উত্তরা গণভবনে শতবর্ষী গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন
১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
উত্তরা গণভবনে শতবর্ষী গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন

g নাটোর প্রতিনিধি

জেলায় উত্তরা গণভবনের ভেতরের মরা গাছের নামে লাখ লাখ টাকার শতবর্ষী গাছ কাটা ও এ নিয়ে অনিয়মের প্রতিবাদে নাটোরে মানববন্ধন করেছে একাত্তর পরিষদ নামে স্থানীয় একটি সংগঠন।

বুধবার দুপুরে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে শতবর্ষী ৩টি গাছ মাত্র ১৮ হাজার ৪শ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে অথচ ঠিকাদার ফয়সাল সোহেল টেন্ডারের বাইরেও অতিরিক্ত ১২-১৬টি গাছ কেটেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দসহ এর সঙ্গে জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করেন তারা। এ সময় বক্তব্য রাখেন ঔপন্যাসিক ডা. জাকির তালুকদার, লেখক খালিদ বিন জালাল বাচ্চু, পরিবেশবাদী আলী আকমল বাপ্পী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নাটোরের উত্তরা গণভবনের ভেতরের মরা গাছের নামে লাখ লাখ টাকার শতবর্ষী তাজা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠায় তোলপাড় শুরু হয়েছে বিভিন্ন দপ্তরে। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কর্মকর্তার দেওয়া মূল্য তালিকা অনুসারে কয়েক লাখ টাকার গাছ মাত্র ১৮ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব তাজা গাছ কেটে নেওয়ার দৃশ্য গণভবনের নিরাপত্তায় থাকা ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিরজ্জামান ভূঞাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আলম, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম ভূঁইয়া ও এনডিসি অনিন্দ মন্ডল। এর আগে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ও গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একে এম জিল্লুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। পরে দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের উপস্থিতিতে গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাজা ও নিলামের অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলার সত্যতা প্রকাশ হওয়ায় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বন কর্মকর্তাকে ভর্ত্সনা করেন।

জেলা কালেক্টরেট অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তরা গণভবনের চারপাশের লেকের ধারে শত বছরের অন্তত ৩০০ আমগাছ রয়েছে। এছাড়া মেহগনি, নারিকেল, কাঠবাদামসহ আরো পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে। সম্প্রতি ঝড়ে এবং মরে যাওয়া দুইটি আম, একটি মেহগনিসহ বেশ কিছু গাছের ডালপালার ইজারা আহ্বান করে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ। বনবিভাগের কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহর দেওয়া মূল্য নির্ধারণ অনুসারে মাত্র ১৮ হাজার ৪০০ টাকার টেন্ডারের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ টাকার অন্তত ১২ থেকে ১৬টি তাজা গাছ কেটে গণপূর্ত বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় সরিয়ে ফেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। বন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ জানান, তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মরা-পচা ও ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন মাত্র।

গণভবনের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের কর্মচারী সুজন পাল জানান, গণপূর্ত বিভাগ শুধু উত্তরা গণভবনের ভবনগুলোর দায়িত্বে থাকলেও তারা অন্যায়ভাবে গাছগুলো লিজ দিয়েছে। নিলামে কেনা ঠিকাদার শতবর্ষী তাজা সব গাছ কেটে নিয়ে গেছে। অন্তত ১৫টি তাজা গাছ কাটা হয়েছে। ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল জানান, তিনি কোনো অনিয়ম বা গোপনে কাঠ সরিয়ে ফেলেননি। নিয়ম অনুযায়ী গাছ কেটেছেন। সভায় উপস্থিত রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম জিল্লুর রহমান জানান, নিলাম ডাকের চেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, এখন যেসব কাটা গুঁড়ি পড়ে রয়েছে তার আনুমানিক মূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হবে। তিনি কমিটির সদস্য হলেও নিলামের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এ ঘটনায় নাটোর গণপূর্ত বিভাগের ৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন। তারা হলেন গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, এসও কামরুজ্জামান, কেয়ারটেকার আবুল কাশেম ও আব্দুস সবুর তালুকদার। জেলা প্রশাসক জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

অভিযোগ ওঠার পর নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও মরা গাছ সঠিক নিয়মেই টেন্ডারের মাধ্যমেই কাটা হয়েছে। টেন্ডারের আগে উপজেলা পরিষদের কমিটি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটায় যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
পড়ুন