মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি
২৯ মে, ২০১৭ ইং
বিজ্ঞান

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়

 কুমিল্লা।

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জেএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য বিজ্ঞান বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায়ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর তোমাদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে। আজকে দ্বিতীয় অধ্যায় অর্থাত্ “জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি” থেকে  সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।

 ক. কোষ বিভাজন কাকে বলে?

খ. ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোকাইনেসিসের ব্যাখ্যা দাও।

গ. চিত্র- A এর বিভাজন না ঘটলে জীব জগতে কী ঘটতো? ব্যাখ্যা কর।।

ঘ.  চিত্র- B  কোন ধরণের বিভাজন? জীব জগতে এ ধরণের বিভাজনের তাত্পর্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর:

ক. যে পদ্ধতিতে একটি মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।

খ. আমরা জানি, মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি। মাইটোসিস কোষ বিভাজনটি দুইটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াস এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয়। নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

গ.  চিত্র- A বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ কতগুলো ধাপ অতিক্রম করে দুইটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজিত না হলে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হতো না। ফলে বহু কোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটবে না। সকল জীবের শুরুই জাইগোট নামক একটিমাত্র কোষ থেকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন না ঘটলে জাইগোট কোষ জাইগোটই থেকে যেতো, বহু কোষী জীবে পরিণত হতো না। এ বিভাজন না ঘটলে কোষের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও আয়তন বজায় থাকবে না এবং এককোষী জীবের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পরিশেষে বলা যায় মাইটোসিস কোষ বিভাজন ব্যাতিত জীবের বৃদ্ধি অসম্ভব।

ঘ. চিত্র- B হলো মিয়োসিস। জীবজগতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাত্পর্য তুলে ধরা হলো।

মিয়োসিস কোষ বিভাজন ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে অথবা হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে ঘটে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। অপত্যকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।মিয়োসিস সর্বদা মাতৃকোষে তথা মায়োসাইটে সম্পন্ন হয়। কখনো দৈহিক কোষে ঘটে না এবং সর্বদাই 2n সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট ডিপ্লয়েড কোষ হয়। নিম্নশ্রেণির জীবে মিয়োসিস হয় নিষেকের পর জাইগোটে। আর উচ্চ শ্রেণির জীবে মিয়োসিস হয় নিষেকের পূর্বে জনন মাতৃকোষ হতে গ্যামেট সৃষ্টিকালে। ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামেট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোট ও মিয়োসিস হয় বলে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন থাকে। তাই প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রাখতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব অপরিসীম। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন