তাবলিগ জামাতের অনন্য কর্মপদ্ধতি
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
তাবলিগ জামাতের অনন্য কর্মপদ্ধতি
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তাহির

তাবলিগ জামাতের কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতি দেখে আমি বিস্মিত হই। এই সংগঠনের না আছে নির্দিষ্ট কোনো সদস্য পদ না আছে দান-অনুদান বা চাঁদার ব্যবস্থা। তারপরও বড় বড় কাজ সঠিকভাবে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে তাবলিগ জামাত। এর নেই কোনো পত্র-পত্রিকা বা প্রচার মাধ্যম। তাদের কার্যাবলীর সংরক্ষণ বা অগ্রগতির কোনো রেকর্ডপত্রও নেই। তাদের লিখিত কোনো নিয়ম-কানুন বা সংবিধান নেই। তারপরও তাবলিগ জামাত পৃথিবীর সুশৃঙ্খল সংগঠনগুলোর অন্যতম।

এই সংগঠন কাউকে বেতন-ভাতা দেয় না। তাবলিগ কাজের সকল ব্যয় তাবলিগে গমনকারীগণ ব্যক্তিগতভাবে বহন করে থাকেন। তাদের স্থায়ী হিসেব-নিকেশ সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা নেই। তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (রহ)-এর মতে, ‘আমাদের এখানে কোনো হিসাব-কিতাব থাকে না। দীনী কর্মীদের হিসাব-কিতাবের প্রয়োজন এই জন্য দেখা দিয়েছে, সেই বিশ্বাস ও ভরসা বাকি নেই। নিজের কর্মপদ্ধতির দ্বারা যদি আমার সেই বিশ্বাস পয়দা করা যায়, তবে হিসাব কিতাবে যেই সময় ব্যয় হয়ে যায়, তা খালেছ দীনী কাজের জন্য বেঁচে যাবে’। তাবলিগের বড় বড় কেন্দ্র ও বিশ্ব ইজতেমায় মাইক ব্যবহার করা হয়। তবে মুকাব্বিরের সাহায্যে নামাজ পড়া যায় বিধায় নামাজের সময় মাইক ব্যবহার করা হয় না। তারা যথাসম্ভব হুজুর (স) ও সাহাবা-ই  কেরামের যুগের সঙ্গে মিল রেখে চলতে চান।

তাবলিগ জামাত একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। ইমান ও আমলের মেহনতকে তারা প্রাধান্য দেন। তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হলেও তারা বক্তৃতা, বিবৃতি কিংবা লেখালেখির মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। তাবলিগ জামাতের ছয়টি উসুল বা গুণ হলো-কালিমা, নামাজ, ইলম ও জিকির, তাসিহহে নিয়ত এবং দাওয়াত ও তাবলিগ। মাওলানা ইলিয়াস (রহ) দাওয়াত ও তাবলিগের জন্য একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করেন। যেমন- ক. তিন চিল্লা করা খ. একচিল্লা অর্থাত্ বছরে চল্লিশ দিন আল্লাহর পথে ব্যয় করা। গ. প্রতিমাসে তিনদিন সময় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা। ঘ. সপ্তাহে দুটি গাশত করা। একটি নিজ মহল্লার মসজিদে ও অন্যটি অন্য মহল্লার মসজিদে। ঙ. প্রতিদিন দুটি কিতাবি তালিম আঞ্জাম দেওয়া। একটি নিজগৃহে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। অন্যটি মসজিদে মুসল্লিদের নিয়ে। চ. প্রতিদিন আড়াই ঘণ্টা দাওয়াতের কাজে ব্যয় করা।

মরহুম অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলামের (জাতীয় অধ্যাপক নন) বাড়ী নোয়াখালী। তিনি একসময় ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি। আমাকে কাকরাইল নেওয়ার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তাবলিগ জামাতের মুসল্লিগণ আসলে রাসুলুল্লাহর (স) দেখানো পথেই দীন ইসলামের দাওয়াতের কাজে মেহনত করে চলেছেন।

 

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তাহির : সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৮
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫২
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন