আক্কেলপুরে চিনিকলের বর্জ্যে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত
আক্কেলপুরে চিনিকলের বর্জ্যে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত
জয়পুরহাট চিনিকলের বর্জ্যে জেলার আক্কেলপুর সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলসীগঙ্গা নদীর পানি কালচে রং ধারণ করেছে। ব্যাপক দূষণে নদীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মাছ ও পোকামাকড় শূন্য হয়ে পড়েছে। পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নদী পাড়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দুঃসহ যন্ত্রণা। ছড়াচ্ছে রোগ-বালাই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনামুখি খেয়াঘাট থেকে শুরু হয়ে হলহলিয়া রেলসেতু এলাকা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার তুলসীগঙ্গা নদীর পানি কালচে রং ধারণ করেছে। এই পানি পর্যায়ক্রমে যমুনা নদীতে গিয়ে পড়বে। ফলে ঐ নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়বে। তুলসীগঙ্গা নদীর দুই ধারের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কৃষকদের সেচ কাজে এ পানি ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জয়পুরহাট চিনিকলের অপরিশোধিত বর্জ্য তুলসীগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। নদী বাঁচাতে দুই বছর আগে আক্কেলপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এরপরও চিনিকলের অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চিনিকল চালুর পর ফের নদীতে বর্জ্য ফেলছে তারা।

নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, তারা নদীর পানিতে গোসল করতেন। সেচ কাজে এ পানি ব্যবহার করতেন। চিনিকলের বর্জ্যে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। তারা এখন নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। নদীতে উজানের পানি না আসা পর্যন্ত এ দুর্গন্ধ কাটবে না।

পৌর সদরের পশ্চিম হাস্তাবসন্তপুর মহল্লার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন, তুলসীগঙ্গা নদীর সোনামুখী খেয়াঘাট থেকে হলহলিয়া রেলসেতু পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। নদীর পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

মত্স্যজীবী খয়বর আলী বলেন, জয়পুরহাট চিনিকলের দূষিত বর্জ্যে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মারা গেছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল মত্স্যজীবীরা আর নদীতে মাছ পাচ্ছে না। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান বলেন, নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এই পানি দিয়ে ক্ষেতের সেচ কাজ করলে ক্ষেতের ফসলও নষ্ট হয়ে যাবে। কৃষকদের নদীর পানি দিয়ে সেচ কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, চিনিকলের বর্জ্যে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, চিনিকলের বর্জ্য ও দূষিত পানি শোধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু দূষিত পানি চিনিকল থেকে বের হয়ে গেছে। তুলসীগঙ্গা নদীতে শুধু চিনিকলের পানি নয়। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষিত পানিও নদীতে যাচ্ছে। এ জন্য নদীর পানি দূষিত হতে পারে। চিনিকলে ইটিপি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৯
মাগরিব৫:৩৮
এশা৬:৫৪
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৩
পড়ুন