শতাধিক শোতে অভিনয় করেছেন মিনু। এরপর ঢাকায় এসে সেই যে ১৯৮১ সালে ‘থিয়েটার আরামবাগ’র সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেন এখনো এই দলেরই হয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন নিয়মিত। এই দলের হয়ে মিনুকে মঞ্চে দেখা গেছে ‘জমিদার দর্পন’, ‘রূপবান’, ‘ক্ষত বিক্ষত’, ‘কিং লেয়ার’, ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’সহ আরও বেশকিছু নাটকে। টিভি ধারাবাহিকে মিনুকে প্রথম দেখা যায় সালাহ উদ্দিন লাভলুর নির্দেশনায় ‘রঙের মানুষ’ ধারাবাহিকে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘শহর থেকে দূরে’। এরপর তিনি গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘মনের মানুষ’, শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘বাঙলা’, খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘গহীনে শব্দ’, নায়ক রাজ রাজ্জাকের ‘আয়না কাহিনী’, বাপ্পা রাজের ‘কার্তুজ’, তানভীর মোকাম্মেলের ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ ইত্যাদি। নাটকে এবং চলচ্চিত্রে দুই মাধ্যমে কাজ করলেও নাটকেই মিনুর উপস্থিতি এখন বেশি দেখা যায়। দীর্ঘ দেড় যুগ যাবত তিনি ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’র সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে এই সংঘের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আহসানুল হক মিনুর প্রিয় অভিনতো নায়ক রাজ রাজ্জাক, হুমায়ূন ফরীদি। প্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা ও বিপাশা হায়াত। আহসানুল হক মিনু বলেন, ‘অভিনেতা হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। অভিনয়ে দিয়ে দর্শকের আবেগের সাথে মিশে থাকা অনেক কঠিন কাজ। প্রতিনিয়তই নিজেকে অভিনয়ে ভাঙার চেষ্টা করি। একটি ভালো চরিত্র পেলে নিজেকে নতুন করে জাগিয়ে তুলি। হয়তো শিল্পী হিসেবে নিজের আত্মার সঙ্গে অভিনয়ের সেই টান আছে বলেই এমনটা হয়। আমি আজীবন অভিনয় করে যেতে চাই। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সবসময়ই গর্ববোধ করি আমি। আমার দুটি সন্তান মানুষের মতো মানুষ হচ্ছে, এই জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি বাবা হিসেবে আমি আর কীই বা পেতে পারি।’ আহসানুল হক মিনু জানান বর্তমানে তিনি কামাল হোসেন বাবরের নির্দেশনায় ‘বাবর আলীর হেলিকপ্টার রিটার্ন’ নামক একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। মিনুর মতো এমন অনেক অভিনেতা আছেন আমাদের দেশে, যারা তাদের অভিনয় দিয়ে একটি নাটককে অলংকৃত করেন। কিন্তু সারাজীবন তারা শুধু অলংকৃতই করে যান, স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ভাগ্যে তেমন কিছুই জুটে না। মিনুর মতো এমন গুণী শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে স্বীকৃতি জানালে জাতি হিসেবে আমরাও আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকব।

ছবি মোহসীন আহমেদ কাওছার

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন