ইউডার চতুর্থ সমাবর্তন
আলোয় আলোকিত
১২ নভেম্বর, ২০১৪ ইং
আলোয় আলোকিত
গেটে ঢুকতেই দেখা মিলল হাজারো শিক্ষার্থীর এক মহামিলন। কালো গাউন আর মাথায় টুপি পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল সারি সারি শিক্ষার্থী। স্বপ্ন পূরণের এক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে তারা। এ দৃশ্য সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের।

সম্প্রতি হয়ে গেল ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) চতুর্থ সমাবর্তন। এ উপলক্ষে সকাল থেকে ইউডার বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জমে উঠতে থাকে বিআইসিসির প্রাঙ্গণ। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের অভিব্যক্তি।

জাতীয় পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম। প্রথমার্ধে আগত অতিথিদের বক্তব্য ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ-এর পক্ষ হতে সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সমাবর্তনে সনদ গ্রহণ করেন।

অসামান্য ফলাফলের জন্য ‘চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ পুরস্কারে ভূষিত হন বেশ কজন শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুজিব খান এবং ভাইস চ্যান্সেলর এমাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ডালিয়া নাহিদ খান, উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, রেজিস্ট্রার ইফফাত চৌধুরী, পরিচালক খাজা জিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সচিব মুনির আহমেদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফয়জুন্নাহার ও হায়দার ফারুক। 

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ফার্মাসী বিভাগের শিক্ষার্থী প্রভাতি রানী দাস সমাবর্তনের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে অ্যাওয়ার্ড হাতে নেয়া অন্যরকম এক অনুভূতি। ছাত্র জীবনে এক ধরনের ছিল, এখন অন্যরকম, ক্লাসের বন্ধুদের খুব মিস করবো। মিডিয়া স্ট্যাডিজের চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ছাত্র এইচ এম মর্তুজা বলেন, আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সমাবর্তন বক্তা আজাদ স্যারের বক্তব্য আমাকে উত্সাহিত করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর হৈচৈ করা হবে না- খারাপ লাগবে।

ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মুজিব খান জানালেন, বিকল্প ধারায় অগ্রগতির লক্ষ্যে পরিপূর্ণ শিক্ষা কর্মসূচি, আমাদের প্রধান লক্ষ্য— আগামী প্রজন্মকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সামাজিক, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে জ্ঞানী-গুণী মানুষ গড়ে তোলাই উদ্দেশ্য। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নেই এভাবে প্রণোদিত হয়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করেছি। গরিব, দুস্থ এবং সমাজের অবহেলিত ছেলে-মেয়েদের জন্য ‘সমতা’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে যেখানে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনা বেতনে পড়ানো হয়। বই-পুস্তক, ইউনিফরম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়ে থাকেন। স্কুল, কলেজ ছাড়িয়ে সেই ‘সমতা’ বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায় এগিয়ে এসেছে এমনটাই জানালেন ইউডার প্রতিষ্ঠাতা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার ৫৫৬ ছাত্র-ছাত্রীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হয়। এছাড়া ভাল ফলাফলের জন্য চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট পদক প্রদান করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন