জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাব ভবনের বিমে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি২১ জুন, ২০১৭ ইং
জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাব ভবনের বিমে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা
সংস্কার কাজের জন্য বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

বরাদ্দ পাওয়া যায়নি

— লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক রাজা চৌধুরী

জয়পুরহাট জেলার ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরী ও ক্লাব জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে সমাজকে আলোকিত করার বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে ভবনের পলেস্তারা খসে পড়া, বিমে ফাটল, আসবাবপত্রের স্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠকরা যাতায়াত করছেন।

জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দান সংলগ্ন ৮ শতাংশ জমির উপর ১৯৪৭ সালে জেলার এ ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি ও ক্লাব ভবনটি স্থাপন করা হয়। প্রথমে মাটির ঘরে টিনের ছাউনি দেওয়া হলেও ১৯৭৮-৭৯ সালে রাজশাহী উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় একতলা বিশিষ্ট লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ করা হয়। ৪১টি আলমারি, ৭টি টেবিল রয়েছে যার মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা নড়বড়ে। এরপর দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় বিম ও দেয়ালে ফাটল ধরার পাশাপাশি পলেস্তারা খুলে পড়ছে। এতে পাঠকদের জন্য বসানো চেয়ার টেবিল সরিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক পাঠক লাইব্রেরিতে যাতায়াত করে।

এখানে ১০টি জাতীয় পত্রিকাসহ মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক পত্রিকার সঙ্গে রয়েছে ১৩ হাজার বই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য এখানে পত্রিকা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। দেয়ালে লাগানো আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বিভিন্ন মনীষীদের বাঁধাই করা বাণী সম্বলিত ছবি। ঐতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরিতে বই পড়া, তথ্য সংগ্রহ করে চাকরি পাওয়াসহ নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন অনেকেই।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত বিশেষ ভূমিকা পালন করে এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের বর্তমানে আজীবন ও বাত্সরিক মিলে চার শতাধিক সদস্য রয়েছেন। আজীবন সদস্য উত্পল কুমার মণ্ডল, বাবুলাল রায় ও দীলিপ সেন বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে এটি ঐতিহাসিক পাঠাগারের সংস্কার করা জরুরি।

জয়পুরহাট লাইব্রেরি ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজা চৌধুরী বলেন, ‘সংস্কার কাজের জন্য বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্যের সুপারিশসহ একটি আবেদন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট প্রদান করা হয়েছে। লাইব্রেরির বর্তমানে যে অবস্থা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠকরা পড়াশুনা করছেন।’

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন