ফুলবাড়িতে খানা জরিপ নিয়ে ‘কানামাছি’
প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই আগামীকাল রবিবার শেষ হচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ খানা জরিপ কার্যক্রম। এতে উপজেলার অনেক পরিবারেরই পুরোপুরি তথ্য ছাড়াই খানা জরিপ কার্যক্রমের কাজ শেষ হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন জরিপ কাজে নিয়োজিতরা।

 সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেইজের (এনএইচডি) আওতায় আনতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ চালিয়ে খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম গত ৪ এপ্রিল শুরু করা হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা না থাকায় বিশেষ করে ফুলবাড়ি পৌর এলাকাবাসীর কয়লাখনি নিয়ে শংকা-আশঙ্কা থাকায় প্রথম থেকেই জরিপ কাজে নিয়োজিতরা বেকায়দায় পড়েছেন। উপজেলার পুখুরিহাট, মেলাবাড়ি, হরগোবিন্দপুর, শিবনগর, পলীপাড়া, দৌলতপুর, আমড়া, রুদ্রানী, জয়পাইতলী, পলি শিবনগর, পাঠকপাড়া, শ্রীরামপুর এলাকার কোথাও কোন পোস্টার, বিলবোর্ড বা ব্যানার চোখে পড়েনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেইজের (এনএইচডি) আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয় গত ৪ এপ্রিল। উপজেলায় ওই তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন ৩০২ জন। এদের মধ্যে গণনাকারী ২৪৯ জন, সুপারভাইজার ৪৩ জন, আঞ্চলিক কর্মকর্তা ৯জন এবং সমন্বয়কারী একজন রয়েছেন। জরিপ কাজ শুরুর আগে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং সচেতনা সৃষ্টির জন্য মাইকিং, পোস্টারিং, বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণসহ ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও উপজেলার কোথাও এসব কিছুই করা হয়নি। তবে শুধামাত্র দুইটি ব্যানার লাগিয়েই প্রচার-প্রচারণার কাজ শেষ করেছেন প্রচার কাজে নিয়োজিত ডিডিসি নামের ঢাকার এক প্রতিষ্ঠান।

পৌর এলাকার চকচকা কলাবাগান গ্রামের গৃহবধূ শিরিন আক্তার, গড় ইসলামপুর গ্রামের পল্লী চিকিত্সক মোকলেছার রহমান ও বাসুদেবপুর গ্রামের অরুণ কুমার সাহা বলেন, আগে আদম শুমারী হলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হতো। বড় বড় পোস্টার লাগিয়ে গ্রামের মানুষকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানোর মাধ্যমে সচেতন করা হতো। কিন্তু এবার খানা জরিপ করা হচ্ছে কী কারণে জরিপ হচ্ছে, বিষয়টি মানুষের মধ্যে পরিস্কার ধারনা না থাকায় অনেকেই সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। বিশেষ করে খনি এলাকার মানুষের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে। কারণ খনি নিয়ে আতঙ্কের কারণে মানুষ সঠিক তথ্য দিচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গণনাকারী ও সুপারভাইজার বলেন, প্রচার প্রচারণা না থাকায় জরিপ কাজে নানামুখি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মানুষ সহজে তথ্য দিতে চাচ্ছেন না। তাদের ভাষ্য, আগে থেকে তারা কিছুই জানেন না। হঠাত্ করে কেন তথ্য দিবেন। এতে এমন এক একটি পরিবারের লোকজনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তথ্য নিতে সময় লেগে যাচ্ছে দুই থেকে চারদিন। অথচ একটি পরিবারের খানা জরিপের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০ মিনিট। এরপরও পুরোপুরি তথ্য নিতে পেরেছেন কি না তা নিয়ে খোঁদ তাদেরই সন্দেহ-সংশয় রয়েছে।

গণনা কাজের সমন্বয়কারী গোলাম ফারুক বলেন, ১ থেকে ৩ এপ্রিল গনণাকারী ও সুপারভাইজারদেরকে তিনদিন প্রশিক্ষণ দিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে খানা জরিপ কাজ শুরু করা হয় এবং শেষ হবে ২৩ এপ্রিল। প্রচার কাজ করার কথা ঢাকা ডিডিসি নামের সংস্থার। স্থানীয়ভাবে প্রচার প্রচারণার জন্য মাইকিং করা হয়েছে দুইদিন। তবে ওই সংস্থাটি ঢাকা মোড় ও উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে পৃথক দুইটি ব্যানার টাঙিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন