পুনর্ভবা নদীর তীরে ব্লক বসানোর কাজে বিএসএফ’র বাধা
সাপাহারে ছয় কোটি টাকার প্রকল্প অনিশ্চয়তার মুখে
নওগাঁ প্রতিনিধি২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
পুনর্ভবা নদীর তীরে ব্লক বসানোর কাজে বিএসএফ’র বাধা
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সীমান্তবর্তী পুনর্ভবা নদীর বাম তীর প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণে ব্লক বসানোর কাজে বিএসএফ বাধা দিয়েছে। এতে প্রায় ছয় কোটি টাকার প্রকল্প অনিশ্চয়তার মুখে পরায় ওই সীমান্তে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের চুক্তি মোতাবেক ব্লক নির্মাণ শেষে চলতি এপ্রিলের প্রথম তারিখে সীমান্তের পুনর্ভবা নদীর বাম তীর সংরক্ষণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্লক বসানোর কাজে তাদের ড্রেজার মেশিন নিয়ে গেলে ভারতের রাঙ্গামাটি বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসে তাতে বাধা প্রদান করেন। এ সময় ঠিকাদারের লোকজন তাকে চুক্তির কাগজপত্র দেখালেও তিনি ওপরের অর্ডার নেই বলে ব্লক বসানোর কাজ বন্ধ করে দেন।

জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের কলকাতায় ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে নওগাঁ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে দুই বছর মেয়াদে উপজেলাধীন সীমান্ত নদী পুনর্ভবার বাম তীর ৭২০ মি. এলাকা প্রতিরক্ষামূলক কাজের উদ্বোধন করেন। সে থেকে দিনাজপুরের এমপিটি-এমইএইচ (জেভী) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নদীর তীর এলাকায় ব্লক তৈরির কাজ আরম্ভ করেন। বর্তমানে ব্লক তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ১ এপ্রিল তারা নদীর তীর সংরক্ষণে বল্ক বসানোর জন্য ড্রেজার মেশিন নিয়ে নদী এলাকায় গেলে বিএসএফ সদস্যরা এসে তাতে বাধা দেয়। ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

পুনর্ভবা নদীর তীরবর্তী কাশেম উদ্দিন, আব্দুল হাসান, করিম শেখসহ অন্যরা জানান, নদীর তীরে ব্লক বসানো সম্পন্ন হলে তাদের বর্ষা মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। এ ছাড়াও এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত ওই সমস্যগুলো সমাধান করে ব্লক বসানোর দাবি জানান।

ঠিকাদারী সংস্থার পক্ষে মি. কনক বলেন, যে ড্রেজার মেশিন ও তার লোকজনদের বসিয়ে রাখায় তাদের এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া আর কয়েক মাস পরেই শুরু হবে বর্ষাকাল। বর্ষা এলে কোনোমতেই আর ব্লক বসানো যাবে না।

বিজিবি-১৪ (পত্নীতলা) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী রেজা জানান, বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার কিছুই নেই। সীমান্ত এলাকায় কাজ করতে গেলে অনেক নিয়মনীতি থাকে, তারই সূত্র ধরে বিএসএফ সদস্যরা হয়ত নিষেধ করেছে। এ বিষয়ে দু’দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে যেহেতু দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র রয়েছে সেহেতু অচিরেই ব্লক বসানো কাজের শুরু হবে।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন