দ্বাদশ শ্রেণির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
পলাশের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হলো শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
মো. কবির হোসেন, সুজন

সিনিয়র প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, খিলক্ষেত, ঢাকা।                                       

প্রিয় দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শুভাসিস রইল।  আজ ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ২য়পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো।

উদ্দীপকঃ  ডাঃ শামীমা আক্তার দিপা এবং ডাঃ নাজমীন আক্তার নিপা দুইজনই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। ডাঃ দিপা এই বছর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হতে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। সে আশা রাখছে তার ফলাফল ভালোই হবে। পরীক্ষায় পাশ করার পরেও তাকে আরো এক বছর হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এতে তার অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জিত হবে। তবেই সে পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার হিসেবে পরিণত লাভ করবে। এদিকে তার বড় ভাই সিএস কোয়ালিফাই নাছির উদ্দিন পলাশ একটি বহুজাতিক কোম্পানীতে সহকারী কোম্পানি সচিব হিসেবে চাকুরী গ্রহণ করেছেন। চাকুরীতে যোগদানের শর্ত অনুযায়ী তাকে এক বছর অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বছরান্তে তাকে চাকুরীতে স্থায়ী পদে বহাল করা হবে। তাতেও তার কোন আপত্তি নাই।

গ) উপরের উদ্দীপকে ডাঃ শামীমা আক্তার দিপা কোন ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করবে? আলোচনা কর।

ঘ) উদ্দীপকে নাছির উদ্দীন পলাশ এর এক বছর অস্থায়ী ভিত্তিতে থাকা কী কোন প্রশিক্ষণ পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত? যদি হয় তবে তোমার মতামত দাও।

উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর ঃ  উপরের উদ্দীপকে ডাঃ শামীমা আক্তার দিপা প্রশিক্ষণের প্রবেশনা পদ্ধতি গ্রহন করবেন।

যে পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষণার্থীকে একজন উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞের অধীনে রেখে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে প্রবেশনারি পদ্ধতি বলা হয়। এতে তার ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জিত হবে।

উপরের উদ্দীপকে ডাঃ শামীমা আক্তার দিপা পাঁচ বছরে এমবিবিএস কোর্সে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেছে। এখন হাতে কলমে একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহীর অধীনে থেকে সে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করবে। যা ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে সে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। আর এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের  পেশাগত দায়ত্ব পালন করতে হলে সরাসরি কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। তাই এই পদ্ধতিকে প্রবেশনা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বলা হয়।

উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তরঃ উপরের উদ্দীপকে নাছির উদ্দিন পলাশের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হলো শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ।

স্থায়ী নিয়োগ প্রত্যাশি নতুন কর্মীকে কারো অধীনে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজের সাথে সম্পৃক্ত রেখে হাতে কলমে কাজ শেখানোর এই প্রয়াসকে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ বলা হয়। সাধারনত কোন বিশেষ কাজ, কৌশল,পদ্ধতি,সুত্র ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহন করা হয়।

উপরের উদ্দীপকে নাছির উদ্দিন পলাশ একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে এক বছরের অস্থায়ী ভিত্তিতে সহকারী কোম্পানী সচিবের দায়িত্ব নিয়েছে। যেহেতু এটি একটি বহুজাতিক কোম্পানি এবং এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে দেশ বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে হয় তাই যদিও তার পেশাগত জ্ঞান রয়েছে তথাপিও তাকে এক বছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে আরো অধিক জ্ঞান অর্জনের জন্য রাখা হয়েছে। তাছাড়া চাকুরীর ড়্গেত্রে এই ধরনের একটি নিয়ম নীতিও রয়েছে প্রথমে কিছু দিন অস্থায়ী ভািত্ততে রাখা হবে। তাই এটি একটি শিড়্গানবিশ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি।

সকল প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অধিক পরিমানে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জিত হয়। আর তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পরই তা করতে হয়। এর ফলে কাজের পারদর্শীতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে খাপ খেয়ে চলা সহজ হয়। যা উপরের উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয় দুটি প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন