বদরগঞ্জে ৩৬ চালকল মালিক চুক্তি করেনি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা
২১ জুন, ২০১৭ ইং
g বাজার অনুযায়ী গুদামে চাল দিলে মিলারদের কেজিপ্রতি লোকসান হবে কমপক্ষে আট টাকা। এ কারণে চুক্তিতে আবদ্ধ হইনি —চালকল মালিক

g এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে —উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা

g মাত্র ১৬টি চালকল সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার চুক্তি করেছে —উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক

g বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

রংপুরের বদরগঞ্জে খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মেট্রিক টন চাল গুদামে ক্রয় করা হয়েছে। বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মিল-মালিক এবার সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেননি বলে জানা গেছে। যারা চুক্তি করেছেন তারাও সরকারকে চাল দিচ্ছেন না। উপজেলা চাল সংগ্রহ কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মকবুল হোসেন বলেন,‘এখনো সময় আছে যারা চুক্তি করেছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুদামে চাল দিবেন বলে আশা করছি।’ 

জানা গেছে, বদরগঞ্জের স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি মোটা চাল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। আর সরকার সেই চাল কিনছেন প্রতিকেজি ৩৪ টাকায়। বাজারের চেয়ে কেজিপ্রতি ছয়-আট টাকা সরকার কম কেনায় মিল-মালিকরা পিছুটান দিয়েছেন। এ কারণে নিশ্চিত লোকসানের ভয়ে উপজেলার ৩৬ চালকল মালিক এবারে সরকারের সঙ্গে চাল দেওয়ার চুক্তি করেননি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন চাল কেনার বরাদ্দ মিলেছে। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল একহাজার ৬৪৯ টন এবং আতপ চাল ৩৩ মেট্রিক টন। উপজেলায় চুক্তিবদ্ধ চালকল রয়েছে ৪৮টি। গত ১ মে থেকে চালকল মালিকদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি শুরু হয়। কিন্তু গত ৩১ মে চুক্তির শেষ দিন পর্যন্ত খাদ্যগুদামে চাল দেওয়ার চুক্তি করেছেন মাত্র ১৬টি চালকল।  চুক্তি মোতবেক এসকল চালকল মালিক চাল দিবেন ৪৬০ মেট্রিক টন ১৪০ কেজি সিদ্ধচাল। 

বদরগঞ্জ পৌরশহরের চালের বাজার গত একসপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, প্রতিকেজি মোটা চাল খুচরা সর্বনিম্ন ৪০-৪২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তিনজন ব্যবসায়ী জানান, চালের বাজারদরে আপাতত কোনো পরিবর্তন নেই। তবে দাম আরো বাড়তে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালকল মালিক বলেন, ‘সরকার মিলারের কাছ থেকে চাল কিনবে প্রতিকেজি ৩৪ টাকায়। এখন বাজারে মোটা চালের কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন দাম ৪২ টাকা। তাহলে মিলাররা চাল পাবে কোথায়? লাভ না করলেও বর্তমান বাজার অনুযায়ী গুদামে চাল দিলে মিলারদের কেজিপ্রতি চালে লোকসান হবে কমপক্ষে আট টাকা। এ কারণে আমি সরকারের সঙ্গে চাল দেওয়ার চুক্তিতে এবার আবদ্ধ হইনি।’ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি)  জাহিদ পারভেজ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, ‘বদরগঞ্জে তালিকাভুক্ত চালকলের সংখ্যা ৫২টি। এর মধ্যে গত মৌসুমে ৪৮টি চালকলের মালিক খাদ্যগুদামে চাল দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। এবার বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় মাত্র ১৬টি চালকল সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার চুক্তি করেছে। ৩২ চালকল চুক্তি করেননি। আগামী ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের চাল ক্রয় করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে সকল চালকল মালিক সরকারের সঙ্গে চাল দেওয়ার চুক্তি করেনি সরকার চাইলে তাদের আগামীতে সুযোগ সুবিধা দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখতে পারে।’

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন