ফুলবাড়ীতে দ্বিতীয় ধরলা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে
ফুলবাড়ীতে দ্বিতীয় ধরলা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে
সরকারের মন্ত্রীসহ অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেতুটির নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসেছেন। এ বছরই সেতুটি চালু করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি —কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাটে ধরলা নদীর উপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যেই মূল সেতুর ৮০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে যাতে কাজ বন্ধ না হয় সে জন্য স্থাপন করা হয়েছে উপর থেকে কাজ করার ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্রেন। এ বছরের শেষের দিকে যেকোনো দিন সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এলজিইডি’র বাস্তবায়নে সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালে সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয়। নদী শাসন, এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা।  সেতুরটির ১৯টি স্প্যান ১০০০ হতে ১২০০ মি.মি. ব্যাসের ২৪০টি পাইল, ১৭৫০ মিটার তীর সংরক্ষণ আবরণ, ৩৬৩০ মিটার প্রটেকশন এ্যাপ্রোচ রাস্তার নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এই সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লক্ষাধিক জনগণ উপকৃত হবেন।

 বিশেষ করে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার লোকজন উপকৃত হবেন সবচেয়ে বেশি। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। ভুরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহনেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়াও সেতুটি চালু হলে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যসহ অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। অন্যদিকে সেতুটি কুড়িগ্রাম ও লালমনিহাট জেলার কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

ফুলবাড়ী বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইলিয়াছ আলী, ঔষধ ব্যবসায়ী অবিনাশ চন্দ্র, কৃষক বেলাল হোসেন, ছাত্তার মিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল কাদের জানান, এই সেতু চালু হলে এখানকার কৃষকরা সহজেই তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্য কম খরচে বাজারজাত করতে পারবে। এই উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করবে। নদী পারাপারের দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবে এলাকার মানুষ। তাই সেতুটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে ফুলবাড়ীর মানুষ।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন জানান, সরকারের মন্ত্রীসহ অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেতুটির নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসেছেন। তাই এ বছরই সেতুটি চালু করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন